আমার দেখা বিশ্ব:নেতা বাবুল

জাহাজে চাকুরীর সুবাদে পৃথিবীর ১০৩ টি দেশ আর প্রায় পাঁছ শতাধিক বন্দর, শহর ভ্রমনের সুযোগ আমার ঘটে ছিলো , মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অর্থের মালিক বিল গেট মনে হয়, এত দেশ শহর যায়নি, অনেকে বন্ধু , সহকর্মী জাহাজ থেকে মিসিসিপি নদীতে, মেক্সিকোন গালফে ঝাঁপ দিয়া আমেরিকায় রয়ে গিয়া এখন অনেক টাকার মালিক, আর আমার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্হায়! আবার মনকে সায় দিয়া বলি যদি আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া পালিয়ে যেতাম তাহলে আমি তো পৃথিবীকে দেখতে পেতাম না, আমাকে বলতে হতো সূর্য অস্ত যায়, পূর্ব পশ্চিম উত্তর, দক্ষিন নামক কিছু আছে। আর অজস্র মিথ্যা আমাকে বলতে হতো আর গিলতে হতো ! আমীনও বলতে হতো ! অন্ততঃ মিথ্যা বলা থেকে বেঁচে গেলাম ! ( দুঃভাগ্য সে সময় এমন মোবাইল ক্যামেরা ছিল না, আর দামী ক্যামেরা কেনার সামর্থও ছিল না)

গাজীপুরের এ স্তম্ভ দেখে আমার একটি স্মৃতি চারন মূলক লিখা লেখার ইচ্ছা হলো। এশিয়া থেকে ইউরোপ , আমেরিকা, আবার আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে এশিয়া আসতে শতাধিক বার সুয়েজ খাল পাড়ি দিতে হয়েছিলো , দু পাশে খেঁজুর বাগান, মাঠ, গমের ক্ষেত, মাঝে এ পাড়ের লোক ওপাড়ে পারাপারের জন্য বোট বা নৌকা ষ্টেশান, সুয়েজ রক্ষায় মিসরীয় সেনাবাহিনীর চৌকি, ওয়েট স্কেল ( জাহাজের ওজন মাপার বিশেষায়িত পরিমাপক) মনোরম দৃশ্য ! মরুর দেশ হলেও সুয়েজের মিষ্টি পানি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ, বাগান গড়ে তোলা হয়েছে । এক জায়গায় এমন একটি ( গাজীপুরের স্তম্ভ) দেখা যায়। স্তম্ভের গায়ে আরবী লিখা দৃষ্টি গোচর হয়। কেন এ স্তম্ভ, কি লিখা এটা জানার যখন আগ্রহ হয়, তখন সুয়েজ শীপস হেন্ডলিং ক্রু দের থেকে জানতে চাইলাম, তারা জানালো এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পানি পথে সংযোগ সৃষ্টির জন্য যখন সুয়েজ খাল কাটা হয় তখন বিশ হাজারেরও বেশী মাটি কাটা বা মাটি খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মারা যায়, তাদের স্মরনে এ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করা হয় ।

আমি ভাবতে থাকি আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরনে সারা দেশে শহীদ মিনার নির্মানের পর থেকে একটি মহল এ শহীদ মিনার বেদাত, ফুল দেওয়া না জায়েজ বলে জিকির তুলছে, অদ্যাবদি সে জিকির অব্যাহত রয়েছে, আমার মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গনহত্যার স্হানে স্মৃতি স্তম্ভ, অগ্নি শিখা প্রজ্জলন, ভাস্কর্য নির্মানের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিচ্ছে। কোথাও কেথাও রাতের আধাঁরে শহীদ মিনার, ভাস্কর্য ভাংচুরও করছে। আমরা শুইন্যা মুসলমান, আর আরব্যরা দেখে মুসলমান, মিশরে অনেক নবীর জন্মও হয়েছে, আবার ইসলামী শিক্ষার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ কায়রোরবআল আযাহার বিশ্ব বিদ্যালয়। সে মিশরে নিহত শ্রমিকদের স্মরনে নির্মিত মিনার বেদাত ঘোষনা হলো না, অথচ আমাদের দেশে বেদাত বলে ফতোয়া দেওয়া চলছে। আসলে মজার বিষয় হচ্ছে চট্টগ্রাম শহরের যে বাসিন্দা কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথ দিঘী জীবনে কোন দিন দেখেনি তার কাছে চট্টগ্রামের লাল দিঘীটাই বাংলাদেশের বড় দিঘী ! আমাদের দেশের ফতোয়াবাজ রা তেমনই ।