সরকারিতে সিট ‘খালি’, তাই অনুমতি পাচ্ছে না ১০ বেসরকারি মেডিকেল

নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে ১০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রস্তুত। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি যেসব হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা চলছে, সেগুলোতে রোগী ভর্তির মতো সিট এখনো ফাঁকা রয়েছে। এসব সিট ভর্তি হয়ে গেলে তখন তারা বিকল্প ভাববেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো তাদের প্রস্তুত থাকার বিষয়ে যোগাযোগ করেনি বলেও দাবি স্বাস্থ্য অধিদফতরের।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১১টি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাইরে গত ২৫ এপ্রিল হলি ফ্যামিলি হাসপাতালেও কোভিড-১৯ চিকিৎসাসেবা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ৯ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে তিনটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোনো হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা শুরুর অনুমতিই দেয়নি সরকার।

এদিকে, করোনা উপসর্গ নিয়ে তো বটেই, সাধারণ রোগে আক্রান্তরাও হাসপাতালে ভর্তিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ অনেকের। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ভর্তির জন্য গেলে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় করোনা চিকিৎসায় আরও বেশি বেশি হাসপাতাল যুক্ত করার পক্ষেই মত দিচ্ছিলেন অনেকে।

এমন অবস্থায় দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো কেন এগিয়ে আসছে না— জানতে চাই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন বিপিএমসিএ’র সভাপতি এম এ মুবিন খানের কাছে।

তিনি সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সরকারকে ১০টি হাসপাতাল প্রস্তুত থাকার কথা জানানো হয়েছে। এগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেওয়ার জন্যই। আজ বললে কাল থেকেই চিকিৎসা দেওয়া যাবে। কিন্তু সবশেষ খবর হচ্ছে, সরকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য নিয়েছে। এই মুহূর্তে আর দরকার নেই বলে জানিয়েছে।

এম এ মুবিন জানান, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, কুমিল্লায় একটি করে মোট ১০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তারা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু সরকার জানিয়েছে, তাদের আপাতত হাসপাতাল প্রয়োজন নেই। গাজীপুরের দিকে বেসরকারি হাসপাতাল প্রয়োজন হতে পারে, এর বাইরে আপাতত লাগবে না।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান খান সারাবাংলাকে বলেন, সবকিছুরই পরিকল্পনা থাকে। এ ক্ষেত্রে বেশকিছু হাসপাতালের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। তবে সব হাসপাতাল নেওয়ার মতো অবস্থা হয়নি। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের বিষয়ে এরই মধ্যে জানিয়েছি। আরও কিছু হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলা হয়ে আছে।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোভিড-১৯ হাসপাতালের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতাল থাকায় সেগুলো পূর্ণ না হলে অন্য হাসপাতালে যাওয়া ঠিক হবে না। সেই সব হাসপাতালে যদি পূর্ণ হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে অন্যান্য হাসপাতালে বিষয়ে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করা হবে।

প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো নিজ উদ্যোগে কোভিড-১৯ সেবা দিতে প্রস্তুত। সেক্ষেত্রে তাদের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না কেন— জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান খান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোকেই আমরা প্রায়োরিটি দিচ্ছি। বেসরকারিগুলো আমরা আমাদের হাতে রাখছি, যেন প্রয়োজন পড়লে সেগুলো থেকে সেবা দেওয়া যায়। তবে আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ করার মতো। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন না। তারা স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অধীন। যেকোনো সিদ্ধান্তের সময় তারাও থাকেন। ওই সময় তারাও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় হাসপাতাল বরাদ্দের বিষয়টি দেখভাল করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান।

জানতে চাইলে ডা. আমিনুল হাসান উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘এমন তথ্য (১০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোভিড-১৯ চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত) আপনাদের কে দিয়েছে?’

বিপিএমসিএ সভাপতি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন— এমন উত্তরে ডা. আমিনুল বলেন, ‘না, আমাদের সঙ্গে এমন কোনো কম্যুনিকেশন তারা করেননি।’

এর আগে, গত ৯ এপ্রিল বিপিএমসিএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। পরে ওই বৈঠক থেকেই তিনি বিপিএমসিএ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে যুক্ত হন কোভিড-১৯ নিয়ে অধিদফতর আয়োজিত নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে।

এসময় বিপিএমসিএ’র মহাসচিব এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলো সরকারের সহযোগী হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সংগঠনের সভাপতি মুবিন খান সেদিন বলেন, সরকারের পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলো প্রস্তুত।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর