জাতিসংঘ প্রধান বুরকিনা ফাসো, গিনি ও মালিতে দ্রুত বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন

Share

জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস রবিবার (১ মে) বুরকিনা ফাসো, গিনি ও মালির সামরিক জান্তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আহ্বান জানান এবং বিশ্বকে “জলবায়ু জরুরি অবস্থা” মোকাবিলায় তাদের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

ডাকারে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বক্তৃতায় তিনি বলেন যে, তারা “সাংবিধানিক আদেশে” দ্রুত প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনটি দেশের ডি ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

সাহেল অঞ্চলে একটি জিহাদি দলের উত্থানের বিরুদ্ধে লড়াইরত তিনটি দেশই সম্প্রতি সামরিক অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হয়েছে। মালিতে ২০২০ সালের অগাস্ট ও ২০২১ সালে মে মাসে, গিনিতে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বুরকিনা ফাসোতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে।

পশ্চিম আফ্রিকান দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট (ইসিওডব্লিউএএস বা ইকোয়াস নামেও পরিচিত) এই তিনটি দেশের সদস্যপদ স্থগিত করেছে৷ এই জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সল।

বেসামরিক শাসনে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার পর ইকোয়াস জানুয়ারিতে মালির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এই জোট গিনি ও বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে “যুক্তিসঙ্গত” সময়সীমার মধ্যে বেসামরিক শাসনে দ্রুত প্রত্যাবর্তনে ব্যর্থ হলে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে।

কিন্তু দুই দেশের সামরিক শাসকেরা ইকোয়াস কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমায় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেছেন।

বৈশ্বিক উষ্ণতার বিষয়ে গুতেরেস বলেন, “জলবায়ু জরুরি অবস্থা … নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়”।

তিনি বলেন, আফ্রিকান দেশগুলো প্রায়শই বিশ্ব উষ্ণায়নের “প্রথম শিকার” হয়, অথচ তারা এর জন্য “দায়ী নয়”।

উন্নত দেশগুলো দক্ষিণের দেশগুলোকে তাদের “নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং সবুজায়নের জন্য” অর্থায়নে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তিনি উল্লেখ করেছেন।

“সময় এসেছে পদক্ষেপ নেওয়ার। প্যারিসে নেওয়া সিদ্ধান্ত, বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সময় এসেছে”, তিনি ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির অধীনে প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে বলেন, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নামিয়ে আনা।

ডাকারে গুতেরেস জাতিসংঘের আঞ্চলিক কার্যক্রমের ভবিষ্যত সদর দপ্তরের স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং শিগগিরই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এবং পরীক্ষামূলক ম্যালেরিয়ারোধী ও যক্ষ্মা ভ্যাকসিন তৈরির জন্য একটি উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন করেন।

গুতেরেস আফ্রিকাতে ইউক্রেনের যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংঘাত “একটি ত্রিবিধ সংকটকে বাড়িয়ে তোলে: খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক সংকট”।

মহাদেশের দেশগুলোর সক্ষমতা তৈরি করার জন্য, গুতেরেস আবারও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে “জরুরি…ঋণ ত্রাণ ব্যবস্থা” স্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন … যাতে সরকারগুলো খেলাপি ঋণ এড়াতে পারে এবং তাদের জনগণের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারে”।

Leave A Reply