রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে ইইউতে বিভক্তি অনলাইন ডেস্ক

Share

রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের উপর জার্মানিসহ অনেক দেশই অনেকটাই নির্ভরশীল। কিন্তু ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

জার্মানি বলছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দিকে যেতে পারবে। আর রাশিয়ার তেল-গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে হাঙ্গেরি।মস্কো ইতোমধ্যে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে। ইইউর দেশগুলোর মনোভাব হলো, রাশিয়ার এ ব্ল্যাকমেল তারা মেনে নেবে না। তবে সবচেয়ে বড় নীতিপরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। তারা জানিয়ে দিয়েছে, যদি অবিলম্বে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে তারা আর বিরোধিতা করবে না।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কীভাবে রাশিয়ার জ্বালানি (তেল-গ্যাস) সরবরাহ বন্ধ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক হয়।

ইইউর ২৭টি দেশ কমবেশি রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও কয়লার উপর নির্ভরশীল। ইইউ তাদের চাহিদার ২৬ শতাংশ তেল ও ৪০ শতাংশ গ্যাস রাশিয়া থেকে আমদানি করে।

ইউক্রেন অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরে ইইউর সমালোচনায় মুখর। তারা জানিয়েছে, রাশিয়া যখন হামলা করেছে, তখন ইইউ প্রতিদিন রাশিয়া থেকে কয়লা, তেল, গ্যাস কিনছে এবং তাদের বেশ কয়েক কোটি ইউরো দিচ্ছে। এটা ঠিক নয়।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রসঙ্গে জার্মানির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক বলেন, ইতোমধ্যে জার্মানি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৩৫ থেকে ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। তার দেশ বিকল্প সরবরাহকারীদের সন্ধানে কাজ করছে।

ইইউর বেশ কিছু দেশ মনে করে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। তাহলে রশিয়া বড় ধাক্কা খাবে। কিন্তু অনেক দেশ এটাও মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত নিলে তার বড় প্রভাব ইইউ-র উপরও এসে পড়বে। ইইউ-কেও সেই ধাক্কা সামলাতে হবে।

তবে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক খুবই ভালো। তারা জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার উপর তেল-গ্যাস-কয়লা নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা তারা মানবে না।

ক্রেমলিন গত সপ্তাহে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়াতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যে সব দেশ বন্ধু নয়, তাদের রুবলে তেল ও গ্যাসের দাম দিতে হবে। তারা আর ইউরোতে দাম মেটাতে পারবে না। মস্কো জানিয়েছে, ডলার ও ইউরো দিতে হলে গাজপ্রোমের একটি ব্যাংকে দিতে হবে। সেখান থেকে তারা আরেকটি ব্যাংকে তা ট্রান্সফার করবে এবং তা রুবলে পরিবর্তিত করবে।

সূত্র: বিবিসি

Leave A Reply