বিদ্যুৎ সংযোগের নামে চাঁদা আদায়!

গত ২০ মে রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত যশোরের বেনাপোল ও শার্শা উপজেলা এলাকার মানুষ। ছোট-বড় গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে ঘরবাড়ি এবং বৈদ্যুতিক তারের উপর। ঘরবাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে বেনাপোল-শার্শায় গাছ ও দেয়াল চাপা পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়। টানা ৯দিন অতিবাহিত হলেও এখনো উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি।

এদিকে কিছু কিছু এলাকায় টাকার বিনিময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জানিয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোন লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। কেউ যদি প্রমান করতে পারে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌর এলাকার বিদ্যুৎ সেক্টরে ব্যাপক ক্ষতি হয়। গত ২০ মে বিকালের পর থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই এলাকার দুইশতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। তার ছিঁড়েছে কয়েক হাজার জায়গায়। ঝড়ের পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল হতে লাইনম্যান ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত লেবাররা বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু করার কাজ শুরু করে। সমগ্র উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলেও ইতোমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ৯দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এখনো অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। বিদ্যুৎ কর্মীরা দিনরাত কাজ করছে।

শার্শার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিপূর্ণ ভাবে নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।

এদিকে,ট্রান্সফরমার বদল এবং বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতে কর্মরত শার্শা বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব কাজের জন্য প্রতিটি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লাইন সংযোগের জন্য মিটার প্রতি সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা, আবার ইজিবাইক ওয়ালারা যে স্থান থেকে ব্যাটারি চার্জ নিয়ে থাকেন সে সমস্ত জায়গা থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে যে সমস্ত গ্রাহক আগে টাকা দিবেন শুধুমাত্র তাদেরকেই লাইন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। আবার টাকা দিতে অস্বীকার করলে লাইন সংযোগের ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে বলে জানা যায়।

বেনাপোল এর বাসিন্দা বন্দরের ৫নম্বর গেটের সামনে বাড়ি আলামিনের কাছ থেকে ৫০০ টাকা, আশিক রহমানের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়ে লাইন সংযোগ দেওয়া হয়। এস কে আমান জানান ছোট আঁচড়া থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। বোয়ালিয়া বাজারের আজিজুর পিংকু বলেন, টাকা দিতে অস্বীকার যাওয়ায় তার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে বলেছেন কতিপয় ছোট খাট নেতারা বিদ্যুৎ লাইনম্যানদের সাথে যোগাযোগ করে নিজ নিজ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে নিচ্ছে। যাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

বেনাপোলের শরীফ উদ্দিন নামে একজন গ্রাহক জানান, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। ফ্রিজের মধ্যে রাখা মাছ মাংস সবজি সব শেষ। অন্ধকারে হ্যারিকেনের আলোতে ছেলে মেয়েরা পড়তে পারছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি তুলতে পারছি না। প্রাকৃতিক কাজে চাপকল থেকে পানি এনে কাজ সারতে হচ্ছে। টাকা দিয়ে সংযোগ নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শার্শা জোনাল অফিসের ডিজিএম হাওলাদার রুহুল আমিন বলেন, এই অফিসের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা এক লাখের অধিক। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এই এলাকার ২ শতাধিত বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। তার ছিঁড়েছে কয়েক হাজার জায়গায়। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোন লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। এর আগেও শার্শা জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে অনেক কথা লেখা হয়েছে। আমাদের কোন লোক এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। কেউ যদি প্রমান করতে পারে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।