ইউক্রেনে মানবিক পরিস্থিতির প্রতিনিয়তই অবনতি হচ্ছে,বলছে জাতিসংঘ

Share

ইউক্রেনে অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি অধিবেশনে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরোস আধানম ঘেবরেয়সাস বলেন, “একটি দীর্ঘায়িত সংঘাত কারো স্বার্থেই কাজ করবে না এবং সবচেয়ে দূর্বলদের ভোগান্তিটাই দীর্ঘায়িত করবে মাত্র”। ইউক্রেন গত তিন সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার বিমানহামলা ও গোলাবর্ষণের শিকার হয়ে আসছে।

টেডরোস জানান যে, স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনার উপর ৪৩টি হামলার ঘটনা ডব্লিউএইচও যাচাই করেছে। হামলাগুলোতে এক ডজন মানুষ নিহত এবং আরও ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

হাসপাতালে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

টেডরোস জানান যে, ডব্লিউএইচও ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাথে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত দেশটিতে ১০০ মেট্রিক টন চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন যে, জাতিসংঘের যৌথ বহরের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় পাঠানোর জন্য ডব্লিউএইচও’র কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীগুলো প্রস্তুত রয়েছে তবে, এখনও পর্যন্ত সেগুলো পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “উদাহরণস্বরূপ, আজকেই সুমি’র উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের একটি বহর সেখানে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়, যেই বহরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সামগ্রী বহনকারী ডব্লিউএইচও’র একটি ট্রাকও ছিল”। রাশিয়ার উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্তের কাছে সুমি শহরটি অবস্থিত। সেখানে প্রচন্ড বোমা বর্ষণের কারণে অসামরিক লোকজনের জন্য সেই স্থানটি ত্যাগ করা কঠিন ও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের অবরুদ্ধ শহর মারিউপোল সম্পর্কে টেডরোস বলেন, “মারিউপোলের জন্য প্রস্তুত সামগ্রীগুলো মজুদকৃত এলাকায় পড়ে আছে এবং যেতে পারছে না”। তিনি আরও বলেন, “এইসব এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় প্রবেশাধিকার এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ”।

জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক প্রধান, রোজমেরি ডিকার্লো বলেন যে, তিন সপ্তাহের সংঘাতটিতে শত শত আবাসিক ভবন ছাড়াও বিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলো হয় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া আক্রমণটি আরম্ভ করার পর থেকে, জাতিসংঘ ৭২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার খবর যাচাই করে নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে ৫২ জন শিশুও রয়েছে। এছাড়াও আরও ১,০০০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে, জাতিসংঘ এও বলছে যে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে যে, সংঘাতটির ফলে ইউক্রেনের ৩১ লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রতিবেশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে পালিয়ে গিয়েছে এবং আরও ২০ লক্ষ মানুষ দেশটির অভ্যন্তরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Leave A Reply