মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পিছিয়েছে

Share

‘সরকারের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো তাগিদ নেই’

এবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পেছালো ।‌ বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের গণমাধ্যম সূচকটি প্রকাশ করে। চলতি বছর সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৩৬ দশমিক ৬৩। এর আগের বছর বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ৫০ দশমিক ২৯।  এ বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬২তম। ২০২১ সালে এই র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫২তম।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে তার ভিত্তিতে ২০০২ সাল থেকে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এই সূচক প্রকাশ করে আসছে৷ ২০১৩ সালে যখন বাংলাদেশ প্রথম এই সূচকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তখন ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৪তম। আর ২০১৯ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম হলেও ২০২০ সালে তা এক ধাপ নেমে হয়েছিল ১৫১তম।

২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের প্রতিবেদনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ‘ভাল’ ‘সন্তোষজনক’ ‘সমস্যামূলক’ ও ‘কঠিন’ এইসব বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে থাকলেও বাংলাদেশে রয়েছে ‘খুবই গুরুতর’ পরিস্থিতির দেশগুলির মধ্যে । এবারের তালিকায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে আর সবার নিচে অবস্থান করছে উত্তর কোরিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক ও সুইডেন।‌ তালিকায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান ২৪ তম আর আমেরিকা রয়েছে ৪২ তম‌।‌  সূচকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান ১৫০তম। গত বছরের তুলনায় তারা আট ধাপ পিছিয়েছে। ‌এ ছাড়া সূচকে রাশিয়ার অবস্থান ১৫৫ তম‌ হলেও যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনের অবস্থান  ১০৬ তম।  রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টোফি  ডিলোয়রি বলেছেন,  পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বৈরাচারী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের গণমাধ্যম থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে তাদের তথ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।

তার ফলে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় যা বিশ্বকে যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটি গণতন্ত্রের জন্য  অশনি সংকেত। ‌

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক  বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও  রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল মানবজমিনকে বলেন, মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ ধাপ  পেছানোতে আমি মোটেও বিস্মিত নই, এটাই হওয়ারই কথা। আমরা যেভাবে বাকস্বাধীনতার উপর একের পর এক হামলা দেখি, নতুন নতুন আইন দেখি, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করতে দেখি, বিজ্ঞাপন নীতিকে ব্যবহার করতে দেখি, সরকারের  মন্ত্রী, নেতাদের কথা বলতে দেখি – শুধু ১০ ধাপ কেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও পেছালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।  তিনি আরও বলেন, দুঃখের ব্যাপার হলো সরকার এই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি না নিয়ে এটাকে বিরোধীদলের অপপ্রচার বা গুরুত্বহীন বিষয় বলে দেখানোর চেষ্টা করে। সরকারের মধ্যে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো তাগিদ দেখি না। ‌

 

Leave A Reply