ডিজিটাল আসক্তি রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই

Share

রায়হান আহমেদ তপাদার
আধুনিক পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের জন্য ইন্টারনেট আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু এ ইন্টারনেটই আবার যে কোন মানুষের জীবনে হয়ে ওঠতে পারে ভয়ংকর বিপদের কারণ বা অভিশাপ,যদি না এটির যথাপযোক্ত ব্যবহার না করা হয়। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের পূর্বেই জেনে নিতে হবে এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে।আধুনিক পৃথিবীর সব থেকে ব্যস্ত থাকার মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে প্রত্যেক কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষার্জনের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের আবশ্যকতা অপরিহার্য। আজকাল যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বপ্রথম আমরা ইন্টারনেটকেই নির্ভরযোগ্য মনে করি। আর সেই নির্ভরশীলতা থেকে যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত আমরা ইন্টারনেটে সময় ব্যয় করি তখন আমাদের ব্যক্তিগত, শারীরিক ও নানা রকম পারিবারিক সমস্যায় পতিত হই।
আর এতে করে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয় আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। আর এই অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত সময় ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যয়ের ফলে হয়ে যেতে পারে অনেক বড় ক্ষতি। সেজন্যে আমরা একে বলি ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের নাম আসক্তি। ইন্টারনেট আসক্তি এক ধরনের ব্যাধি হিসাবে পরিচিত। তাহলে চলুন জেনে নেই কি কি কারণে ইন্টারনেট আসক্তি সৃষ্টি হয়।সাধারণত ইন্টারনেট আসক্তি বলতে বুঝায় অনলাইন সম্পর্কিত যে কোন ধরনের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, যার দ্বারা স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়।
মনোবিজ্ঞনীদের মতে,যখন কোন ব্যক্তি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে এর উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যতিত সে থাকতে পারেনা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে তার স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। ইন্টারনেট ছাড়তে গেলেই তার তীব্র তাড়না কাজ করে, অস্থির লাগে ও ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারনে সে ব্যক্তির ক্ষতি হচ্ছে জেনেও সে ব্যবহার বন্ধ করতে পারছেনা তাকেই ইন্টারনেট আসক্তি বলে।
অপরদিকে গবেষকদের মতানুসারে, ইন্টারনেট আসক্তি হলো একটি মানসিক রোগ। যার ফলে মানুষ কম্পিউটারে অথবা স্মার্টফোনে অনেক সময় ব্যয় করে এবং এর মাত্রা অতিরিক্ত ব্যবহারের কারনে তাদের স্বাস্থ্য, কর্ম জীবন, টাকা-পয়সা ও সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে। যেমন-ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেটে অতিবাহিত করার পর তা একধরনে অভ্যাসে পরিণত হয়। যার ফলে ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়, যা কিনা মাদকাসক্তের সাথে তুলনা করা যায়।
অজানাকে জানা ও দেখার আগ্রহ ও কৌতুহলঃ যাদের কাছে ইন্টারনেট একেবারেই নতুন তাদের কাছে ইন্টারনেট অনেকটা ম্যাজিকের মতো। কেননা মুহুর্তের মধ্যে তারা যা চাচ্ছে তাই চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। নতুন তথ্য জানতে এবং বিভিন্ন অজানা বিষয় আবিষ্কার করতে তাদের চিন্তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। আর একটি লিঙ্কে ঢোকার সাথে সাথে অন্যান্য লিঙ্কে আরোও আকর্ষণীয় লিঙ্কে প্রবেশ করতে তা  তাদের মনকে তাড়িত করে। এভাবে এক সাইট থেকে অন্য সাইটে ঘুরাঘুরি করে তারা নতুন আনন্দ ও বিনোদনের উৎস খোঁজে পায় এবং এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি পার করে দেয় ঘন্টার পর ঘন্টা।
একাকীত্বতা ও অলস সময়ঃ আমাদের সারাদিনের কাজের শেষে যখন ব্যক্তিগত মুহূর্ত অতিবাহিত করতে কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাপার গুলো কারো সাথে যখন শেয়ার করতে পারিনা তখন আমরা বিকল্প মাধ্যম খুঁজি যাতে আমাদের সুপ্ত কথা গুলো প্রকাশ করতে পারি। এছাড়াও অনেকে পরিবারের লোকজন নানা কাজে ব্যস্ত থাকে তখন সে বাসায় একা থাকে। করার মতো কোন কাজ না থাকার ফলে সময় কাটানোর জন্য ইন্টারনেট একমাত্র সঙ্গী হিসাবে কাজ করে। সকল প্রকার তথ্য ও বিনোদনের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই সময় কেটে যায়। যার ফলে ইন্টারনেটে আসক্তি তৈরি হয়। তাছাড়া নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব সহজ ও সাশ্রয়ীঃ প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে তো কোন প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়াই শুধুমাত্র ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ক্রয় করলেই মোবাইলে অথবা কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন পেয়ে যাচ্ছে।
