আল-জাজিরার কার্যালয় মাটিতে মিশিয়ে দিল ইসরায়েল,বিভিন্ন রাষ্ট্রের ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্তন

গাজা উপত্যকায় আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি কার্যালয় শনিবার (১৫ মে) বিমান হামলা চালিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।
খবরে বলা হয়, ভবনটি পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছি কিনা, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
ছবিতে দেখা যায়, বোমা হামলার পর ভবনটি মাটিতে ভেঙে পড়ছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভবনটিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ব্যুরোও কার্যালয় ছিল। ঘণ্টাখানেক আগে এটি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ভবনটিতে বিভিন্ন অফিস ও অ্যাপার্টমেন্ট ছিল।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের ৩৯টি শিশু ও ২২ নারী রয়েছেন। হামলায় এখন পর্যন্ত আট ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের ‘ঘৃণ্য পদক্ষেপ’ অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে একমত হয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।
উভয় নেতা গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছেন।
ইয়াসিন ও উইদোদো এক ফোন কলে আলাপকালে এ আহ্বান জানান বলে শনিবার (১৫ মে) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মুহিউদ্দিন ইয়াসিন টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, ‘আমাদের একই মতামত ছিল যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষত জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের উচিত ইসরায়েলের সব প্রকার সহিংসতা বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনিদের জীবন বাঁচানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।’

তিনি বলেন, ‘আজ অবধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।’
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের কারণে শেখ জারাহ, গাজা এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যে বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজ।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি আরব ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল মধ্যে চলমান লড়াই থামানোর জন্য জাতিসংঘে আরব গ্রুপের বৈঠকের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

জাতিসংঘে সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ ইয়াহিয়া আল-মোলালিমি ইসরায়েলি হামলার কথা তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভোলকান বোজকিরের সাথে সাক্ষাত করেছেন।

এছাড়া তাদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-মৌলালিমি জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধিদের সাথেও সাক্ষাত করেছেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ক্রমবর্ধ্মান সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা এই লড়াইয়ের ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং সহিংসতা বন্ধ করার জন্যে দুই পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত সকল পক্ষকে যুদ্ধবিরতি অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ইরাকি সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি এবং তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রেসেপ তাইয়িপ এরদোগান দুজনের মধ্যে টেলিফোন চলাকালীন ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারও নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে তিউনিশিয়ার রাষ্ট্রপতি ফিলিস্তিনি ও তাদের শান্তির অধিকার এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্রকে সমর্থন করে একটি বিবৃতিও জারি করেছেন। তিউনিশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা টিএপি জানিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রপতি ” ফিলিস্তিনের পবিত্র স্থানগুলির ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা উস্কানিমূলক হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।