সিঙ্গাপুরে শ্রমিকদের নতুন বাসস্থল, আছে এসি, টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই

বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে কাজ করতে যাওয়া শামিন খান (৩৫) তার নতুন রুম নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। জনাকীর্ণ ডরমিটরি থেকে তার মতো অনেক অভিবাসী শ্রমিকের জন্য নতুন থাকার জায়গা ঠিক করেছে দেশটির সরকার। তিনি বলেন, ‘এখানে জায়গা অনেক বেশি। আমাদের ফ্রি ওয়াইফাই আছে। ফলে বাড়িতে পরিবারের সাথে ভিডিওচ্যাট করতে পারি।’

হেভিলক সাবওয়ে স্টেশন নির্মাণস্থলের পাশেই এই নয়া বসতি ঠিক করেছে সরকার। অভিবাসীদের জনাকীর্ণ ডরমেটরি করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে দেখা দেওয়ার পর, তাদেরকে আধুনিক আবাসস্থলে পাঠানোর চিন্তা করে সরকার। নতুন বাসস্থানে শ্রমিকরা যেন ভিডিওকলের মাধ্যমে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন, সেজন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই দেওয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ।

খবরে বলা হয়, শামিন খান যেখানে এখন থাকেন, তা চালু হয় ফেব্রুয়ারিতে।
এখানে ১৮ জন শ্রমিক থাকেন। সেখানে এয়ারকন্ডিশনিং সুবিধাও আছে। পাশাপাশি, বেডগুলো একে অপরের চেয়ে ২ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। যেমনটা আগের ডরমিটরিতে চিন্তাও করা যেত না। আগের ডরমিটরিতে একটি কক্ষেই ১০ বা তারও বেশি শ্রমিক থাকতেন। অপরদিকে নতুন আবাসস্থলের নকশাটাই এমন যেন, সংক্রমণ ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এখানে ফল আর কোমল পানীয়ও পাওয়া যাবে। আছে টিভি সহ অবসরকক্ষ। শ্রমিকরা এই নতুন আবাসস্থল নিশ্চিতভাবেই উপভোগ করছেন। তবে এখান থেকে তাদের বের হওয়া মানা।

সিঙ্গাপুরে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের ৯০ শতাংশই হলো ঘন ডরমিটরিতে বসবাসরত অভিবাসী শ্রমিক। এ বিষয়ে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অভিবাসী শ্রমিকদের গণহারে টেস্টিং করা।

১লা মে সরকার নয়া এক পরিকল্পনার কথা জানায়। সেখানে শ্রমিকদের জন্য নতুন ডর্ম নির্মানের কথা বলা আছে। এই ডরমিটরি হবে এই হেভলক স্টেশনের মডেলের মতোই, যেন শ্রমিকদের গাদাগাদি করে থাকতে না হয়। এছাড়া ভিডিওকলের মাধ্যমে ডাক্তারের সেবা নেওয়া ছাড়াও, এসব ডরমিটরিতে মেডিকেল উপকরণ থাকবে যেন অকস্মাৎ কেউ অসুস্থ হলে জরুরী সেবা দেওয়া যায়। এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরজুড়ে এমন ১০০টি স্থাপনা ইতিমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে। তবে আরও বাসস্থান প্রয়োজন হবে। এজন্য জমি সংগ্রহ ও ভবন নির্মাণে সময় লাগবে বেশ। এছাড়া এসবের পেছনে খরচও হবে অনেক।

তবে এই মহামারির আগে থেকেও ঘন ডরমিটরিতে শ্রমিকদের বসবাস নিয়ে সিঙ্গাপুরে বিতর্ক হয়েছে। শ্রমিকরা কেন সমাজ থেকে একেবারে বিচ্যুত অবস্থায় থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তা সত্ত্বেও এতদিন ধরে সেই মডেল টিকে থাকলেও, মহামারির কারণে তা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত দিন