গার্মেন্ট নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করুন – ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরতা ও নজরদারি কমিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোযোগী হতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, এবারের বাজেটকে মানুষের জীবন ও জীবিকার কেন্দ্রবিন্দু করুন। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে তৈরি পোশাকশিল্প বড় ভূমিকা রেখেছে রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও সহযোগী খাতের মাধ্যমে। কিন্তু করোনাভাইরাসের চলমান বাস্তবতায় দায়-দায়িত্বের পরিচয় দেয়নি মালিকরা। শ্রমিকদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেড়েছে। আবার নেতৃত্ব ও মালিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি অর্থনীতি, জীবন ও জীবিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়ে যাচ্ছে। ক্রেতারা দেউলিয়া ও ক্রয়াদেশ প্রত্যাহারে উৎকণ্ঠার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। পোশাকশিল্প মালিক সংগঠনগুলোকে ক্রেতাদের সঙ্গে দরবার করতে দেখা গেলেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। এরই মধ্যে বিজিএমইএ শ্রমিক ছঁাঁটায়ের কথা বলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মাত্রা বেড়ে গেছে। প্রণোদনা পরিশোধেও ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, চলমান বাস্তবতায় এখন আশু পরিকল্পনা দরকার। কারণ, আগামী দিনে কর্মসংস্থান কমবে। পোশাক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ধারণা বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জ হবে। দরিদ্র মানুষ বাড়বে। নতুন ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। পুরনো শ্রমিকরা কাজ না পেলে না খেয়ে থাকবেন। তখন নতুনরা কোথায় যাবেন। এতে দুর্ভোগ ও অস্থিরতা তৈরি হবে। তাই এই মানুষগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা এখনই গ্রহণ করতে হবে।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পে নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য শিল্প খাত বহুমুখীকরণ খুবই প্রয়োজন। কিন্তু শিল্প খাত বহুমুখীকরণের কথামালা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এত প্রণোদনা দেওয়া সত্ত্বেও পোশাকশিল্প তার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়েনি। উৎপাদনশীলতা নড়বড়ে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়েনি। এখন পোশাকশিল্পের নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের দিকে যেতে হবে। সেখানে উৎপাদনের বহুমুখীকরণ দরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প অভিবাসন কেন্দ্রিক। মানুষ গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন বা বিদেশে গেছেন। গ্রামের ছদ্ধ বেকার ও আধা বেকারের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে চাহিদার পরিবর্তন হবে। অনেক পণ্যের বাজার কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটবে। এই শ্রমিকদের অন্য খাতে নিয়োজনের বড় পরিকল্পনা দরকার। কোনো কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই করতে হলে আইনি অধিকার মেনে করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া অর্থের সুযোগ গ্রহণ করে নয়, দেশীয় বাস্তবতা মানতে হবে। অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অশনি সংকেতগুলো সামনে রেখে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় সামাজিক সংহতিতে বড় চাপ বাড়বে। এর মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা সার্বজনীন করতে হবে। এর আওতা বাড়াতে হবে। এজন্য মানুষের জীবন ও জীবিকার সমন্বয় দরকার। আসছে বাজেটে এ বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকা দরকার।
bd protidin