জাতীয় এই সংকট মুকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আ স ম আবদুর রবের খোলা চিঠি: সা কা ম আনিছুর রহমান খান কামাল

দীর্ঘ প্রায় দুই মাসেরও অধিক সময় পাড় হতে চলেছে গোটা দেশের স্বাভাবিক
জনজীবনও অর্থনৈতিক জীবন স্থবির হয়ে আছে ৤ মহামারীর প্রকোপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে ৤ মানুষ ঘর থেকে বের হতে দ্বিধান্বিত ৤ যান চলাচল বন্ধ ৤ হাট বাজারও স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে ৤ জনগণের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা অচল ৤ যারা বিপুল সম্পদের অধিকারী তাদের জীবনে অফুরন্ত অবসর৤ কেউ তাস খেলে , কেউ গান গেয়ে , কেউ নিত্য নতুন খাবার খেয়ে আরাম আয়েশে টিভি দেখে দিন যাপন করছে ৤ কিন্তু যারা স্বল্প আয়ের মানুষ , যা আয় করেন তাই দিয়ে কোনভাবে দিন গুজরান করেন তাদের সঞ্চয় দিয়ে দীর্ঘকালব্যাপী এভাবে দিন কাটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে ৤ সরকারী , স্বায়ত্বশাসিত , আধাস্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরী করেন তাদের মাস শেষে একটা ব্যবস্থা আছে কিন্তু যারা তা নয় , কাজ না করলে বেতন বা মজুরী জুটে না তারা পড়েছেন বিপাকে৤ এই ফাঁকে কতিপয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আবার কৌশলে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে ৤ ছাঁটাই করতে গিয়ে আদালতের এখতিয়ার এড়ানোর জন্য কর্মীদের ছাটাই বা চাকুরিচ্যূতি শব্দ ব্যবহার না করে ‘অপ্রয়োজনীয়‘ শব্দ ব্যবহার করে কর্মীদের ছাঁটাই করছে ৤ বেতন নাই , মজুরী নাই।

এই অবস্থায় শ্রমজীবী কর্মজীবী পেশাজীবী জনগণের জীবন আজ পর্যুদস্থ ৤ তাদের পক্ষে ঘরে অলস বসে থাকা অনাহারে মৃত্যুর সামিল ৤ এদেরকে খাদ্যসামগ্রী দেবার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ৤ তা বিতরণে স্বচ্ছতা নাই ৤ সে কারণে সবার ঘরে এসব খাদ্য সামহ্রী পৌঁছে নাই ৤ দায়িত্ব যাদেরকে দেওয়া হয়েছে দলীয় বিবেচনায়, তাদের বিরুদ্ধে এসব খাদ্য সামগ্রী তছরুপাত করার অভিযোগ আসছে ৤ সুদক্ষ ‘শৃঙ্খলা বাহিনী‘ এই সব তছরূপ হওয়া খাদ্য সামগ্রী উদ্ধারও করছে ৤ এই রকম অকাট্য অভিযোগে অর্ধশতাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সরকার বরখাস্ত করেছে এবং এই প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত চলমান আছে ৤ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব তছরূপকারী ও তাদের সহযোগীদেরকে নিবৃত ও প্রতিহত করার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং ‘জিরো টলারেন্স‘ ঘোষণা করেছেন কিন্ত এইসব তছরূপকারীরা তাতে নিবৃত্ত হয়নি৤ তারা এইসব খাদ্য সামগ্রী তছরূপ করার কাজ অবাধ গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে ৤ প্রশ্ন হচ্ছে এ সাহস ও স্পর্ধার উৎস কোথায় !

