মিয়ানমারের ২২ কর্মকর্তার ওপর ইইউয়ের নিষেধাজ্ঞা

Share

মিয়ানমারের শীর্ষ ২২ কর্মকর্তার সম্পদ জব্দ ও তাদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানিসহ সরকারি-বেসরকারি চারটির সংস্থার ওপর বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত বছর দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের সময় সামরিক বাহিনীকে তারা অর্থ সহায়তা করেছিল। গতকাল সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

মিয়ানমারে বাড়তে থাকা সহিংসতা ও আঞ্চলিক সংঘর্ষের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদপ্তর। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানায়, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পরিস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে অবনতির দিকে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিয়ানমা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই)। ইয়াদানা গ্যাস ফিল্ডসহ দেশটির সব গ্যাস প্রকল্পে টোটাল এনার্জিস এবং শেভ্রনের মতো বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পনির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের অংশীদার। তবে সেনাবাহিনীর ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কোম্পানি দুটো মিয়ানমার থেকে বেরিয়ে আসবে বলে ঘোষণা দিয়েছে

গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মিয়ানমারজুড়ে। বিক্ষোভ দমনে সামরিক বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান সহস্রাধিক মানুষ। তখন থেকেই দেশটির সামরিক বাহিনীকে অর্থ সহায়তা করার অভিযোগে এমওজিই’র বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রচারণা চালিয়ে আসছে মিয়ানমার ও সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলো। সংস্থাগুলোর যুক্তি, নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য একটি অর্থের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আসে তেল ও গ্যাস কোম্পাটির ওপর।

মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় অর্ধেক আসে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি খাত থেকে। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে অফশোর ও পাইপলাইন প্রজেক্ট থেকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার আয় প্রত্যাশা করছে এমওজিই।

Leave A Reply