বোমা মারলেও অক্ষত থাকবে মানুষ!

পরাশক্তি রাশিয়া নতুন প্রজন্মের যুদ্ধাস্ত্র বানাতে কতটুকু পারঙ্গম তা সহজেই অনুমেয়। এবার তারা এমন একটি স্যুট বানিয়েছে যা কেউ পরে থাকলে তুমুল বিস্ফোরণেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবে না।
ভিক্টোরিয়া কোলেসনিকোভা নামের একজন স্টান্টকর্মী এই বিশেষ স্যুট পরে এর বিস্ফোরণ সহ্য করার ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। ভিডিওতে তাকে অবলীলায় আগুন আর বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

এই বিশেষ পোশাকের অভিনব ব্যাপার হলো- এই স্যুটটিতে কোনোভাবেই আগুন ধরে না। ফলে বিস্ফোরণের পরেও মানুষের শরীর অক্ষত থাকে।

রাশিয়ানরা এর আগে পয়েন্ট ফাইভ জিরো ক্যালিবারের বুলেট আটকাতে পারে এমন স্যুটও বানিয়েছিল। রাশিয়ার অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোস্টক এই স্যুটটি বানিয়েছে। এই বিশেষ স্যুটটিতে রোবোটিক অনেক সরঞ্জামাদিও যুক্ত থাকবে।

এই নতুন প্রযুক্তিগুলোর ভেতর হিউম্যান অগমেন্টেশনসহ দৌঁড়ানোর গতি, অস্ত্র রাখার জায়গা, এবং ক্লান্তি দূরীকরণ রয়েছে। এই বিশেষ রোবোটিক অপশনগুলো নতুন ক্ষমতা দেবে সৈন্যদের ফলে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে আরও বিধ্বংসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবে।

তথ্য নির্বাচন ও যাচাইকরণে এই স্যুটটিতে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড এক্সচেঞ্জিং ইনফরমেশন প্রযুক্তি। স্যুটটি বানানো হয়েছে পলিথিন ফাইবার দিয়ে। এই স্যুটের উপর দিকে রয়েছে একটি আর্মর যা দিয়ে আটকানো যাবে পয়েন্ট ফাইভ জিরো ক্যালিবারের বুলেট।

বলাই বাহুল্য রাশিয়ানরা এই নতুন ধরনের স্যুট নির্মাণ করে ভবিষ্যতের অস্ত্রবিদ্যার পথে অনেকটা দূর এগিয়ে গেল। স্থল বাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, স্ট্র্যাজিক রকেট ফোর্স, বিশেষ বাহিনী এবং এয়ারবোম ট্রুপস নিয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গঠিত।

রাশিয়া বিশ্বের অনেক দেশে অস্ত্র রপ্তানি করে থাকে। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় অটোমেটিক রাইফেল একে-৪৭-এর নির্মাতা ও ডিজাইনার রাশিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিখাইল কালাশনিকভ। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটিরও অধিক এই অস্ত্র বিক্রি হয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনীতে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদের মূল্যায়নকারী সংস্থা ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিষ্টের মতে, ২০১৮-এর হিসেবে রাশিয়া ফেডারেশনের মোট ৭৮৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে ১,৬০০টি কৌশলগতভাবে কার্যকর।

চীন, যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়া, এই তিনটি দেশই বর্তমান বিশ্বে এক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকির নাম চীন। নতুন ধরণের একটি বিশাল বোমার প্রদর্শন করেছে চীন, যাকে বলা হচ্ছে চীনের ‘সব বোমার মা’। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসিভ অর্ডিন্যান্স এয়ার ব্লাস্টের মতো যেটিকে বর্ণনা করা হচ্ছে। প্রচারণা ভিডিওতে চীনের অস্ত্র তৈরির প্রধান কোম্পানি নোরিনকো দেখিয়েছে, এইচ-সিকে বোমারু বিমান থেকে বোমাটি ফেলা হচ্ছে এবং বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া বলছে, ওই বোমাটি হচ্ছে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা এবং এটি এতো বড় যে, একটি এইচ-৬কে বোমারু বিমান একেকবারে মাত্র একটি বোমাই বহন করতে পারে।

তবে রাশিয়ারও এ ধরণের বোমা রয়েছে- যাকে বলা হয় ‘সব বোমার বাবা’। এটা আমেরিকান বোমাটি চেয়ে আকারে বড় এবং যখন ফেলা হয়, তখন শক ওয়েভের বদলে আগুনের কুণ্ড তৈরি করে।

টাস্ক অ্যান্ড পারপোজ এর সূত্র মতে, রাষ্ট্রীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোস্টক ৩ লাখেরও বেশি রাটনিক কমব্যাট গিয়ার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এ ছাড়াও এই বিশেষ স্যুটটিতে চলছে নতুন নতুন সংযোজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যুক্তরাষ্ট্র যখন সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন নিয়ে ঝামেলায় ভুগছে তখন রাশিয়া এক্সোস্কেলেটন প্রযুক্তির সাহায্য তরতর করে উন্নতি করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীও তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রাশিয়ানদের ধরে ফেলতে চাইছে।

রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রও এক্সোস্কেলেটন প্রযুক্তির সাহায্যে তাদের সৈন্যদের ক্লান্তি জরা কমানোর চেষ্টায় রত।
সূত্র: ফরবাইট, বিবিসি, শিনহুয়া, টাস্ক এন্ড পারপাজ