হাসিমুখে বাজারে যাওয়া জনগণ কান্না করে বাসায় ফেরে: গণফোরাম

Share

গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, হাসিমুখে বাজারে যাওয়া জনগণ কান্না করে বাসায় ফিরে আসে। এই দায়ভার কোনোভাবেই রাতের ভোটের সরকার এড়াতে পারবে না। বাজার ব্যবস্থা জনগণকে জিম্মি করে অসহায় করে রেখেছে।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের চরম ব্যর্থতা, গণতন্ত্রহীন ও সর্বগ্রাসী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টি ঢাকা মহানগরের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তৃতায় গণফোরাম সভাপতি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- যদিও আপনি অন্ধকার রাতের প্রধানমন্ত্রী, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তবুও বলছি গণভবনেই থাকেন, কখনোই বাজারে যান না। বাজারের খোঁজ-খবর নেন। জনগণ দুর্ভোগ ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায়।

তিনি বলেন, আপনার মন্ত্রীরা জনগণের কথা শোনে না। শোনে লুটেরা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কথা। মাটির পদধ্বনি শুনতে হবে, বুঝতে হবে। যারা মা ও মাটি বোঝে না, তাদের পতন অনিবার্য। আপনার হাতের টাকা সব শেষ। চোর বাটপারদের মাঝে টাকা আর ভাগ করে দিতে পারবেন না। এমনকি আগামীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারবেন কি না তা নিয়েও জনগণ সন্দিহান! বাংলাদেশ ব্যাংকসহ প্রায় সব ব্যাংকই লুটপাটের শিকার হয়েছে। একটা চোরও তো ধরলেন না! তাহলে চোর সব আপনাদের ভিতরেই আছে।

বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টির চেয়ারম্যান মো. বাবুল সরদার চাখারী বলেন, জনগণ আপনাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আপনারা কোনভাবেই জনবান্ধব সরকার নয়। আপনাদের অপকর্মে বঙ্গবন্ধু ছোট হচ্ছে।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিগত ১৪ বছরে আপনি ক্ষমতায় থেকে ১৪ হাজার অপরাধ করেছেন। এই অপরাধের জন্য জনগণ আপনাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়া করাবে। সারা বাংলায় আওয়াজ উঠেছে এই সরকার আর না, হাসিনা সরকার আর না।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে হাইকোর্ট মোড় ঘুরে পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এ.কে.এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ছাত্র সম্পাদক মো. সানজিদ রহমান শুভ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ পিপলস্ পাটির মহাসচিব আব্দুল কাদের, কো-চেয়ারম্যান পারভীন নাসির খান ভাসানী, রফিকুল ইসলাম রন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মিসেস নাজমা আক্তার, রানী শেখ, গোলাম মোস্তফা, দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল হাবিব।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টি ঢাকা মহানগরের সভাপতি জনাব আতিকুর রহমান ও সঞ্চালনা করেন গণফোরাম ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রওশন ইয়াজদানী।

Leave A Reply