মরাদের কারনে আজো বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব এখনো ডাকাত রুখে জনগনের ঘুম ভাঙ্গিয়ে সমাজ ও বিশ্ব বদলের স্বপ্ন দেখে:ডাঃ বাতেন

আজ ৯/৫/২০২০ ইং রোজ বুধ বার লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগন্জ থানাধীন হাজির পাড়া বাজারে একটা ফার্মেসীতে আমি সহ আরো চার জন লোক বসা অবস্থায় বিভিন্ন কথার আলাপচারিতায় ব্যাস্ত। হটাৎ পরিচিত একজন ঔষধ কোম্পানির এম,আর এসে আমাকে সালাম দিয়ে বলল,বাতেন ভাই ফেইজ বুকে আপনার অনেক সুন্দর সুন্দর পোষ্ট পাই। কিন্তুু দলিয় ভাবে আপনারাতো মরে গেছেন। তার এরকম প্রশ্নের জবাব দিতে আমি একেবারে অপ্রস্তুুুত ছিলাম। আবার ভাবলাম মরা বলতে উনি কি বোঝাতে ছেয়েছিলো।

আমি একটা কথা জানি,এ পৃথিবীতে সত্যি কথা বলার ও সৎ পথে চলার লোকের সংখ্যা একেবারেই নগন্য। আমরা না হয় সে দিক থেকে সংখ্যায় কম হতে পারি। কিন্তুু সত্যের পথে আপোষহীন। তার সাথে আরেক জন বলল ভাই আপনার লেখা গুলো জটিল। যাই হোক, মেনি ম্যান, মেনি মাইন্ডস। তার পর আমি ঐ এম,আর কে বললাম। দেখুন ভাই, বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে তিন শ্রেনীর মানুষ আছে। এক শ্রেনী লুটে, আরেক শ্রেনী চিৎকারে, আর এক শ্রেনী ঘুমে। সে আমাকে বলল, বাতেন ভাই বুঝলামনা। একটু ক্লিয়ার করে বলুন। আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, ধরুন এক বাড়িতে ডাকাত ডুকেছে ডাকাতি করতে। বাড়ির লোক ঘুমিয়ে আছে। এখন এলাকার কিছুু সচেতন লোক গ্রামের বাড়ি গুলো ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা করতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। যখন ঐ ডাকাত গুলোকে ঐ বাড়িতে ডুকার পর পাহারা রত লোক গুলোর নজরে পড়ল। তখন ওরা জোরে জোরে চিৎকার দিতে লাগল, ডাকাত পড়েছে, ডাকাত পড়েছে। তবুও ঐ বাড়ির লোকগুলোর ঘুম ভাঙ্গেনা। ওরা এমন কাল ঘুমে ঘুমিয়ে আছে। এদিকে সচেতন এলাকা বাসির চিৎকারে ডাকাতরা ভাবল, যদি ঐ বাড়ির লোক গুলো জেগে উঠে, তাহলে এলাকাবাসী ও বাড়ির লোকের খপ্পরে পড়ে তাদেরকে ধরা পড়তে হবে। তাই ডাকাতরা ভয়ে সামান্য কিছুু সাথে নিয়ে প্রানের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছে।

কিন্তুু বাড়ির লোক গুলোর তখনো ঘুম ভাঙেনি। ঔষধ কোম্পানির এম,আরটা বলছে এই গল্পের শিক্ষা কি?যা আপনাকে মরা বলার কথার জবাবের সাথে প্রযোজ্য। আমি আবারো তাকে বললাম। ভাই এদেশে আপনারা যাদেরকে বড় বড় দলের নেতা ও লোক বলেন। ওরা বিভিন্ন ভাবে শক্তি সংগ্রহে ক্ষমতায় বসে জাতির বিভিন্ন স্তরে স্তরে ডুকে শাষনের নামে শোষণ করছে। মানে ডাকাতের মত সরাসরি লুটছে। এদিকে বোধহীন, শক্তিহীন দূর্বল চেতার জনগন কাল ঘুমে গা ভাসিয়ে ঘুমিয়ে আছে। এ লুটের বিরুদ্ধে তাদের কোন প্রতিবাদ নেই, প্রতিরোদ নেই। নেই কোন লুটেদের ফাকড়ানোর কোন ব্যাবস্থা। ঠিক ঐ বাড়ির লোকদের মত জনগন জনমের ঘুমে ব্যাস্থ। আর আমরা যারা মরে আছি, আপনার ভাষায়। আমাদের মত লোকেরাই এই ঘুমন্ত জনতাকে জাগাতে ও ডাকাত ফাকড়াও করতে সারা দেশ জুড়েই জাতির বিভিন্ন ইস্যুতে চিৎকার দিয়ে থাকি। আমরা এই কয়জন মরা লোক যদি চিৎকার দিয়ে এই ঘুমন্ত জাতিকে জাগানোর চেষ্টা না করতাম। তাহলে এ দেশ সহ সারা বিশ্ব লুটের যে মহা উৎসব চলছে, তবে সব কিছুু লুটে নিলে, নিছেরে নিছেরে বলে চিৎকার দেওয়ার লোক ও খুজে পাওয়া যেতনা। উদাহরন স্বরুপ ঐ এম,আরকে বলছি, ধরুন আপনারা লুটপাটকারী, আমরা মরারা চিৎকারকারী, আর জনগন কাল ঘুমে অচেতনকারী। এবার বলুন আমরা না থাকলে বলার ও কেউ থাকতনা এ দেশ ও বিশ্বটা পুঁজীবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও দলবাজ অপশক্তি গুলো গনতন্রের চাদরে, চেতনার চাদরে এ দেশ ও বিশ্বের ঘুমন্ত জনগনকে লুটে নিচ্ছে।

আমরা । এখনো আমাদের চিৎকারের কারনে চোর ডাকাতরা একবার হলেও থমকে যায়। ভাবে এই বুঝি জনগনের ঘুম ভাঙ্গল। আমাদের ফাকড়াও করবে। আর বুঝি আমাদের রক্ষা নেই। তাই তারা আমাদের মত মরাদের চিৎকারের কারনে জনগনকে ষোল আনা লুটতে পারেনি। আমরা চুপসে গেলে আর বলার ও কেউ থাকবেনা। এই বুঝি ডাকাতরা ঘুমন্ত জনগনের সব লুটে নিল।

আমার সব কথার জবাব শুনে ঐ এম,আর অবাক হয়ে গেল। বলল,ভাই এমন রাজনীতির যুক্তি পূর্ন দর্শন আমার জীবনে আর কখনো শুনিনি। আমি আপনার যথার্থ যুক্তির বিচারে সবটাই মেনে নিলাম। আসলে রাজনীতির দর্শনটা আপনারা মরারাই চর্চা করেন। ধন্যবাদ।
প্রিয় পাঠক, আমি আশা করি আমার এই যুক্তির নির্যাসের মাঝে হয়তো আপনারা খুজে পেতে পারেন, আপনাদের ভবিশ্যত রাজনীতির পথ চলার সঠিক ঠিকানা।
(সাধুর দেশে আমি পাপী + নীড় হারা পথিক) ডাঃ বাতেন