এই সংকট শুরুর কয়েক মাস আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা বাহিনী‘ অভিযান পরিচালনা শুরু করে ৤ তারা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে দুর্নীতির দূর্গে আঘাত হানতে থাকে৤ ভদ্রবেশী প্রভাবশালী দূর্নীতিবাজরা একে একে ধরা পড়তে থাকে ৤ এরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে শাসক দলের ছত্রছায়ায় অবস্থান করছিল , ‘শৃঙ্খলা বাহিনী ‘ সেদিকে কোন পরোয়া না করে এদেরকে ধরে ফেলে ৤ জনগণ এতে স্বস্থি পায় ৤ তাদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আস্থা বেড়ে যায় ৤ এই কার্যক্রম আকস্মিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায় ৤ অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে এই সব রাঘব বোয়ালদের কেউ কেউ কারামুক্ত হবার পথে অনেক দূর এগিয়ে যায় , কিন্তু বিধি বাম তারা গোপনীয়তা রাখতে পারে নাই৤ সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যায়, তাদেরকে কারাগারেই থাকতে হয় ৤ এই সব দুর্নীতিবাজ , ত্রাণ সামগ্রী ও টি সি বি এর পণ্য সামগ্রী তছরূপকারী , কাগজে কলমে দুঃস্থ সাজিয়ে নিজেদের স্বজনদেরকে নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে দুঃস্থ , অভাবগ্রস্থ ও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত তহবিল তছরূপকারী দুষ্টচক্র দিনে দিনে প্রভূত শক্তি অর্জন করেছে ৤ এদের দাপট এতদূর পর্যন্ত বেড়ে গেছে যে এরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নথি পর্যন্ত সরিয়ে তাতে নিজেদের সুবিধা মত পরিবর্তন করছে ৤ এমনও অভিযোগ আছে যে এইসব দুষ্টচক্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দস্তখত পর্যন্ত জাল করার স্পর্ধা দেখিয়েছে ৤ এ বিষয়গুলো কোন ভাবেই শুভ লক্ষণ নয় ৤

আন্তমহাদেশীয় মহামারী যখন আমাদের সামনে মারাত্মক বিপদরূপে প্রাদূর্ভূত হয়েছে সে সময় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী গবেষকগণ এগিয়ে এসেছেন এই মহামারী থেকে জনগণকে নিরাপদ রাখার উপায় বের করতে ৤ আমাদের জাতীয় জীবনের যে কোন সংকটকালীন মুহূর্তে ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকা সর্বজনবিদীত ৤ তিনি এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তাঁর সংস্থার ডঃ বিজন কুমার শীল কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘কিট‘ ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে সাড়া পাচ্ছেন না ৤ এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে এবং হচ্ছে ৤ তাঁর সাথে এই অসহযোগিতা করার ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ৤ চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. সমীর কুমার সাহা ও তাঁর বিদূষী কন্যা ঢাকা শিশু হাসপাতালে চাইল্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক ডা. সেঁজুতি সাহা ও তাঁর সহকর্মী গবেষকগণ করোনা ভাইরাসের ‘জিনোম সিকোয়েন্স‘ উদ্ঘাটন করেছেন বলে জানা গেছে ৤

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ আক্তারুজ্জামান লিখেছেন, জিনোম সিকোয়েন্স করা এখন রোগের মূল অনুসন্ধানের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে৤ একে বলা হয় ‘জিনোমিক প্রেডিকশন৤ তিনি বলেন, ‘একটি ভাইরাস সংক্রমণ যখন জনসংখ্যার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তখন সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষকদের ভাইরাসটির জেনেটিক পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করতে সহায়তা করবে৤ ‘ অধ্যাপক ড. শরীফ আক্তারুজ্জামান এবং তাঁর সঙ্গীগণও গত মার্চ ২০২০ খ্রিঃ এ করোনা উত্তরণের জন্য সরকারের সহায়তা চেয়ে নিরাশ হয়েছেন বলে খবর প্রচারিত হয়েছিল ৤ দেশের এইসব কৃতি সন্তানদের গবেষণাকর্মকে উৎসাহিত এবং সার্বিক সহায়তা করা সকলেরই পবিত্র দায়িত্ব ৤ কিন্তু সরকার , স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে কতটুকু উদ্যোগী ও আন্তরিক বাস্তব পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে৤ ‘প্রাত্যহিক স্বাস্থ্য বুলেটিন‘ কে পড়বন এটা নিয়েও অনাকাঙ্খিত অভ্যন্তরীণ কলহ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে৤