এমনকি ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়ার সাথে সাথেই যেকোন ব্যক্তি তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোন ধরনের বিনোদন, তথ্য খোঁজ করা ও চাহিদা অনুযায়ী ইচ্ছা মাফিক ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানোর অধিকার পেয়ে যায়।সন্তানকে সময় দিতে না পারা ও সন্তুষ্ট রাখতে গিয়েঃ শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে অভিবাবক বা বাবা-মায়েরা অনেকাংশে দায়ী। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার সহায়তা বা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে তাদের সময় না দিতে পেরে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ করে দেন। কিন্তু প্রথমদিকে তারা বুঝতেও পারেন না, যে কিভাবে স্বাভাবিক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তাদের অস্বাভাবিক ইন্টারনেট ব্যবহার প্রবণতা বেড়ে যায়। ছেলে-মেয়েরা হাতের নাগালে সকল কিছু পেয়ে পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজের রোটিনের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য লম্বা রোটিন করে নেয়। দিনের পর দিন এমন ধারাবাহিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠে ইন্টারনেটে আসক্ত।
আত্মপ্রচারণা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টাঃ অসংখ্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে যারা মূলত নিজের বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা ব্যক্তিগত গুণাবলীর বহিঃপ্রকাশ করতে ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, লিংকডিন, টুইটার. ইউটিউব এর পাশাপাশি ব্লগ ও ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রকমের লিখিত কন্টেন্ট অথবা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে মানুষের সম্মুখে জাহির করতে চায়। বেশি ভিউয়ার ও লাইক পাবার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় যাতে করে অতিদ্রুত সেলিব্রেটি বনে যাওয়া যায় ও প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায়। সেই জন্য সর্বদা তাদের চোখ থাকে ইন্টারনেটের উপর এবং যেনো যেকোন প্রকার আপডেট তারা মিস না করে ফেলে।কিন্তু তারা বুঝতেই পারেনা এতে তাদের ইন্টারনেট আসক্তির মতো বাজে অভ্যাস গড়ে তুলছে। ভিন্নধর্মী  বিনোদন তৈরী করার প্রয়াসঃ অসংখ্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত নানা রকমের ভিডিও, ক্ষুদ্রাকৃতির সিনেমা ও নাটক বানিয়ে অথবা কৌতুক, ট্রল, টিকটক, ক্রিয়েটিভ কাজের রিভিউ, ফেইসবুক লাইভ, উপস্থাপনা ও প্রাঙ্ক ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে তারা একটি বিনোদনের উৎস বানিয়ে সেটাকে ইউটিউব, ফেইসবুকসহ সকল সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে।
আর এই প্রক্রিয়ায় তারা নিজেরা যেমন সর্বদা অনলাইনে থাকে তেমনি, একটা গ্রুপ যারা তাদের এসব ভিডিও পছন্দ করে, মন্তব্য করে এবং শেয়ার করে সেই সব অডিয়েন্সরাও ইন্টারনেট আসক্তির গন্ডিতে আবদ্ধ হয়।
কম্পিউটার আবিষ্কারের কিছুকাল পরেই ইন্টারনেট এর ব্যাপারে পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৬৬ সাল থেকে ইন্টারনেট এর যাত্রা শুরু এবং এর পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে এর অগ্রগতি হতেই থাকে। ইন্টারনেট আবিষ্কারের প্রাথমিককালে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা ও তা উদ্ভাবনের যে উদ্দেশ্য ছিল, সেটি আধুনিক সময়ের ইন্টারনেট ব্যবহারের সাথে সম্পূর্ণই বিপরীত। কারণ সেসময়ে আবিষ্কারকদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি করা এবং সারা পৃথিবীকে নেটওয়ার্কের আওতায় অন্তর্ভূক্ত করা।ডিজিটাল আসক্তি বলতে ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি এমন মোহ বা টান যা ব্যবহারকারীদের মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন করে তোলে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি, ডিজিটাল  প্ল্যাটফর্ম তথা ভিডিও গেম, অনলাইন বিনোদন, মোবাইল অপারেশন, ডিজিটাল গ্যাজেট এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্মগুলোতে নেশাগ্রস্ত করে রাখে। এককথায়, ডিজিটাল আসক্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তি অনলাইন কার্যক্রমে এমনভাবে ঝুঁকে পড়ে যা তার দৈনন্দিন আবশ্যকীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা থেকে বিরত রাখে এবং তার স্বাভাবিক আচার-আচরণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ডিজিটাল আসক্তির তিনটি ধরন রয়েছে; যথা- ফোন আসক্তি, ইন্টারনেট আসক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি। সব বয়সের মানুষের মধ্যে এ আসক্তি দেখা দিলেও কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীরা এ আসক্তিতে বেশি আক্রান্ত।ছাত্র, শিক্ষকসহ প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বর্তমানে ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে শিক্ষাধারা অব্যাহত রাখতে অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফর্মই একমাত্র অবলম্বন। কারণে- অকারণে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বসতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ক্লাসের অন্তরালে ঝুঁকে পড়ছে নানা ধরনের অপ্রাসঙ্গিক বিনোদনে যা তাদের মারত্মকভাবে আসক্ত করে তুলছে।
