কাজে যোগ দিয়েছেন ওসমানীর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এক সপ্তাহের জন্য কর্মসূচি স্থগিত

Share

কাজে যোগ দিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি এক সপ্তাহের জন্য তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মতিউর রহমান জানান, আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে কাজেও যোগ দিয়েছেন তারা। একই সাথে ওসমানী মেডিকেল
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিওমেক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীরা। ওসমানী মেডিকেল কলেজের হল রুমে আয়োজিত বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি শিক্ষা ডা: এ এইচ এম এনায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ওসমানীর ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. আব্দুল মোন্তাকিম চৌধুরী বলেন, মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রশাসন দ্রুততম সময়ে কার্যক্রম ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে সাত দিনের মধ্যে সব আসামী গ্রেফতার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আবার আন্দোলনে নামবেন বলে তারা ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি শিক্ষা ডা: এ এইচ এম এনায়েত হোসেন জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট সবার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ওসমানী মেডিকেলের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানান, বুধবার মধ্যরাতে শাহপরান এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামী দিব্য সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর সোমবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মামলার আরও দুই আসামী সাঈদ হাসান রাব্বি ও এহসান আহমদকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী (ইন্টার্ন চিকিৎসক) ইমন আহমদের (২৪) সঙ্গে গত রোববার দুপুরে এক রোগীর দুই স্বজনের বাকবিতন্ডা হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এ সময় ওই দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির মীমাংসা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সোমবার রাত ৮টার দিকে ইমন আহমদ ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র নাথের (২২) উপর কলেজের পেছনে হামলা হয়। আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন সহপাঠীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাত ১০টার দিকে ধর্মঘটের ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা হাসপাতালের সব বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। এছাড়া কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এবং সিলেট আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। পরে রাত ১টার দিকে আন্দোলনরতদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মেডিকেল প্রশাসনের মামলা করাসহ পাঁচ দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে রাত ৩টার দিকে ধর্মঘট ও অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরতরা। তবে এসময় তারা হামলাকারীদের গ্রেফতারে মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বেলা দুইটায় আন্দোলনরতদের সঙ্গে কলেজ, হাসপাতাল, পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ফের বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকের দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং মঙ্গলবার সকালেই মেডিকেল কলেজে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে হামলাকারী কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় বৈঠক শেষে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে বিকেলে তারা কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তবে শুধু ইমার্জেন্সি ও হৃদরোগ বিভাগে সেবা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের শ্লীলতাহানির অভিযোগে ৮ জনকে আসামী করে মঙ্গলবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওসমানী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হানিফ এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিএ-টু প্রিন্সিপাল ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহমুদুল রশিদ বাদী হয়ে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলার আসামীরা হলেন- দিব্য, আব্দুল্লাহ, এহসান, মামুন, সাজন, সুজন, সামি ও সাঈদ হাসান রাব্বি। আসামিদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে এ এখন পর্যন্ত তিন আসামী গ্রেফতার হয়েছে।

Leave A Reply