জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ভার্চুয়াল আলোচনাসহ ১২ দিনের কর্মসূচি

ধবার (২৭ মে) দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৩০ মে সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় ঢাকায় শের-ই বাংলানগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শুধু জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পুষ্পস্তবক অর্পণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকাল সাড়ে ৩টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। এছাড়া ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডের ওপরে বিষয়ভিত্তিক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। এতে দেশের কয়েকজন বরণ্যে বুদ্ধিজীবী ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন।
মির্জা ফখরুল জানান, আলোচনা সভার বিষয়গুলো হচ্ছে- ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জিয়া’, ‘গণতন্ত্র, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বিএনপি’, ‘জিয়া ও উৎপাদন-উন্নয়নের রাজনীতি’, ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও অর্থনৈতিক সংস্কার’, ‘জিয়ার কৃষি বিপ্লব’, ‘নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু কল্যাণ’, ‘কর্মসংস্থান ও শ্রমিক কল্যাণ’, ‘শিক্ষা ও গণশিক্ষা’, ‘পল্লী বিদ্যুত ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন’, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ’, ‘জিয়ার বিদেশনীতি’ এবং ‘জিয়ার যুব উন্নয়ন’।

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মহানগরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী, বন্ত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘এসব সামগ্রী বিতরণকালে কোনো মতেই কোনো সমাবেশ করা যাবে না- এটা আমরা জোর দিয়ে বলছি। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে যেটা বলা হয়েছে এটা মেনে চলাটা আমাদের একটা দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, কোবিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের কারণে কোনো সমাবেশ বা জমায়েত করে প্রতি বছরের মতো দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা সম্ভব হবে না। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো সমাবেশ বা জমায়েত না করে ভার্চুয়াল ডিসকাশন, কোনো ভার্চুয়াল মিটিং করে আমরা তাকে স্মরণ করবো।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের একটা পরিচিতি দিয়েছিলেন এবং তারা যে একটা স্বাধীন স্বয়ং সম্পূর্ণ জাতি সেই স্বপ্ন তৈরি করেছিলেন তিনি, মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন অল্পসময়ের মধ্যে। আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আহবান জানাতে চাই, আসুন ৩০ মে এই মহান রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করি এবং তিনি যে কাজগুলো করে যেতে পারেননি, সেই কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্যে আমরা বিএনপি একযোগে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিশিষ্ট কয়েকজন নাগরিকসহ যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত এবং করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আশু রোগমুক্তি কামনা করছি।’

সারাবাংলা/এজেড/এমআই