তালা খোলেনি ৩৬ মন্ত্রণালয় দফতরের

আটকে আছে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রকল্পের কাজও আটকে যাওয়ার আশঙ্কা

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবন। এ ভবনেই সবচেয়ে বেশি মন্ত্রণালয়। একেবারে ১৯ তলায় বেসামরিক বিবমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ এ মন্ত্রণালয়টি খুলেছিল ২৫ মার্চ। তারপর ৪৭ দিনেও মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষেরও তালা খোলেনি। আরও কতদিন এ অবস্থা চলবে কেউ জানেন না। এই ভবনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, নৌপরিবহন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ, নারী ও শিশু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। এসব মন্ত্রণালয়ের দু-একটি অবশ্য সীমিত আকারে খুলেছে। ২৬ এপ্রিলের পর থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খুবই সীমিত পরিসরে নিয়মিত খুলেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবও একইভাবে সীমিত পরিসরে অফিস করেছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ শাখা বন্ধ রয়েছে। একইভাবে এই দুর্যোগকালীন সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব মাঝে মধ্যে অফিস করছেন। তাদের মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো নিয়মিত স্বল্প আকারে খুলছে। একইভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরেও সীমিত আকারে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সীমিত আকারে মাঝে মধ্যে অফিস করছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিব। একইভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিবও অফিস করেছেন সীমিত আকারে। তবে এসব মন্ত্রণালয়ের বেশির ভাগ দফতরই বন্ধ রয়েছে। যেসব দফতরের জরুরি প্রয়োজন তারাই শুধু স্বল্প সংখ্যক লোক নিয়ে অফিস করেছে। এর বাইরে ৬ নম্বর ভবনের অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দরজা একবারের জন্যও খুলেনি সাধারণ ছুটির এই ৪৭ দিনে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ছুটির কারণে শুধু এসব মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের অন্তত ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও দফতরের তালা খোলেনি এই ৪৭ দিনে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার দফতরই খোলেনি ছুটির সময়টাতে। একই অবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। এসব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কেউই বন্ধের সময়টাতে অফিস করেননি। তবে ৪ নম্বর ভবনে অবস্থিত কৃষি, তথ্য, খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সীমিত পরিসরে নিয়মিত খুলছে। অবশ্য এসব মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ শাখাই বন্ধ রয়েছে। যেদিন যাদের প্রয়োজন শুধু তারাই অফিস করছেন। এই ভবনে অবস্থিত ভূমি মন্ত্রণালয় খোলেনি এক মাসেরও বেশি সময়। গত সপ্তাহ থেকে মন্ত্রী ও সচিবের দফতর সীমিত পরিসরে খুলেছে।

সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, অর্থ মন্ত্রণালয়।
এসব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে শুধু স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে মন্ত্রী ও সচিবের দফতর সীমিত আকারে খোলা রয়েছে গত কিছু দিন ধরে। এর আগে এই বিভাগও বন্ধ ছিল। আর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় পুরোপুরি বন্ধ। তবে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বাসায় বসেই অফিসের নথিপত্র স্বাক্ষর করছেন বলে জানা গেছে। ফলে এই মন্ত্রণালয়ের দফতরগুলোর দরজা খোলেনি গত ৪৭ দিনে। সমবায় বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও খোলেনি এই সময়ে। তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অনিয়মিতভাবে খুলেছে গার্মেন্ট ইস্যু নিয়ে। সচিবালয়ের ভিতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় দফতরগুলো বন্ধের শুরু থেকেই খুবই সীমিত আকারে খুলছে। তবে এসব মন্ত্রণালয়ের বেশির ভাগ দফতর বা শাখার দরজা খোলেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখা এবং সেবা সুরক্ষা শাখাও খুবই সীমিত আকারে খুলেছে। মন্ত্রী ও সচিব মাঝে মধ্যেই অফিস করেছেন। প্রয়োজন ছাড়া এই দুই শাখার অন্য কর্মকর্তারা অফিস করছেন না। ফলে বেশিরভাগ দফতরের দরজা খোলেনি। সচিবালয়ের বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সরকারের বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর। এর মধ্যে পরিসংখ্যান ব্যুরো, এনজিও ব্যুরো, পাসপোর্ট অধিদফতর, পরিবেশন অধিদফতর, বন ভবন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সবই বন্ধ রয়েছে। এসব দফতরের দরজা গত ৪৭ দিনে খোলেনি। বাজেটকে সামনে রেখে আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন কার্যালয় সীমিত আকারে খোলা রয়েছে।

একইভাবে তালা খোলেনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদফতর, জাতীয় শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ)। একইভাবে বেশিরভাগ অধিদফতর ও পরিদফতরের দরজা বন্ধ গত ৪৭ দিন ধরে।

এদিকে টানা ছুটিতে হাতেগোনা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও দফতর সীমিত আকারে খোলা থাকলেও বেশির ভাগ মন্ত্রণালয় ও দফতরে তালা ঝুলে থাকায় আটকে আছে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেগুলোর অনেকটাই এখন আটকে যাবে নানান জটিলতায়। সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রকল্পের কাজও আটকে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।