এসব বিষয়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যন্ত অশালীন ও লজ্জাকর৤ উচ্চশিক্ষিতদের এহেন আচরণ ও ভাষা সাধারণ জনগণকে লজ্জিত , ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে৤ যার ফলে এইসব দেখে মনে হচ্ছে সরকারের ভালো কাজগুলো সম্পন্ন এবং তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেবার পথে সরকারের অভ্যন্তরে অবস্থান করেই কিছু ব্যক্তি কাজ করছে ৤ তারা উচ্চস্বরে জয়ধ্বনি দিচ্ছে , দলীয় পরিচয়সূচক পোষাক পরিধান করে জনগণকে জুজুবুড়ির ভয় দেখাচ্ছে এবং কল্পিত শত্রুর বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়ছে ৤ তারা ভাবছে জনগণ বাস্তবতার খোঁজ খবর রাখে না৤ তারা যা বলবে জনগণ সেটাই বিশ্বাস করবে কিন্তু আসলে কি তাই ! গোপনে বর্ণিত মতে এরাই তছরুপাতসহ নানাবিধ অপকর্ম করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে ৤ এরা কোন মতেই সরকারের শুভাকাঙ্খী নয় ৤ সুযোগ সন্ধানী মাত্র৤ যেহেতেু এখানে সরকারের প্রশ্ন আসছে এবং সরকার এর কার্যক্রম চলে ‘সংযুক্ত তহবিল‘ দিয়ে ; আর এই সংযুক্ত তহবিলের উৎস হচ্ছে জনগণের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের কর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় এবং প্রজাতন্ত্রের মালিক হচ্ছে জনগণ ৤ তাই এই ব্যক্তিবর্গের আচরণ এবং সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার জনগণ রাখে ৤ দেশের বর্তমান অবস্থায় জনগণ আজ উদ্বিগ্ন উৎকন্ঠিত ৤ বিশ্বব্যাপী মহামারীর প্রাদুর্ভাবের ছোবল থেকে বাংলাদেশের জনগণ পরিত্রাণের পথ খুঁজছে ৤

সাম্প্রতিককালে উন্নয়নের যে ঢাকঢোল পিঠানো হয়েছে তা যে কেবলই ফক্কিকার , অন্তসারশূণ্য ; জনগণ সেটা বুঝে গেছে ৤ করোনার হামলায় রাজধানী আজ অরক্ষিত ৤ প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে ৤ আক্রান্ত ও মৃতের অধিকাংশই ঢাকা মহানগরের বাসিন্দা ৤ জনগণের ধারনা করোনায় মৃত বলে যে হিসাব সরকারীভাবে দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে নয়-ছয় আছে ৤ ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যারা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করছেন তাদেরকে করোনায় মৃত বলে ধরা হচ্ছে না৤ এদের হিসাব আলাদা করেও দেখানো হচ্ছে না ৤ আবার পরীক্ষা-নীরিক্ষার ফলাফলও একই রোগীর ক্ষেত্রে কখনো ‘ধনাত্মক‘ আবার কখনো ‘ঋণাত্মক‘ হচ্ছে [ জাতীয় অধ্যাপক ডঃ আনিছুজ্জানের ক্ষেত্রেও এরূপ হয়েছে বলে প্রচার মাধ্যমসূত্রে জানা গেছে ] ৤ যার ফলে বিভ্রান্তির শেষ নাই ৤ এই প্রাদুর্ভাবের ফলে ঢাকা মহানগরের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে বলেই স্পষ্টত অনুধাবন করা যাচ্ছে ৤ রাষ্ট্রপরিচালনার সকল পর্যায়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা ৤ এই মহাসংকট থেকে জনগণ মুক্তি চায় ৤ দেশ এবং জনগণের স্বার্থেই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে৤ পরস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে সরকারের একার পক্ষে এই দুর্যোগময় পরিস্থিতির মুকাবিলা করা সম্ভব নয় ৤

