হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া — সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন

Share

জাহিদ হোসেন বলেন, “বাস্তবতা হলো তিনি (খালেদা) অসুস্থ। তার বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়েছে। প্লিজ, আপনারা সবাই তার সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। তিনি নিজেই দেশবাসীকে তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন”।

সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাহিদ আক্ষেপ করে বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে কেউ কেউ মজা করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা কেবল তাদের বিষয়টি বোঝার ক্ষমতা দেন। যদি তিনি এখন অসুস্থ না হতেন, তাহলে কেন তার মেডিকেল চেকআপের প্রয়োজন হতো?”

তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি পায়ে হেঁটে আলিয়া মাদরাসা মাঠে যেতেন, তিনি এখন হুইলচেয়ারে আবদ্ধ রয়েছেন। তিনি কতটা ভালো আছেন যখন তাকে হুইলচেয়ারে করে যেতে হয়?”

জাহিদ হোসেন বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে কিছু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তার চিকিৎসার পরবর্তী পথ নির্ধারণ করবে”।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড মনে করছে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যেতে হবে। কিন্তু সরকার তাকে সেখানে যেতে দিচ্ছে না।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসা থেকে হাসপাতালে পৌঁছান এবং সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থান করেন বলে জানিয়েছেন তার মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন হাসপাতালে তার কিডনি, হার্ট ও লিভারের একাধিক পরীক্ষা করান। তারপর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে তার বাসায় ফিরে আসেন।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। টানা ৮১ দিন হাসপাতালে থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

তার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ায় তাকে অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে।

খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গত বছর ১১ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন জমা দেন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সরকার খালেদা জিয়াকে তার গুলশানের বাড়িতে থাকার এবং দেশ না ছাড়ার শর্তে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তার সাজা স্থগিত করে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাময়িকভাবে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়। এরপর গুলশানের ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি।

Leave A Reply