সিলেট নতুন জেলা হাসপাতাল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে

Share

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিলেট জেলা সদর হাসপাতাল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি করছে অবকাঠামোগত ৬৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত দুটি দপ্তর গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মধ্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে নির্মাণ অগ্রগতির তথ্য দিচ্ছে না গণপূর্ত বিভাগ।

প্রায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌহাট্টায় শহীদ শামছুদ্দিন হাসপাতালের পাশে আগের আবুসিনা ছাত্রাবাসের স্থানে সিলেট জেলা হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান সরকার। তবে আবুসিনা ছাত্রাবাস প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উল্লেখ করে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীরা। এতে কাজ শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের দৃঢ়তায় হাসপাতাল নির্মাণে অটল থাকে সরকার। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারি ৬ দশমিক ৯৮ একর জায়গার ওপর হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পায় পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সিলেট গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ভিত্তিসহ আটতলা ভবনের কংক্রিট স্ট্রাকচারের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন গাঁথুনি, প্লাস্টার ও ফিটিংসের কাজ চলছে। হাসপাতাল ভবনের বেজমেন্টে থাকবে কারপার্কিং, প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুমসহ প্রয়োজনীয় কক্ষ, দ্বিতীয় তলায় আউটডোর, রিপোর্ট ডেলিভারি ও কনসালটেন্স চেম্বার, তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক, চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইিউ, পঞ্চম তলায় থাকবে গাইনি বিভাগ, অবথালমোলজি, অর্থপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ১৯টি এবং সিসিইউ বেড নয়টি এবং ৪০টি কেবিন থাকবে। ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৯০০-১০০০ কেভি ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার বসানো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। জরুরি প্রয়োজনের জন্য থাকবে ৩০০ কেভি অটোডিজেল জেনারেটর। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার জন্য নির্মাণ করা হলেও এর শয্যা সংখ্যা ৩২৩টি হবে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

এদিকে হাসপাতাল নির্মাণ ও তদারকিতে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ সমন্বয় করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি জানান, হাসপাতালের অগ্রগতি বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি নিজ দায়িত্বে কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন যাতে হাসপাতালের নির্মাণকাজের বিষয়টি তারা দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন।

ডা. হিমাংশু লাল রায় আরো জানান, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে হাসপাতাল নির্মাণের স্থাপত্য নকশা, কর্মপরিকল্পনা, সেবা প্রদানের জন্য সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় কক্ষের সুবিন্যাশকরণ ইত্যাদি বিষয় স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলদের মধ্যে সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালক অথবা ওসমানী হাসপাতালে পরিচালকের কাছে কোনো কাগজপত্র দাখিল করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিপন কুমার রায় দাবি করেন, এ অভিযোগ সঠিক নয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর টেন্ডার শিডিউল, নকশাসহ কাগজপত্র সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগকে দেয়া হয়েছে। প্রতি তলায় ছাদ ঢালাইয়ের সময় তাদের জানানো হয়েছে এবং তারা এসেছিলেন। তিনি বলেন, সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগকে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল, যাতে দেয়াল, কক্ষ বা বিল্ডিংয়ের কোথাও সমস্যা বা প্রয়োজনীয়তা থাকলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু তারা কোনো লোক দেননি।

জায়গা, বিল্ডিং, টাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তারা শুধু কাজ করিয়ে দিচ্ছেন।

প্রকৌশলী রিপন কুমার রায় নির্ধারিত সময় আগামী জুনের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৬৫-৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভবন হস্তান্তর করা হবে।

Leave A Reply