সবকিছু উদারনৈতিকভাবে বিবেচনা করে ‘জাতীয় ঐক্যফন্ট‘ নেতৃবৃন্দ ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে নিজেরা মিলিত হয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন৤ সর্বজননেতা ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর , আ স ম আবদুর রব , ড. আবদুল মঈন খান , মাহমুদুর রহমান মান্না , ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী , অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী প্রমুখ যুক্ত বিবৃতিতে পাঁচ দফা প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করেন৤ তাতে বলা হয়, দল–মতনির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ‘জাতীয় ঐকমত্য‘ গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বদলীয় টাস্কফোর্স গঠন এবং জাতীয়-আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, কর্মহীন শ্রমিক, নারী পোশাকশ্রমিক, দিনমজুর, প্রান্তিক কৃষক, প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল শিশুসহ অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য অবিলম্বে খাদ্যসামগ্রীর ন্যায্যমূল্যে রেশনিং চালু করা এবং করোনাভাইরাস পরবর্তী আর্থসামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘আপত্কালীন অর্থনৈতিক কাউন্সিল‘ গঠন করা৤
এই দাবীনামায় কোন রাজনৈতিক মতভেদের কথা নেই ৤ এতে সংকটকালীন সময়ে জনগণকে পুনরুদ্ধার করার কথা ও পন্থা বাতলানো হয়েছে৤ নেতৃবৃন্দের এই রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রস্তাবে তাঁদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার প্রকাশ ঘটেছে ৤ কিন্তু এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে এই প্রস্তার করা হলেও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ সরকার নেয়নি৤ সরকারের এই আচরণ জনগণের ভোগান্তিকেই বাড়িয়ে দিচ্ছে ৤ মহামারীর প্রকোপ বৃদ্ধির সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ তছরূপের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে ৤

এই ক্রমঅবনতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল , জে এন ডি এর সভাপতি জননেতা আ স ম আবদুর রব প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি প্রদানের মাধ্যমে আশু করনীয় সুপারিশমালা পেশ করেছেন৤ তিনি বলেছেনঃ
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
আসসালামু আলাইকুম৤
করোনায় সৃষ্ট বৈশ্বিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশও গভীর সংকটগ্রস্ত৤ একদিকে স্বাস্থ্যসেবা অন্যদিকে আর্থসামাজিক সংকট দুটোই নির্মম বাস্তবতা৤ এ ভয়াবহ সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য অনিবার্য৤ জাতীয় ঐক্যই সমগ্র জাতির মাঝে উচ্চতর আত্মমর্যাদা বোধের জন্ম দেবে এবং ন্যায়বোধ ও মানবিক শক্তির বিকাশ ঘটাবে৤ জাতীয় ঐক্যের ফলে গড়ে উঠা সম্মিলিত প্রয়াস ও মনোবল আরো শক্তিশালী হবে এবং দুর্যোগ উত্তরণ সহজ হবে৤
পক্ষান্তরে একপেশে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরাক্রমশালী ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রাষ্ট্রীয় অরাজকতাকে প্রণোদনা জোগাবে, আগামীর সমাজ কাঠামোকে বিপন্ন করবে এবং অমানবিক অনৈতিক এক রাজনীতির উত্থান ঘটাবে৤
ইতিমধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা সহ জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা,করোনা মোকাবেলায় রোড ম্যাপ প্রকাশ,সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ত্রাণ বিতরন ও খাদ্য ঝুঁকি নিয়ে প্রস্তাবনা পেশ করেছি৤
আজ আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনার সমীপে উত্থাপন করছি৤
করোনায় আমাদের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে৤ কয়েক কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে দারিদ্র্যসীমার নীচে অবস্থান করছে৤ ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, চিকিৎসা, নগদ সহায়তা ও পুনর্বাসনে বিরাট অর্থের প্রয়োজন৤ রাষ্ট্রীয় উৎসের বাইরে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির বিরাট অংশ দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের করায়ত্বে৤
রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও ভয়ংকর লুন্ঠনে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক দুর্বৃত্ত চক্র গড়ে উঠেছে এবং দুর্নীতির কালোছায়া সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকি স্বরূপ৤ বিদ্যমান মানবিক বিপর্যয়েও ত্রাণ চুরি আত্মসাৎ এবং লুন্ঠনের যে ভয়াবহ দলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্র উম্মোচিত হয়েছে তা জাতির জন্য লজ্জাকর৤ ইতোপূর্বে যে সকল দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে প্রতিটিতেই অবৈধ সম্পদের ভয়াবহচিত্র, টাকার গোডাউন, স্বর্ণালংকারের স্তুপ আবিষ্কৃত হয়েছে৤ আপনার দুর্নীতি বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দেয়ার পরও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান কেন ব্ন্ধ তা বোধগম্য নয়৤

