ময়লার গাড়ি চাপা পড়ে ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম

গাড়ি চাপায় নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হয়েছে। দোষী চালকের শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার নটরডেম কলেজ ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়। ঢাকার বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ করে। ফার্মগেটে শিক্ষার্থীদের গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দেখা গেছে।

সকালে শিক্ষার্থীরা নটর ডেম কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা এক পর্যায়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর এবং গুলিস্তানে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা এ সময় ছয় দফা দাবি জানায়। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সবার জন্য সড়ক নিরাপদ করা, ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর পাস হওয়া আইন বাস্তবায়ন, নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মরলো কেন প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। এ সময় পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তৈরি হয় তীব্র যানজট। একপর্যায়ে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এই সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপাতেই শিক্ষার্থী নাঈম নিহত হয়। শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে গেট খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শাস্তি দাবি করে।

পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী গুলিস্তানে নিহত নাঈমের নামে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

নাঈম হাসানের মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। শান্তিনগর, কাকরাইল ও বেইলি রোড এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। হলিক্রস, বিজ্ঞান কলেজ ও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। তারা বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স চেক করে। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি বাসকে আটকে রাখে তারা। শিক্ষার্থীরা জানায়, পুলিশের ওই বাসচালকের লাইসেন্স নেই। তবে বাসচালক দাবি করেছেন, তার লাইসেন্স আছে, তবে সেটা অফিসে রাখা। এক ঘণ্টা আটকে রেখে বাসটিকে ছেড়ে দেয় তারা। তারা বাসটির সামনে ও পাশে লিখে দেয়- ‘পুলিশের কেন লাইসেন্স নাই’।
এদিকে নাঈম হাসানকে চাপা দেয়া গাড়িটির চালক রাসেল মিয়ার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়ার আদালতে হাজির করে সাতদিনের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

ওদিকে প্রতিবাদ বিক্ষোভের মধ্যেই ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আরেকজন। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে পান্থপথে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন আহসান কবির খান। তিনি প্রথম আলোর সাবেক কর্মী। এ ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা। এ ইস্যুতে বৃহস্পতিবার পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নিতে রাজি হননি মালিক সমিতির নেতারা। তারা সরকারের কাছে প্রণোদনা দাবি করেছেন। প্রণোদনা দেয়া হলে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নেয়ার দাবি মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছেন মালিক সমিতির নেতারা।
সূত্র:ভয়েচ অব আমেরিকা