Hijab Ban Row: ‌হিজাব পরে আসাই অপরাধ!‌ বোর্ডের পরীক্ষা দিতে পারলেন না দুই ছাত্রী

Share

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ হিজাব বিতর্কে নয়া মোড়।

শুক্রবার কর্নাটকে বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার আগেই অবশ্য রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বি সি নাগেশ জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও পরীক্ষার্থী হিজাব পরে এলে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

পড়ুয়াদের পোশাকবিধি মেনেই পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হবে। বহু মুসলিম পড়ুয়া হিজাব পরে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। তা সত্ত্বেও আলিয়া আসাদি এবং রেশম নামের দুই ছাত্রী হিজাব পরেই পরীক্ষা দিতে যান। এটা ঘটনা, এই দু’ জনই হিজাবপন্থী আন্দোলনের প্রথম সারির মুখ। কিন্তু এই দুই পড়ুয়াকে পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরীক্ষাকেন্দ্রের পর্যবেক্ষকরা সাফ জানিয়ে দেন, পোশাকবিধি না মানলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া যাবে না। প্রায় ৪০–৪৫ মিনিট ওই দুই পরীক্ষার্থী কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষাকেন্দ্র ছেড়ে ফিরে যান তাঁরা। এটা স্পষ্ট যে আলিয়া–রেশমদের করা মামলাই তাঁদের পরীক্ষা দেওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল।

কারণ ওই মামলার ভিত্তিতেই কর্নাটক হাইকোর্ট ১৫ মার্চ ঐতিহাসিক রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, ইসলাম ধর্মাচরণে হিজাব অপরিহার্য নয়। শিক্ষাঙ্গনে হিজাব নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে যে সমস্ত আবেদন জমা পড়েছিল, তাও খারিজ হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হলেও কোনও লাভ হয়নি। কর্নাটক সরকার গত ৫ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তারপর থেকেই সে রাজ্যে হিজাব ইস্যুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে উদুপি জেলায়। লাগাতার প্রতিবাদের জেরে বেশ কয়েকদিন স্কুল–কলেজ বন্ধও রাখতে হয় কর্ণাটক সরকারকে।

সরকারের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন কয়েকজন মুসলিম পড়ুয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করা যাবে না, এই মর্মে একাধিক মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলাকারীদের মধ্যে অন্যতম আলিয়া আসাদি এবং রেশম। এবার তাঁরা নিজেরাই পরীক্ষা দিতে পারলেন না।

Leave A Reply