মোদীর চাদরের দাম উঠল ১ কোটি টাকা, প্রতি মুহূর্তে চড়চড় করে চড়ছে দর

অঙ্গবস্ত্র। উপহার পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোনও ভক্তের দেওয়া গায়ের চাদরটির সাধারণ ভাবে দাম ১০০ টাকা। কিন্তু নিলামে সর্বনিম্ন দাম রাখা হয়েছিল ৫০০ টাকা। নিলাম শুরু হয় মোদীর জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়। সঙ্গে সঙ্গেই দাম বাড়তে শুরু করে। আর ২৭ ঘণ্টার মাথায় শনিবার দুপুর ১টায় দেখা যায়, ওই চাদরের দাম উঠেছে ১ কোটি টাকা।

গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই নিজের পাওয়া উপহার নিলামে বিক্রি করেন মোদী। এ বার জন্মদিন থেকে শুরু হয়েছে সেই নিলাম। জানা গিয়েছে, গত দু’বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে তিনি যে সব উপহার পেয়েছেন তার মধ্যে বাছাই সামগ্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিলাম হচ্ছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। তার ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বার। ওই দিন পর্যন্ত চলবে নিলাম।

শুধু বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে পাওয়া উপহারই নয়, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসে বিশিষ্টরা যে স্মারক দিয়েছেন মোদীকে, তা-ও উঠেছে নিলামে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনের মডেল, পেন্টিং, স্মারক পেয়েছেন তা-ও নিলামে রাখা হয়েছে।তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে সব উপহার নিলামে উঠেছে সেগুলির মধ্যে সদ্যসমাপ্ত টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ট্রাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে দেশের প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে সোনার পদক জেতা নীরজ চোপড়ার থেকে পাওয়া। চলতি ই-নিলামে তাঁর সেই সোনা জয়ী জ্যাভলিন উঠেছে নিলাম।

শুক্রবার দর শুরু হয়েছিল ১ কোটি টাকা থেকে। শনিবার দুপুরেই তা ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও ১৯ দিন ধরে চলবে নিলাম। মোদীর চাদর থেকে নীরজের জ্যাভলিনের মূল্য কোন উচ্চতায় পৌঁছয় তা জানা যাবে ৭ অক্টোবর। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে এই নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় হবে নমামি গঙ্গে প্রকল্পের জন্য।

অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ জয়ী মহিলা কুস্তিগীর লভলিনা বড়গোঁহাইয়ের গ্লাভস জোড়ার প্রাথমিক দর ছিল ৮০ লাখ টাকা। ইতিমধ্যেই তা ১ কোটিতে পৌঁছেছে। এই নিলামে রয়েছে প্যারালিম্পক্সে সোনা জয়ী ও বিশ্ব রেকর্ডের মালিক সুমিত অন্তিলের জ্যাভেলিনও। রয়েছে মহিলা হকি দলের অধিনায়ক রানি রামপালের স্টিক। রয়েছে লভলিনার বক্সিং গ্লাভস, অবনী লেখারার টি-শার্ট ছাড়াও অনেক উল্লেখযোগ্য সামগ্রী। রয়েছে মোদীর উপহার পাওয়া ঘণ্টা থেকে তুলসী গাছ-সহ অনেক কিছুই। অনলাইন নিলাম চলছে pmmementos.gov.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
আনন্দবাজার পত্রিকা