জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত :৩৬ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা, যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি

Share

বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় ৩৬ লাখ নেতাকর্মীর মাথায় ঝুলছে লক্ষাধিক মামলার খড়গ। এরই মধ্যে চলছে যুগপৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং শিগগিরই তা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হবে। বিএনপির দাবি, ২০০৯ থেকে চলতি বছরের ১৭ মে পর্যন্ত প্রায় ৩৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ ৬০৯টি মামলা হয়েছে। এ সময়ে অন্তত এক হাজার ৫২৯ জনকে হত্যা এবং কমপক্ষে এক হাজার ২০৪ জনকে গুম করা হয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা ১১ হাজার ৩২৬ জনকে গুরুতর জখম ও আহত করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তা দিতে কাজ করছে দলটির একাধিক আইনজীবী।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, চেয়ারপারসন থেকে তৃণমূল, এমন কোনো নেতাকর্মী নাই, যার বিরুদ্ধে এ সরকার মামলা দেয়নি। এতো মামলা সামলানো চ্যালেঞ্জিং তো বটেই। রাজনৈতিক মামলা আইনগতভাবে মোকাবেলা খুবই কঠিন।
সূত্র মতে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পাঁচ শতাধিক মামলার রয়েছে দলটির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে। তিন শতাধিক মামলা আছে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাবেক ছাত্রদল নেতা ইসহাক সরকার বিরুদ্ধে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী ও যুবদল নেতা এসএম জাহাঙ্গীর মামলার সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে ৩৬টি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৪টি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে  ৯১টি, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ১১টি, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে ৪টি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে ৬টি, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৫৪টি, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৫৯টি, নজরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ৩টি, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৩টি, সেলিমা রহমানের বিরুদ্ধে ৪৪ টি, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে ৯টি এবং ভারতের শিলংয়ে অবস্থানরত সালাউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলুর বিরুদ্ধে ১৩৬টি, উপদেষ্টা পরিষদের আমানউল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ৯১টি, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে শতাধিক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ১৩০ এবং চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে  ১০১ টি  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আরো যদি মামলা দিতে চায় দেবে।  গ্রেপ্তার করেলে করবে, তবু আন্দোলন থেমে থাকবে না। আমরা এতটা বেশি মামলা আক্রান্ত যে, এখন তা সহ্য হয়ে গেছে।

যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, রাজনৈতিকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বিএনপি নেতা কর্মীদের আদালতে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন ৫-৮টি মামলার হাজিরা দিতে হয় আমাকে। আমার পক্ষে এতগুলো মামলার হাজিরা প্রতিদিন দেওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।

যুবদলের নেতা সাইফুল আলম নীরব বলেন, কম বেশি প্রতিদিনেই একাধিক মামলার হাজিরা দেই। সরকার যতোই চেষ্টা করুক আন্দোলন ধমানো যাবে না। সম্পদনা: মাজহারুল ইসলাম

Leave A Reply