জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান আর নেই

শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বিকাল চারটা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। মহাখালীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে কিছু দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৯ই মে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়।
বর্ষিয়ান এই শিক্ষাবিদ ১৯৩৭ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলে থাকাবস্থাতেই তারা সপরিবারে ঢাকা চলে আসেন ।

কলকাতার পার্ক সার্কাস হাইস্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু ড. আনিসুজ্জামানের। পরে তার পরিবার বাংলাদেশে চলে এলে খুলনা জেলা স্কুলে ভর্তি হন। একবছর পরই আবার পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন ঢাকায়। প্রিয়নাথ হাইস্কুলে (পরবর্তী সময়ে নবাবপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল) ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক বা প্রবেশিকা পাস করেন তিনি। ১৯৫৩ সালে আইএ পাস করেন জগন্নাথ কলেজ থেকে।

উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ওই সময় ঢাবি বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। আরেক শিক্ষাবিদ শহিদ মুনীর চৌধুরীও তার শিক্ষক ছিলেন। এই বিভাগ থেকেই স্নাতকের পর প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন আনিসুজ্জামান।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে করে গবেষণা বৃত্তি নিয়ে বাংলা একাডেমিতে যোগ দেন ড. আনিসুজ্জামান। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই শিক্ষক স্বল্পতার কারণে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর শিক্ষকতা আর গবেষণা— দুটিই সমানতালে চালিয়ে গেছেন তিনি।

ব্যক্তিগতভাবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছাড়াও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইমেরিটাস অধ্যাপক। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ছাড়াও সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ভারত সরকারের দেওয়া তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদকও পেয়েছেন। এছাড়াও আনন্দবাজার পত্রিকার দেওয়া আনন্দ পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট. ডিগ্রি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক লাভ করেন ড. আনিসুজ্জামান। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট এই ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে তার কর্মজীবন শেষ করেন। পরে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপকের মর্যাদা দেয়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কর্ম রয়েছে। গবেষণা ও সাহিত্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ
পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।
জনজীবন অনলাইনের পক্ষ থেকে সম্পাদক ছমির উদ্দিন মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।