মোগলাবাজারে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর ভবন নিমার্ণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

সিলেট :: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানা এলাকার মোহাম্মদপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মো. ফখরুজ্জামান স্থানীয় একটি ভূমিখেকোচক্রকে চাঁদা না দেওয়ায় নিজের ক্রয়কৃত জমিতে ভবন নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছে।

ভবনের পাইলিং, ব্যাজম্যান্ট ও পিলারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আসামাত্রই বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধ করে দিতে হুমকি দেয় স্থানীয় তিরাশীগাঁও গ্রামের দনজা আলী ওরফে নজব আলীর ছেলে রইছ আলী, রইছ আলীর ছেলে লিলু মিয়াসহ তাদের সহযোগিরা।

সোমবার দুপুরে (১৭ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন প্রবাসী মো. ফখরুজ্জামানের ফুফাত ভাই মো. জাবেদ মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. জাবেদ মিয়া উল্লেখ্য করেন, শিশু বয়সে যুক্তরাজ্য গিয়েছিলেন মো. ফখরুজ্জামান। তবে দেশ ও স্বজনদের টানে তিনি প্রায়ই নিজ জন্মস্থানে ফিরে আসেন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানা এলাকার মোহাম্মদপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. জনাব আলীর ছেলে তিনি। মো. ফখরুজ্জামান ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোগলাবাজার থানা এলাকার তিরাশীগাঁও মৌজায় ১০৬৪, ১০৬৩, ১০৬২, ১০৬১ দাগের ৩১ শতক জায়গা। যার খতিয়ান নম্বর এস.এ ৭৫ এবং জে.এল. নম্বর : ১৭৯ খরিদ করে মালিক হন। জায়গাটি ক্রয় করার পর থেকে তিনি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি যুক্তরাজ্য থাকার কারণে এই জায়গার দেখাশুনার দায়িত্ব দেন ফুফাতো ভাই মো. জাবেদ মিয়াকে এবং ভূমিতে নির্দেশ দেন একটি ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনের কাজ শুরু করতে। তার কথামতো কাজ শুরু করান মো. জাবেদ মিয়া। ভবনের পিলার ও নিচের পাইলিং এবং ব্যাজম্যান্টের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আসামাত্রই বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধ করে দিতে হুমকি দেয় স্থানীয় ওই ভূমিখেকোচক্র।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একই থানার তিরাশীগাঁও গ্রামের দনজা আলী ওরফে নজব আলীর ছেলে রইছ আলী, রইছ আলীর ছেলে লিলু মিয়া, দুলাল মিয়া, বেলাল মিয়া, হেলাল মিয়া, তাদের প্রতিবেশী ইছাক আলীর ছেলে ফরিদ মিয়া, জিলু মিয়া, দনজা আলী ওরফে নজব আলীর ছেলে সিরাজ মিয়া, একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে মুক্তার মিয়া, একই এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে ইউপি সদস্য দিলওয়ারসহ অজ্ঞাত নামা ১০/১৫ জন ব্যক্তি নির্মাণাধীন ভবনের চলমান কাজে বাঁধা প্রদান করে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। প্রথমে গত ১৪ এপ্রিল এবং পরবর্তীতে সঙ্গবদ্ধভাবে ১৫ এপ্রিল বাঁধা প্রদান করে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় একাধিকবার কাজে বাঁধা প্রদান করে যার সংরক্ষিত ভিডিও চিত্র জাবেদ মিয়ার কাছে রয়েছে। কাজে বাঁধা প্রদানকালে ওই ভূমিখেকো চক্রের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত ২০ মার্চ ৯ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশে উভয় পক্ষের দেখা হয়। গত ৮ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ৩ পাতার সম্বলিত একটি রায় ফখরুজ্জামানের পক্ষে প্রদান করেন ইউপি সদস্য। যেখানে সম্পষ্ট উল্লেখ করা হয় এই জায়গার প্রকৃত মালিক প্রবাসী ফখরুজ্জামান। রায় পাওয়ার পর ভূমিতে কাজ শুরু করা হয়। কাজ চলমান অবস্থায় রইছ আলীর নির্দেশে তার ছেলেরা সন্ত্রাসীদের নিয়ে ফখরুজ্জামানের ভূমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাউন্ডারি করা জায়গায় প্রবেশ করে কাজে বাঁধা প্রদান করে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে বলে, কোনো শ্রমিক যদি এই ভবনে কাজ করে তবে তাঁদেরকে প্রাণে হত্যা করা হবে। দেশীয় অস্ত্রসহ এমন হুমকি শুনে চলমান কাজ ফেলে ৩০ জন শ্রমিক চলে যায়। এতে অনেক মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার মূল্য ৫০ হাজার টাকার উপরে হবে। তারা ভূমিতে থাকা মালামাল নিয়ে যাবে এবং আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিলে জাবেদ মিয়া ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে আমাকে নিরাপত্তা দেয়। তাদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও দায়ের করেন।
জাবেদ মিয়া বলেন, একজন অসহায় রেমিটেন্সযোদ্ধার পক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন। সাংবাদিকদের লিখণীর মাধ্যমে পুলিশ, র‌্যাবসহ সরকারের উপর মহলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
একই সাথে ভূমিখেকোচক্র এসব সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করতে জোর দাবি জানান।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসজেডপিসি/এসডি-৪