মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একাধিক চালের কার্ড!

ঝিনাইদহের মধুহাটি ইউনিয়নে মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বেনামে একাধিক চালের কার্ড করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের স্ত্রী লাইলী বেগম ১০/১২ বছর আগে মারা গেছেন। অথচ তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মধুহাটী ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামের একাধিক ব্যক্তির নামে ১০ টাকা কেজি দরে চাল উঠানো হয়েছে। মুসলিম জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে হিন্দু ও হিন্দু ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে মুসলমানদের তালিকা করা হয়েছে। এক গ্রামের জাতীয় পরিচয়পত্র অন্য গ্রামে ব্যবহার করা হয়েছে। নারীর আইডি দিয়ে পুরুষ আর পুরষের আইডি ব্যবহার করে নারীর চালের কার্ড বানানো হয়েছে। এভাবে ওই ইউনিয়নে ১০/১২ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অর্ধশত ব্যক্তির চালের কার্ড করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান, কতিপয় মেম্বর ও দুই ডিলার বছরের পর বছর এধরনের কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। এ সুযোগে ইউনিয়নের দুই ডিলার নয়ন ও ইন্তা ওজনেও কম দিচ্ছেন বলে উপকারভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর মধুহাটী ইউনিয়নের কুবিরখালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও দুর্গাপুর গ্রামের বদর উদ্দীন লিখিত অভিযোগ দেয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান যোগসাজস করে চালের কার্ড হারানোয় ৪১টি গণজিডি করানো হয়েছে। অপরদিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত অভিযোগ তদন্তে রোববার মধুহাটী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগকারীদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। অনেকেই তার কাছে চাল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। তবে মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ জুয়েল জানান, ১২৪১টি তালিকা করতে গিয়ে কম্পিউটারে টাইপিং মিসিং হতে পারে। এগুলো সংশোধন করে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন