সিলেটে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ও মিলছে না

সিলেটে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। শুক্রবারও সিলেটে রেকর্ড ১৭ জন মারা গেছেন। এবং ৮০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা একদিনে সিলেটে সর্বোচ্চ শনাক্ত।

এদিকে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সঙ্কট। সবগুলো হাসপাতাল রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে নতুন রোগী ভর্তি করতে পারছে না কোনো হাসপাতাল। এ অবস্থা চলতে থাকলে চিকিৎসা না পেয়েই মৃত্যুর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) তো রীতিমত সোনার হরিন হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা তদবির করেও আইসিইউ পাচচ্ছেন না রোগীর স্বজনরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য সরকারি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৪টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি।

নগরের সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও প্রায় ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। এরপরও সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে ধরনা দিতে হচ্ছে।

চলতি মাসের ৩০ দিনে সিলেট জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৯৩ জনের। এই মাসে করোনায় মারা গেছেন ১৬০ জন। জেলায় এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটাই রেকর্ড।
করোনা উপসর্গ নিয়ে সম্প্রতি নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন আবু তালেব (৫৮)। বুধবার সকালে তার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন করোনা পজিটিভ আসে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া দুপুরের দিক থেকে তাঁর জন্য আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করতে ছোটাছুটি শুরু করেন স্বজনেরা। তাদের একজন ইউনুস আহমদ বেলা আড়াইটার দিকে ছিলেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের সামনে।

তিনি জানান, তিনি শামসুদ্দিন আহমদ এবং ওসমানী হাসপাতালের পাশাপাশি তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল খোঁজ নিয়েছেন। কোথাও আইসিইউ শয্যা খালি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আপাতত সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে রোগীকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। দ্রুত আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা না করতে পারলে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে।

দক্ষিণ সুরমা এলাকার নর্থ ইস্ট হাসপাতালের বিপণন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তাদের হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় ৩২টি আইসিইউ শয্যা এবং ৬৮টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। সবগুলোই এখন রোগীতে পরিপূর্ণ। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা অনেককে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে।

আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের বিপণন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, তাদের হাসপাতালে ৯টি আইসিইউ শয্যাসহ মোট ৬৪টি শয্যা রয়েছে। সবগুলোই রোগীতে পরিপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘গত সোমবার আমার স্ত্রীকেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তার আইসিইউ শয্যার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু শয্যা খালি পাননি। পরে একজন রোগী মারা যান। এরপর মঙ্গলবার রাতে আমার স্ত্রীকে আইসিইউ শয্যায় স্থানান্তর করতে পেরেছি।’

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শয্যা আছে ১০০টি। এখানে ৯৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ শয্যাতেই রোগী রয়েছেন। রোগীর অবস্থার উন্নতি না হলে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় না। এর বাইরে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে আইসিইউ শয্যা খালি হয়। অপেক্ষমাণ থাকা রোগীদের গুরুতর অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আইসিইউ শয্যা দেওয়া হয়।

এদিকে ওসমানী মেডিকেলের আটটি আইসিইউ শয্যাও রোগীতে পরিপূর্ণ। আর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২০০টি আসনের বিপরীতে ২৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত বলেন, জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতার অভাবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

গণ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদানের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম সফল হলে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে সংক্রমণের হার অনেকটা কমবে। তখন হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট থাকবে না।