‘দয়া করে শান্তি স্থাপনের একটা সুযোগ দিন’,পুতিনের কাছে কাতর আর্জি:জাতিসংঘ মহাসচিব

Share

আজ ভোরেই ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর কথা ঘোষণা করে দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জানা গিয়েছে, সেই ঘোষণার মিনিট কয়েক আগেই তাঁকে অভিযান না চালানোর আর্জি জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। বুধবার গভীর রাতে ইউক্রেনের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ভাষণ দেন গুতেরাঁ। রুশ প্রেসিডেন্টকে আর্জি জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন, ইউক্রেনের ওপর হামলা থেকে আপনার সেনাকে দয়া করে বিরত করুন। শান্তি স্থাপনের একটা সুযোগ দিন। বহু মানুষের ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি জাতিসংঘে যে বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠক চলাকালীনই এই আর্জি জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আর্জি জানিয়েছিলেন, যাতে সঙ্কট আর না বাড়ে।

শান্তি বজায় রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। শুধু জাতিসংঘের মহাসচিব নন, বিশ্বের একের পর এক রাষ্ট্রনেতা একই আর্জি জানিয়েছিলেন পুতিনকে। সেই সব আর্জির পরও এ দিন ভোরে সবাইকে চমকে দিয়ে সামরিক অভিযানের কথা ঘোষণা করেছেন পুতিন।

আমি কখনই তাদের বিশ্বাস করিনি, নিশ্চিত যে গুরুতর কিছু ঘটবে না। মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ জানান , ”কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধ হতে পারে এমন আশংকার কথা শোনা যাচ্ছিলো। আগেও এধরণের গুজব শোনা গেছে। আমি প্রথমে এই খবরকে গুজব ভেবেই ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ বুজছি আমি ভুল ছিলাম। এই ভুল আর না হোক, আমি সেটাই চাই। এখন যুদ্ধ আসন্ন, আমার হৃদয়ের ভেতর থেকে শুধু একটি কথা বলার আছে: প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনার সৈন্যদের ইউক্রেন আক্রমণ করা থেকে বিরত করুন। শান্তির সুযোগ দিন।”

‘বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে চাই’

জাতিসংঘের প্রধানের এই আবেদন প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধ ঘোষণার আগে একটি টেলিভিশন ভাষণে তুলে ধরা হয়। যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন থেকে উদ্ভূত হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার এই পদক্ষেপ। তিনি অন্যান্য দেশকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে তারা যদি রাশিয়ান সামরিক অভিযানে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে তবে তার পরিনাম ভালো হবে না। আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড পিসবিল্ডিং অ্যাফেয়ার্স রোজমেরি ডিকার্লো কাউন্সিলকে বলেছেন যে ইউক্রেনে আসন্ন দিনগুলিতে ঠিক কী ঘটবে তা অনুমান করা যাচ্ছে না। তবে ইটা বলা যায়, অগ্রহণযোগ্য উচ্চ খরচ, মানুষের দুর্ভোগ এবং ধ্বংসের সাক্ষী হতে চলেছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের জনগণ শান্তি চায়। আমি নিশ্চিত রাশিয়ার জনগণও শান্তি চায়। শান্তি যাতে বিরাজ করে তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের যতদূর ক্ষমতা সেইমত চেষ্টা করে যেতে হবে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন মিডিয়া ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, ইউক্রেনে হামলার জন্য বড়োসড়ো সামরিক সজ্জা প্রস্তুত রেখেছে রাশিয়া। তবে পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে আছে যে জাতিসংঘের পক্ষে এই খবরের সত্যতা যাচাই করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রোজমেরি ডিকার্লো। ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা টুইট করে ইউক্রেন নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছেন।

সূত্র: www.thehindubusinessline.com

Leave A Reply