এই আসক্তি তাদের সৃজনশীল শক্তিকে দুর্বল করছে। এবং আসক্তি কখনও কখনও আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পথে ডেকে নিচ্ছে। মাদকের আসক্তির মতো, অনলাইন গেম থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন। তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বা পরিষেবায় নিজেকে জড়িত রেখে গেমের আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।এ ধরনের গেমগুলোর ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভারত, নেপাল, জাপান, ইরানসহ অন্য অনেক দেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও পাবজি এবং ফ্রিফায়ার গেমস নিষিদ্ধ করেছে। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও অদৃশ্য কারণে এটি থামানো যায়নি। তরুণ প্রজন্মকে যদি আসক্তি থেকে মুক্তি দেওয়া না যায়, তবে তাদের একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তদুপরি, বাচ্চাদের এ জাতীয় আসক্তি থেকে বাঁচাতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার। আমাদের অনলাইন বিশ্বে শিক্ষার্থীদের জন্য মানবিক ও স্বাস্থ্যকর বিনোদন নিশ্চিত করতে হবে, তাদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় জড়িত হতে উৎসাহিত করতে হবে, ফেসবুকের ভালো ও শিক্ষণীয় স্টোরিগুলো ব্যবহারে নির্দিষ্ট পদ্ধতি বের করতে হবে।
সরকার ইন্টারনেটভিত্তিক এ জাতীয় বিনোদন ব্যবহারে কঠোর আইনি বিধিনিষেধ জারি করতে পারে, এমনকি বিটিআরসি নেট গতি দুর্বল করে তাদের এ জাতীয় গেম খেলতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা নীতি বজায় রেখে খেলার মাঠে যেতে এবং খেলার ব্যবস্থা করতে দেওয়া উচিত। তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং বিশ্বে তাদের সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর জন্য মাদকের আসক্তিকে আমরা ‘না’ বলার পাশাপাশি ডিজিটাল আসক্তিকে আমাদের ‘না’ বলতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে- এখন ক্ষতটি ছোট, এটি ওষুধ দিয়ে নিরাময় করা যাবে, তবে ক্ষতটি বড় হয়ে গেলে তা নিরাময় করা কঠিন হবে। সুতরাং আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনি এবং অনলাইনভিত্তিক সব গেম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করি।
উনিশ-শো পঁচানব্বই সালের পর থেকে ইন্টারনেটের বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু হয় এর বাণিজ্যিক বিস্তারের মাধ্যমে। আর তখন থেকেই পৃথিবী দেখতে পায় নতুন আলোর মুখ এবং সমগ্র পৃথিবী পরিণত হয় একটি গ্রামে। যা কিনা গ্লোবাল ভিলেজ হিসেবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি পায়। কেননা এর পূর্বে যখন মানুষের যোগাযোগা কিংবা যেকোন তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজন পরতো, সেজন্যে তাদের অনেক কড়িকাঠ গুণতে হতো, তদস্থলে ইন্টারনেটের অগ্রগতির মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষ পেতে শুরু করলো অগণিত তথ্যভান্ডার, শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগের পাশাপাশি সমুদ্রসম বিনোদনের মতো কার্যকর সেবা মাধ্যম। কিন্তু আমরা সবাই জানি, দিনের আলো শেষ হলেই আসে রাতের অন্ধকার। প্রদীপের বিপরীতে থাকে আধাঁর এটাই চিরন্তন সত্য কথা।
ইন্টারনেট আমাদের জীবনে অসামান্য আশির্বাদ হয়ে আবির্ভাব হলেও এর ফলে সারা পৃথিবীর মানুষ এখন এক ভয়াবহ হুমকির মুখে পতিত হয়েছে। মানবেতর জীবনযাপনের ক্ষেত্রে নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে ঘটছে অবর্ণণীয় অবক্ষয়।এমনকি অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে আমাদের দেশের অপার সম্ভাবনাময় শিশুরা। মেধা আর মননে শিশুদের বিকশিত হবার অন্তরায় হয়ে উঠছে এই আসক্তি।
পরিণামে অসহায় হয়ে পড়ছেন বাবা-মা, অশান্তি নেমে আসছে পারিবারিক জীবনে। অনলাইন গেমের এই আসক্তি থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম একভাবে মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের স্কিনে তাকিয়ে গেম খেলতে খেলতে শিশুদের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চোখের ফ্লুইড কমে যাচ্ছে, কর্ণিয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে, দৃষ্টিশক্তি কমছে। শিশুদের অনলাইন গেমের আসক্তি তাদেরকে পড়াশুনা বিমুখ করে তুলছে, তাদের মেধা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এ ব্যাপারে কার্যকরি পদক্ষেপ এখনই না গ্রহণ করলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

Leave A Reply