ডাটা প্রটেকশন আইন ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বিপজ্জনক- সাদ হাম্মাদি

Share

বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত ‘ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্ট, ২০২২’ দেশের মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় বিপজ্জনক বিল। এতে জনগণের ব্যক্তিগত অধিকার হুমকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, এ বিষয়ে সাদ হাম্মাদি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, প্রস্তাবিত ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্টের খসড়া জনগণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এটা একটা বিপজ্জনক বিল। এতে বাংলাদেশের জনগণের ব্যক্তিগত অধিকারকে হরণ করা হবে। এই বিলে অস্পষ্ট এবং অতি বিস্তৃত বিধান কর্তৃপক্ষকে সক্ষমতা এবং বৈধতা দেবে, যাতে তারা ফিজিক্যালি বা রিমোটলি ব্যক্তিগত ডিভাইসে অথবা এনক্রিপটেড যোগাযোগ করতে পারবে। এটা শুধু পর্যাপ্ত ন্যায্যতা ছাড়াই আইনশৃঙ্খলার অবনতির ভিত্তিতে একজন মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করে। সাদ হাম্মাদি বলেন, কর্তৃপক্ষ তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যক্তিবিশেষের যে ক্ষতি করবে তার জন্য তাদেরকে সিভিল, ক্রিমিনাল এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে এই বিলে। বিদ্যমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে এর আগে যেভাবে ভয়াবহ রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে সে কথাকে মাথায় রেখে, প্রস্তাবিত নতুন বিলটি সরকারের চতুর আরেকটি নতুন প্যাটার্নের সংযোজন। এর মধ্যদিয়ে সরকার জনগণের ডিজিটাল লাইফকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

নিপীড়নমূলক কর্মের অনুমোদন দেয় এমন আইনের অস্পষ্টতা থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরিবর্তে, প্রস্তাবিত বিলটি বাংলাদেশের সংবিধানকে লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কিছু বাধ্যবাধকতা আছে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল কোভ্যানেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস। এতে স্বাক্ষরকারী বাংলাদেশ। এইসব বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন এই বিল।

সাদ হাম্মাদি বলেন, জনগণের মালিকানা, তাদের অংশীদারিত্ব, স্বচ্ছতা, জনগণের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার অধিকার, আইনে তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা থেকে কর্তৃপক্ষ সহ কেউই দায়মুক্তি পেতে পারে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে মারাত্মকভাবে পদদলিত করার লক্ষ্যে আনা হয়েছে প্রস্তাবিত ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্ট, ২০২২। এক্ষেত্রে ফিজিক্যালি বা রিমোটলি উভয় উপায়ে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হাত বসানোর ক্ষেত্রে সমস্ত রকম দায়মুক্তি দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে এতে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সকল আইনের উপরে থাকবে এই আইন। ফলে বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর উপরে এর প্রভাব পড়বে। তথ্য অধিকার আইন হলো দেশের জনগণের বর্তমান অবস্থার তথ্য সুরক্ষিত রাখার একটি অবলম্বন। অস্পষ্ট এবং বিস্তৃত পটভূমিতে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সরকার এই অধিকার নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছে। ফলে যখন তারা যেটাকে নিজেদের উপযুক্ত দেখবে তখন সে নির্দেশনা দেবে।

Leave A Reply