কেঁদে কেঁদে ওমান থেকে ফিরলেন বাবা, ফিরল না তিন কন্যা

Share

যে সাগরে হারিয়ে গেছে তিন মেয়ে সেই সাগরের তীরে বসে অনেকক্ষণ কাঁদলেন আলাউদ্দিন। ‘আমার আনিকা কৈ রে। আমার আদিবাকে এনে দে। আমার আলিফারে দেখি না কেন রে’- সাগর পারে বসেই তিন কন্যার নাম ধরে এমন বিলাপ করছিলেন আলাউদ্দিন।

তিনি জানেন তিন কন্যা তার এই ডাকে আর সাড়া দেবে না। তিনি জানেন আর কখনও দেখা হবে না তার পরীদের সঙ্গে। তবু ডাকছেন আলাউদ্দিন। তার ডাকার স্বর অশ্রু হয়ে ঝরছে দু চোখ বেয়ে।

শুক্রবার সকালে ওমান থেকে দেশে ফিরেছেন আলাউদ্দিন। স্পিডবোট দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিন কন্যা হারানোর শোক সইতে না পেরে আলাউদ্দিন দেশে ফিরলেন সাতদিনের মাথায়।

তাকে ওমানে বিদায় জানাতেই তিন কন্যাকে নিয়ে তার স্ত্রী পান্না বেগম সন্দ্বীপ থেকে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। কিন্তু বাবাকে বিদায় দিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি তিন কন্যার। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ ফেরার পথেই গত বুধবার স্পিডবোট দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় আলাউদ্দিন ও পান্না দম্পত্তির তিন মেয়ে আনিকা, আদিবা ও আলিফা।

বড় মেয়ে আনিকার মরদেহ পাওয়া গেছে বুধবার। শুক্রবার সকালে ছোট দুই জমজ মেয়ের মধ্যে আদিবার মরদেহ পেয়েছে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস। ওমান থেকে সন্দ্বীপ ফিরে সেই মেয়েকেই একটু আগে দাফন করলেন আলাউদ্দিন।

মেয়েদের স্মৃতিচারণ করে আলাউদ্দিন বলেন, আমাকে বিদায় জানাতেই চট্টগ্রাম গিয়েছিল পুরো পরিবার। কে জানত এটাই হবে মেয়েদের সঙ্গে আমার শেষ দেখা। ঘরের যে দিকে তাকাই মেয়েদের দেখি। কিন্তু দু চোখে কেন দেখি না তাদের।

এদিকে এখনও নিখোঁজ থাকা আলাউদ্দিনের আরেক মেয়ে আলিফা ও সমীরের ছেলে সৈকতের খুঁজে শুকবারও পুরোদিন অভিযান চালিয়েছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট খীশা বলেন, একটি মরদেহ সন্দ্বীপ থেকে অনেক দূরে উড়িরচরে পাওয়া গেছে। নিখোঁজ আছে এখনও দুই শিশু। অভিযান এখনও চলছে।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশির আহমেদ বলেন, দুইটি মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি আমরা। দুটো অপমৃত্যুর মামলাও হয়েছে।

এদিকে ঘাটের ইজারাদার ও স্পিডবোট চালকের গ্রেপ্তারের দাবিতে সন্দ্বীপের তরুণ সমাজ উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে সমাবেশ করেছে। এই সমাবেশ থেকে সমাজকর্মী মো. রুস্তম বলেন, এ ঘটনায় যারা দায়ী তাদের সবার শাস্তি চাই আমরা। নিরাপদ নৌরুট চাই। চাই নিহতদের যৌক্তিক ক্ষতিপূরণও।

এদিকে সন্দ্বীপের এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা শোকাহত পরিবারকে দেখতে বৃহস্পতিবার আলাউদ্দিনদের বাড়িতে যান। সমকালকে শুক্রবার সকালে তিনি বলেন, নিরাপদ নৌরুটের ব্যাপারে সজাগ আছি আমরা। শিগগির এটাকে নিরাপদ করতে পারব।

দায়ীদের শাস্তির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মামলা করতে বলেছি, তাহলে সবাইকে আইনের আওতায় আনা যাবে।

Leave A Reply