সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা: পূর্ণাঙ্গ, পক্ষপাতিত্বহীন এবং স্বচ্ছ তদন্ত আহ্বান অ্যামনেস্টির

চলমান সহিংসতার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার সময় এ সম্প্রদায়ের সদস্য, তাদের বাড়িঘর, মন্দির এবং পুজার প্যান্ডেলে ক্ষুব্ধ দাঙ্গাকারীদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এগুলো দেশে ক্রমবর্ধমান সংখ্যালঘু বিরোধী মনোভাবের লক্ষণ। অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে বার বার ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে হামলা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর এবং উপাসনার স্থানে হামলা হয়েছে। এতে এটাই দেখা যাচ্ছে যে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে রাষ্ট্র। ধর্মীয় স্পর্শকাতরাতাকে টার্গেট করে সাম্প্রদায়িত উত্তেজনা ছড়ানো মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন। এ অবস্থায় দেশের সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানে সরকারের উচিত অবিলম্বে, সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেয়া।

১৮ই অক্টোবর দেয়া ওই বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, এমন হামলা থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদেরকে সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে ভিকটিমরা যাতে ন্যায়বিচার এবং কার্যকর প্রতিকার পান তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষকে দ্রুততার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ, পক্ষপাতিত্বহীন এবং স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে এবং সহিংসতা, ভাঙচুরের জন্য যারা সন্দেহভাজন বলে দায়ী হবে, তাদেরকে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা উচিত।

এই বিবৃতির সঙ্গে বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া উত্তেজনার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ১৩ই অক্টোবর কুমিল্লায় একটি পুজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। ১৩ই অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ। স্থানীয় রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে এতে আরো বলা হয়, ১৭ই অক্টোবর রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ২৫টি বাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ আরো হামলার সতর্কতা দিয়েছেন। চলমান এই সহিংসতার প্রতিবাদে শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্টাফরা সড়ক অবরোধ করেছেন। দেশজুড়ে সহিংসতা ও ভাঙচুরের কারণে অজ্ঞাতনামা ১০ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৪৬টি মামলা করেছে পুলিশ।
এর আগে ২০১৬ সালে ইসলাম অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক শত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেই ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০১২ সালে বৌদ্ধদের কমপক্ষে ৬টি উপাসনালয় ও কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এক্ষেত্রেও পবিত্র কোরআন
অবমাননার পোস্ট দেয়া হয় ফেসবুকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সহিংসতা দেখা দেয়।