ইউক্রেনে বাংলাদেশিরা কেমন আছেন?

Share

ইউক্রেনের খারকিভে পরিবার নিয়ে ৩০ বছর ধরে বসবাস করেন বাংলাদেশের ডা. খালেদা নাসরিন নীলিমা। বৃহস্পতিবার ভোরে যখন রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালায় তখন আক্রান্ত এলাকায় ছিলেন ডা. নীলিমা। তিনি তার সন্তানকে নিয়ে পশ্চিম ইউক্রেনের এক আত্মীয়ের বাসার উদ্দেশ্যে বের হন বৃহস্পতিবার সকালে। সকালে ট্রেন ধরার সময় রুশ হামলা শুরু হয়। তিনি ভয়েস অফ আমেরিকার এই সংবাদদাতাকে বলেন, “ট্রেন থেকে আমরা যুদ্ধ বিমান উড়তে দেখেছি। একেবারে কাছ থেকে। এখানে হামলা হয়েছে সেনা ছাউনি ও সামরিক বিমান ঘাঁটিতে।” নিজে খারকিভ শহর ছাড়লেও তার স্বামী সেখানে রয়ে গেছেন। জরুরি কাগজপত্র নিয়ে তিনিও পরে নিরাপদ স্থানে সরে পড়বেন।

ডা. নীলিমা বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে আধ ঘণ্টা সময় ধরে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এই সময়েই সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। খারকিভ শহর রাশিয়া সীমান্তের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে। এটি পূর্ব ইউক্রেনের একটি শহর।

ডা. নীলিমা ট্রেন ভ্রমণে থাকায় বার বার তার টেলিফোন লাইনটি কেটে যাচ্ছিল। তিনি উদ্বেগের কণ্ঠে বলেন, “ভয়ের মধ্যে আছি। খারকিভে যারা আছেন তারা নিরাপদে চলে যাচ্ছেন।”

রুশ বাহিনীর বিমান হামলার আট ঘণ্টা পর ভয়েস অফ আমেরিকার প্রতিনিধি কথা বলেন মাহবুবুল আলমের সঙ্গে। সেখানে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ১৯৮২ সাল থেকে সেখানে আছেন। তার কথা- “আমি ইউক্রেনেই থাকবো। তবে অনেকেই ছাড়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। কারণ এখানে একটি ঠিকানা রয়েছে। যে মুহূর্তে ইউক্রেন ছাড়বো তখনই অন্ধকারে পা দিতে হবে। মূল সমস্যা হলো ভিসা।”

“হাজার দেড়েক বাংলাদেশি আছেন ইউক্রেনে”

ইউক্রেনে ঠিক কতজন বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাসও নেই। পোল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস ইউক্রেনের কূটনৈতিক মিশন হিসাবে কাজ পরিচালনা করে।

বৃহস্পতিবার সকালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভয়েস অফ আমেরিকার প্রতিনিধির সাথে সরাসরি কথা বলেন পোল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন। তিনি এই সংবাদদাতাকে বলেন, “অনেকদিন যাবৎ আমরা জানার চেষ্টা করছি কতজন বাংলাদেশি ইউক্রেনে বসবাস করেন। কিন্তু কোনোমতেই সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না।” রাষ্ট্রদূত জানান, নানা সূত্রে তাদের কাছে যেসব খবরাখবর রয়েছে তাতে দেখা যায়, চার ক্যাটাগরির হাজার দেড়েক বাংলাদেশি দেশটিতে রয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন ব্যবসায়ী, ছাত্র, চাকরিজীবী ও শ্রমিক। রাষ্ট্রদূত জানান- “কে, কোথায় আছে তা জানার জন্য চেষ্টা করছি। তাদের মধ্যে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে সেটাতেও আমরা যোগাযোগ রাখছি সারাক্ষণ।” এ পর্যন্ত ৫০০ বাংলাদেশির সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন। তারা কেউই বের হয়ে আসতে পারেননি বা চাননি। “বাকিদের সম্পর্কে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।” তিনি বলেন, “ভোরবেলা যখন রুশ বাহিনী হামলা চালাতে শুরু করে তখনই একজন বাংলাদেশি ফোন করে জানান, ভয় আর আতঙ্কের কথা। তখন অবশ্য তিনি কাঁদছিলেন। পোল্যান্ডস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশিদের সতর্ক করা হয়। বলা হয়, পোল্যান্ড সরকার ১৫ দিনের জন্য শেনজেন ভিসা দিতে সম্মত হয়েছে। যারা ইউক্রেন ছাড়তে চান তারা এই সুযোগ নিতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশিরা এতে সাড়া দেননি। তাদের ভয় ১৫ দিনের ভিসা শেষ হয়ে গেলে তারা অবৈধ হয়ে যাবেন। এ কারণে খুব কম সংখ্যক বাংলাদেশি ইউক্রেন ছেড়েছেন।”

বাংলাদেশসহ বেশকিছু দেশের অনুরোধেই পোল্যান্ড সরকার ১৫ দিনের ভিসা দিতে সম্মত হয়। দেশটি জানিয়েছে, এরপর ভিসা ছাড়া কাউকে থাকতে দেয়া হবে না।

Leave A Reply