ঈদের নামাজ ঘরে পড়ার বিষয়ে দেওবন্দের ফতোয়া

প্রাণঘাতি করোনা মহামারীর কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতরের নামাজ ঘরেই পড়ার আহ্বান জানিয়েছে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ।
করোনার কারণে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদের নামাজ আদায় প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ফতোয়া বিভাগে একটি প্রশ্ন করা হলে তার জবাবে এমন আহ্বান জানানো হয়।
দেওবন্দ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত ফতোয়াটিতে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে জুমার নামাজের পরিবর্তে যেমন জোহর পড়ার অবকাশ ছিল, তেমন অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঈদের নামাজ ঘরেও পড়া যাবে।
ফতোয়াটিতে আরও বলা হয়, জুমার নামাজের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, ঈদের নামাজের জন্য ঠিক সেই শর্তগুলোই প্রযোজ্য। পার্থক্য শুধু এতোটুকুই জুমার নামাজের খুৎবা ওয়াজিব এবং নামাজের আগে দিতে হয়, আর ঈদের নামাজের খুৎবা সুন্নত এবং নামাজের পরে দিতে হয়।
তাই, অবস্থা যদি এমনই থাকে এবং দেশে আরোপিত লকডাউন কার্যকর থাকে তাহলে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ নিজের ঘরেই পড়ে নিবেন। গ্রহণযোগ্য কোনো কারণে যারা নিজের ঘরেও পড়তে পারবেন না, আশা করা যায় আল্লাহতায়ালা তাদের ক্ষমা করে দিবেন।
ফতোয়াটিতে স্বাক্ষর করেছেন দেওবন্দ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি, সিনিয়র শিক্ষক মুফতি হাবিবুর রহমান খায়রাবাদি, মুফতি মাহমুদ হাসান বুলন্দশহরি, মুফতি যাইনুল ইসলাম, মুফতি ওয়াক্কার আলি এবং মুফতি নোমান সিতাপুরী।
ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোববার চতুর্থ দফার লকডাউন আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল ফিতরের নামাজ বিষয়ে দেওবন্দ মাদ্রাসার ফতোয়াটি জারি করা হয়।

প্রসঙ্গত, মসজিদে গিয়ে জামাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যদিও ভারতে সরাসরি এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

তুরস্ক, সৌদি আরব, সিরিয়া, ইরাক, আলজেরিয়া ও মিসরে ঈদের জামাতে ব্যাপক লোকসমাগমের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মিল্লাত টাইমস উর্দূ অবলম্বনে- মুহাম্মাদ বিন ওয়াহিদ