সবিশেষ ‘গাছের তৈরি গাছ’ দিয়ে রানির জয়ন্তী উদযাপন

Share

জুন মাসে ব্রিটেনের সিংহাসনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৭০ বছর পূর্ণ হওয়া উদযাপিত হবে ঘটা করে। আর উদযাপনের একেবারে কেন্দ্রে থাকবে লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের বাইরে একটি চোখ-ধাঁধানো গাছ আকৃতির ভাস্কর্য।

হেদারউইক স্টুডিওর নকশা করা ৬৯ ফুট উঁচু ‘গাছের তৈরি গাছ’ হবে একটি দৈত্যাকার ইস্পাতের ফ্রেমের কাঠামো। তাতে বসানো হবে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের নিজস্ব ৩৫০টি গাছের সত্যিকারের নমুনা।

এর মাধ্যমে ‘কুইন্স গ্রিন ক্যানোপি’ (রানির সবুজ ছাতা) উদ্যোগকে ফুটিয়ে তোলা হবে। এ উদ্যোগের আওতায় ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে রানির জয়ন্তী উপলক্ষে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল ব্রিটিশ নাগরিকদের। ‘কুইন্স গ্রিন ক্যানোপি’র ওয়েবসাইট অনুসারে, এ পর্যন্ত এর আওতায় ১০ লাখেরও বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। স্থাপত্যকর্মটি তৈরি করছে যে হেদারউইক স্টুডিও, তার প্রতিষ্ঠাতা স্বনামখ্যাত ব্রিটিশ ডিজাইনার টমাস হেদারউইক। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘গাছের তৈরি গাছ’ এক দারুণ উদ্যোগ, যা বাস্তবায়িত হচ্ছে সারা দেশে অনুষ্ঠিত কর্মশালা ও নার্সারির যৌথ প্রয়াসে। এ উদ্যোগ আক্ষরিক অর্থেই যুক্তরাজ্যের ভূদৃশ্য অনেকটাই পাল্টে দিচ্ছে।

লন্ডনের নতুন রুটমাস্টার বাস থেকে শুরু করে ২০১২ সালের অলিম্পিক কলড্রন পর্যন্ত অনেক বিখ্যাত নকশা প্রকল্পের পেছনে রয়েছেন হেদারউইক। সব শেষ ভাস্কর্যটিতে তাঁর স্টুডিওর গাছভিত্তিক আগের কিছু কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

গত বছর চীনের সাংহাইয়ে হেদারউইক ও তাঁর দল এক হাজার গাছ তৈরি করে। সেখানে একটি শপিং মলের হাজারটি কাঠামোগত থামের ওপর প্লান্টারে এক হাজার গাছ বসিয়েছেন হেদারউইক

খ্যাতনামা এই স্থপতি বিশ্বের শহরগুলোকে ‘ঊর্ধ্বমুখী বর্ণে’ রূপান্তর করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে হেদারউইক তৈরি করেছেন ম্যানহাটান নদীর তীরে ‘লিটল আইল্যান্ড’ নামে ছোট পার্ক। সেখানে আছে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব বৃক্ষ-লতার এক শর বেশি প্রজাতির নমুনা।

হেদারউইক স্টুডিওর তথ্য মতে, লন্ডনের ‘গাছের তৈরি গাছ’-এর সাড়ে তিন শ গাছ বসানো হবে রানির প্রতীক খোদাই করা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে। সেই পাত্রগুলোই যুক্ত করা হবে দৈত্যাকার ইস্পাতের কাঠামোটিতে। অক্টোবরে জয়ন্তী উৎসবের পর গাছগুলো কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনগুলোতে বিতরণ করা হবে।

রানির জয়ন্তী উৎসব ‘প্লাটিনাম জুবিলি উইকএন্ড’ উদযাপিত হবে ২ থেকে ৫ জুন। এ সময় যুক্তরাজ্য এবং এর বিদেশে শাসিত অঞ্চলজুড়ে প্রদর্শনী ও এক হাজার পাঁচ শর বেশি জায়গায় হবে আলোকসজ্জা। সূত্র : সিএনএন

Leave A Reply