ইংল্যান্ডে লকডাউন শিথিলে ‘শর্তাধীন পরিকল্পনা’ প্রকাশ জনসনের

লকডাউন শিথিলে ‘শর্তাধীন পরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তার পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী বুধবার থেকে ইংল্যান্ডের বাসিন্দাদের বাইরে আরো বেশি সময় কাটানোর অনুমোদন দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, যাদের পক্ষে ঘরে থেকে কাজ করা সম্ভব নয় তারা চাইলে কাজে ফিরতে পারবেন, তবে তাদের গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে নিজের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন লকডাউন। আজ সোমবার এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশের কথা রয়েছে।
জনসন তার ভাষণে জানান, ইংল্যান্ডজুড়ে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা বৃদ্ধি করতে নতুন একটি পাঁচ ধাপের সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হবে। ওই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ড বর্তমানে ওই ব্যবস্থা অনুসারে চতুর্থ ধাপে রয়েছে, তবে ধীরে ধীরে তৃতীয় ধাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১লা জুনের মধ্যে স্কুলে ফিরে যেতে পারবে কিছু শিশুরা।
জনসন তার বক্তব্যে জানান যে, তার পরিকল্পনায় দোকানপাট খুলে দেয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তবে কেবলমাত্র বিজ্ঞান ওই পদক্ষেপে সমর্থন জানালে তবেই তা বাস্তবায়ন হবে। এরপর পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ১লা জুলাইয়ের পর ধীরে ধীরে আতিথেয়তা সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসা ও আরো কিছু জায়গা খুলে দেয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
জনসন বলেন, এগুলো সমাজ উন্মুক্তকরণের পরিকল্পনার খসড়ার অংশবিশেষ। আচমকা এই সপ্তাহের মধ্যেই লকডাউন খুলে দেয়ার মতো পরিস্থিতি নয় এখন। এর বদলে আমরা আমাদের পদক্ষেপে পরিবর্তন আনার প্রথম সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছি। জনসন আরো জানান, লকডাউন অমান্যকারীদের জন্য জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হবে।
জনসন জানান, ইংল্যান্ডবাসীকে ঘরের বাইরে পার্ক ও সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার অনুমোদন দেয়া হবে। তবে অবশ্যই দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া গাড়ি চালিয়ে দেশের অন্যান্য জায়গায় যেতে পারবেন তারা।
এদিকে, জনসনের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের অন্যান্য দেশ ও বিরোধী নেতারা। স্কটল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টার্জন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ ছিল এটা আরো জোরালোভাবে বলা যে, তার ঘোষিত পরিবর্তনগুলোর বেশিরভাগ কেবল ইংল্যান্ডেই আরোপ হবে।
জনসন তার বক্তব্যে ইংল্যান্ডে করোনা মোকাবিলায় নতুন স্লোগান প্রকাশ করেছেন। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড জানিয়েছে, তারা ধাপে ধাপে ও কৌশলগতভাবে লকডাউন প্রত্যাহারে নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরির কথা ভাবছে। এদিকে ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভওগান গেথিং জানিয়েছেন, দেশজুড়ে জারি করা বিধিনিষেধ অপরিবর্তিত থাকবে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি।