হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে, এমন গবেষণা নিবন্ধ প্রত্যাহার করল ল্যানসেট জার্নাল

৯৬ হাজার রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে ল্যানসেট বলেছিলো, করোনা সারাতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কোনও ভূমিকা নেই, উপরুন্তু এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। বহু বৈজ্ঞানিক এই গবেষণা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, বেশ কয়েকজন রোগীর ঠিকানা সম্পর্কে তাতে ভুল তথ্য রয়েছে। এছাড়া দেড়শ’র বেশি চিকিৎসক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে ল্যানসেটকে সরাসরি চিঠি লেখেন। এই প্রেক্ষিতে ল্যানসেট গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিবিসি

শিকাগোর এক স্বাস্থ্য সমীক্ষা সংস্থা সার্জিস্ফিয়ারের তথ্যসূত্রে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে ল্যানসেট। এই লেখা প্রকাশের পর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে বুধবার আবার নতুন করে পরীক্ষা শুরু করার কথা জানিয়েছে।
ওই প্রবন্ধের তিন লেখক হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনদীপ মেহরা, জুরিখের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ফ্রাঙ্ক রাসচিজকা ও ইটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমিত প্যাটেল তৃতীয় কোনও সংস্থাকে দিয়ে এই তথ্য আবার যাচাই করে দেখতে চাইছেন। নিবন্ধ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এই তিন লেখক বলেন, সার্জিস্ফিয়ার তাঁদের এ ব্যাপারে তথ্য দিয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের ডেটাসেট স্বাধীনভাবে রিভিউয়ের জন্য হস্তান্তর করতে রাজি নয়। এমনকী প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা সম্পর্কেও নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয় তারা। সার্জিস্ফিয়ারের প্রধান নির্বাহী ও প্রবন্ধের চতুর্থ লেখক স্বপন দেশাই তিন লেখকের সরে যাওয়া নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে করোনার চিকিৎসার পক্ষে প্রকাশ্যে সুপারিশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে এক গবেষণা প্রতিবেদনে ল্যানসেট দাবী করে, হাসপাতালে ভর্তি ৯৬ হাজার করোনা রোগীর মধ্যে কয়েকজনের চিকিৎসা চলেছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে। তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা অন্যান্য রোগীদের থেকে বেশি, যাদের অন্য ওষুধে চিকিৎসা চলছে।

পিটাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক ওয়ালিড গেল্যাড বলেছেন, যখন নামী জার্নালে এ ধরনের লেখা প্রকাশিত হয় আর ১০ দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করতে হয়, তাতে অবিশ্বাস বেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছু হয় না।