খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল নয়, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

প্রতিবেদন:
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। এ অবস্থার কারণে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে তথ্য আসে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়াতে থাকে। বুধবার অবশ্য পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, কোনো বিশেষ কারণে সতর্কতা জারি করা হয়নি। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং ডিসেম্বর মাস সামনে রেখে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। এটি কোনো রেড অ্যালার্ট নয়।

বুধবার দিনভর বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা মাধ্যমে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। দুপুরে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বৈঠক করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দেশে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিন্তু এখানে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। অবিলম্বে তাকে বিদেশে পাঠানো দরকার। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অ্যাডভান্স চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিতে পাঠাতে হবে। অতিদ্রুত তাকে বিদেশে পাঠানো জরুরি।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এই কর্মসূচি পালন করবে।

এ ছাড়া পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার দাবিতে সারা দেশে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কোথাও কোথাও বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নাটোরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধায় স্মারকলিপি দিতে পারেননি বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। যশোরে বিএনপির স্মারকলিপি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।

খালেদা জিয়ার অবস্থা ক্রিটিক্যাল বা সংকটাপন্ন বলে মনে করছেন প্রবীণ চিকিৎসক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মঙ্গলবার তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। বুধবার এক নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন।

নগর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “খালেদা জিয়া কতক্ষণ, কয় মিনিট, কয়দিন বাঁচবেন সেটা আমি বলতে পারবো না। তবে এটা বলতে পারি খালেদা জিয়া চরম ক্রান্তিকালে আছেন। তাকে হত্যা করা হচ্ছে। এই হত্যার জন্য আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হুকুমের আসামি হবেন।”

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “তার অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। মেডিকেল বোর্ডের ৬ জন চিকিৎসক আমাকে বিস্তারিত বলেছেন। আমি তাদের ফাইল-এর প্রত্যেকটা লেখা পড়ে দেখেছি। উনার মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। ব্লাড প্রেসার একশ’র নিচে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, সম্ভব হলে আজকে (বুধবার) রাতেই ওনাকে বিদেশে ফ্লাই করা উচিত। আর না হলে যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, “এইভাবে যদি বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হন তাহলে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহিদুল্লাহ কায়সার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
সূত্র:ভয়েচ অব আমেরিকা