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

এই দুর্নীতিবাজরা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলকে বির্তকিত এবং বঙ্গবন্ধুকে কি পরিমাণ মানসিক যাতনা দিয়েছে তাও আপনি অবগত৤ দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার আপনার দৃঢ় অংগীকার বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়৤

কারণ: ১. লকডাউনের ফলে দুর্নীতিবাজরা এখন দেশে অবস্থান করছে৤ আকাশপথ জলপথ স্থলপথ সহ সকল পরিবহন এবং সীমান্ত পথে যাতায়ত বন্ধ থাকায় বিদেশ পাড়ি দেয়ার তাদের সুযোগ নেই৤ এমন কি লক ডাউনে বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পর্যন্ত ধরা পড়েছে৤

২.বিদ্যমান বাস্তবতায় টাকার গোডাউন স্থানান্তর এবং অর্থ পাচার করাও দূরূহ৤
যেহেতু করোনায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সারা দেশে নিয়োজিত তাই র্যাব কতৃর্ক সূচিত দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে নতুন উদ্যোমে শুরু করা জরুরী৤ এই কার্যক্রম বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার করে নিরন্ন মানুষের খাদ্য জোগান দেবে৤ অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারীদের আইনের আওতায় আনার রাষ্ট্রীয় কর্তব্য সম্পন্ন করবে৤
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আশা করছি দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পুনরায় গতিশীল করার মাধ্যমে আপনি ঘুণে ধরা রাষ্ট্রব্যবস্থা বদল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করবেন৤
আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি৤
শুভেচ্ছান্তে
আ স ম আবদুর রব
২রা মে ২০২০ খ্রিঃ
উত্তরা,ঢাকা৤ ‘
এখানে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে পরিস্থিতি উল্লেখ পূর্বক আশু করনীয় বিষয়াদি বর্ণিত হয়েছে ৤ পরিস্থিতি মুকাবিলায় ‘জাতীয় ঐক্য‘র বিকল্প নাই৤ এই ঐক্য কার্যকরীভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণকে মহামারীর এই প্রাদুর্ভাব কালে চিকিৎসক নির্দেশিত নিরাপদ অবস্থানে থাকতে কার্যকরীভাবে উদ্বুদ্ধ করা যাবে , বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কার্যক্রম জাতীয় স্বার্থে সাবলীলভাবে পরিচালিত করা যাবে, দুর্নীতিবাজদের দমন করা সম্ভব হবে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তছরূপকৃত অর্থ বিদেশে পাচার রোধ করে , তা উদ্ধার অন্তে কাজে লাগানো যাবে ৤ জনগণের মনোবল দৃঢ় এবং জাতীয় স্বার্থে স্বতপ্রণোদিতভাবে গতিশীল হবে৤ আমাদের সেনাবাহিনীর দৃঢ়তা সততা নিরপেক্ষতার কারণে জনগণের কাছে তারা আস্থার পাত্র৤ জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে তারা পরিচালিত হলে সংকট মুকাবিলায় সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপই সফল হবে৤ জনাব আ স ম আবদুর রবের চিঠি রাষ্ট্রপরিচালনায় প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচায়ক এবং এর মধ্য দিয়ে তার রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ৤ তার এ আহ্বান কোন ব্যক্তি পরিবার বা দলের জন্য নয় , এ আহ্বান সারা বাংলার জনগণের কল্যাণের জন্য ৤ জনগণ আশা করে সরকার এ আহ্বানে সাড়া দেবেন এবং সংকট থেকে উত্তরণে সুপারিশকৃত
আশুকরণীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবেন৤
(লেখকঃ সাবেক জেলা ও দায়রা জজ। বর্তমানে অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট , হাইর্কোট বভিাগ , ঢাকা; এবং কার্যকরী সভাপতি ও সদস্য স্থায়ী কমটিি , জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জে এস ডি ) ।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এই চিঠির সাথে সুর মিলিয়ে সকল দলের ঐক্যের আহ্বান কিছুসময় ( ১৯ শে মে ২০২০ খ্রিঃ অপরাহ্নে ) আগে জানিয়েছেন ৤ বাস্তবে এটা কতটুকু আন্তরিকতাপূর্ণ সেটা এখন জনগণের দেখার বিষয় ৤