সাগরপাড়ের আয়লান, কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানি বা সিরিয়ার সেই শিশুর কথা

চলছে মহামারী। তবে যুদ্ধের কাছে এটা কিছুই না। গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবছর লাখে লাখে মানুষ মেরেছে বিশ্বের সভ্য(!) দেশগুলো। বারবার আপত্তি সত্ত্বেও তারা থামায়নি তাদের যুদ্ধ, থামায়নি ধ্বংসলীলা। মানুষের কান্না যখন তাদের কানে পৌঁছায়নি তখন ব্যবস্থা নিয়েছে প্রকৃতি নিজেই। থামিয়ে দিয়েছে তাদের সকল হত্যাযজ্ঞ। থেমেছে তাদের বোমা নিক্ষেপ।

বিমানের বদলে আকাশে এখন পাখি ওড়ে। যে পাখি আগে উড়তে ভয় পেতো সে এখন কুজন করে বেড়ায় এ আকাশ থেকে ও আকাশে। ফ্যালকনের গর্জন নেই, আছে তাদের কোলাহল।

এই পাখিই একদিন দেখেছিলো ভূমধ্য সাগরের তীরে মরে উপুড় হয়ে পড়ে আছে আয়লান কুর্দি, সেই হয়তো বা দেখেছিলো সীমান্ত রক্ষার নামে মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখতে। নাফ নদীতে ডুবে মরে মানবতা। ঈশ্বরের কাছে নালিশের অভিযোগ করেছিলো বোমায় ক্ষত-বিক্ষত হওয়া তিন বছরের এক সিরিয়ান শিশু। সেই পাখি আর সেই শিশুদের অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ঈশ্বর। থামিয়ে দিয়েছে তোমাদের দাম্ভিকতা।
এসব বিষয় নিয়ে একটি কবিতা লিখেছেন অভ্র ভট্টাচার্য। নাম দিয়েছেন ‘আমি ঈশ্বরকে সব বলে দেবো’। চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।

‘আমি ঈশ্বরকে সব বলে দেবো’
মনে আছে?
সিরিয়ার সেই তিন বছরের ছেলেটির কথা
বোমায় ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে
মরে যাবার আগে যে বলেছিল-
‘আমি ঈশ্বরকে সব বলে দেব’
সে হয়তো ঈশ্বরকে সব বলে দিয়েছে।

হয়তো বলে দিয়েছে –
আমাদের পৈশাচিকতার কথা;
আমাদের লোভের কথা;
আমাদের অসভ্যতার কথা;
আমাদের নির্যাতনের কথা।
সূত্র: আমাদের সময়.কম