এই দুর্গত পরিস্থিতির মুকাবিলায় ব্যর্থতার কোন দায়মুক্তি নাই: সা কা ম আনিছুর রহমান খান কামাল

ছেলেগুলো ভ্যানে করে কলা বিক্রয় করছিল রাজধানীর এলিফ্যান্ট সড়কের আবাসিক এলাকায়, সচরাচর এই সড়কে এভাবে কেউ কলা বিক্রয় করে না ।বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকেরা পারতপক্ষে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বাজারে খুব কমই যাচ্ছে , তাই তরি- তরকারী , ফল- মূল বিক্রেতা ভ্যানওয়ালাগণ এখন তাদের অবস্থান বদল করে আবাসিক এলাকায় চলে আসছে । ভ্যান ভর্তি কলা, তার সাথে রয়েছে কাঁচা আম লেবু ইত্যাদি । এসব পণ্য নিয়ে আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করলো দুই যুবক ৤ তাদের কাছে থেকে পাকা সবরী কলা কেনার এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করলাম তাদের বাড়ি কোথায় ৤ সরাসরি জবাব না দিয়ে তারা বললো তারা ঢাকা মহানগরেই চাকুরী করতো ‘এমব্রয়ডারী‘ কারখানায় : বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কারখানা দোকান সব বন্ধ । তারা বেকার , তাই জীবিকার প্রয়োজনে কিছু দিন হলো এভাবে ফল বিক্রয় করছে , তারা জামালপুর জেলার বাসিন্দা ৤ পাশেই আর একটি ভ্যানে অন্য দুই যুবক তরিতরকারি বিক্রয় করছিল । ঢাকা মহানগরের এলিফ্যান্ট সড়কে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওরা চাকুরী করে , ওরা মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা । বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ওরাও বেকার, তাই জীবিকার প্রয়োজনে তরিতরকারি বিক্রয় করছে।

এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় , সারা বাংলার কর্মজীবী মানুষের এটাই হাল ৤ রাজধানীর রাজপথে যে সকল পথ শিশুগণ ট্রাফিক সিগনালের অপেক্ষায় দাড়িয়ে যাওয়া গাড়িগুলোর যাত্রীদের কাছে ফুল বিক্রয় করে নিজেদের ক্ষুৎনিবারণ করতো , তারা আজ ক্ষুধার্থ ৤ মিল বন্ধ ঘোষণা করলে পোষাক শ্রমিকেরা কাজ হারিয়ে নিজ নিজ বাড়িঘরে চলে যায় ৤ মিল খুলবে মর্মে ঘোষণা শুনে তারা পায়ে হেঁটে দলে দলে ঢাকা চলে আসে , মিল গেটে গিয়ে দেখে কারখানা বন্ধ , হতোদ্যম হয়ে আবার ফিরে যায় বাড়িঘরে৤ কেউ পায়ে হেঁটে , কেউ মালবাহী ট্রাকে চড়ে ৤ উপায় না থাকলে মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে উপায় বের করে নেয় ৤ এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে , এখনও হচ্ছে ৤ রাজধানীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আরাম আয়েশে বসে যারা এই খোলা ও বন্ধের একবার ঘোষণা দেন , আবার তা প্রত্যাহার করেন ; তারা কখনো বুঝেন নাই কর্মজীবী এই নর নারীদের দুঃখ কষ্ট অভাব অনটনের কথা ৤ এখনও আবার দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখি শ্রমজীবী মানুষের ভিড় লেগে আছে৤ তারা ঢাকা পৌছালে আবার বলা হচ্ছে ফিরে যেতে ৤ কাজে যোগদানের জন‍্য।

ঢাকা অভিমুখি অনশনক্লিষ্ট পোষাক শ্রমিকদের উপর সকল প্রকার আইন কানুনের কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে ৤ তাঁদের কল্যাণ ভাতা তহবিলের কোন হদিস নাই বলে তারা অভিযোগ করছে ৤ কোথায়ও কোথায়ও তারা ক্ষুধা পেটে নিয়ে বিক্ষোভে নামছে ৤ তাদের অনুপস্থিত কালের বেতন দেবার ব্যাপারে কখনো বলা হলো পুরো মাসের পুরো বেতন দেওয়া হবে , পরে আবার বলা হলো যারা কাজে গর-হাজির ছিল তাদেরকে বেতনের ৬০% দেওয়া হবে৤ দ্বিতীয় বার তারা ঢাকা বা ঢাকার উপকন্ঠে আসলে বলা হলো ফিরে যাও , বাড়িতে বেতনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে , অপর দিকে কিছু কিছু কারখানা চালু করে দেওয়া হয়েছে ৤ শ্রমিকেরা পড়ে গেছে বিভ্রান্তিকর পরিবেশে ৤ এ এক অমানবিক জঘন্য আচরণ ৤ যদি দরকার না হবে তাহলে কেন তাদেরকে মোবাইল ফোনে ডাকা হয়েছে ! ঘরে খাবার নেই , তাই তারা খাবারের সন্ধানে পথে বের হয়েছে ৤ একই অবস্থা নাপিত , বিউটিশিয়ান , ক্ষেতমজুর , রেষ্টুনেন্টের বয় বাবুর্চি , বাসা বাড়িতে কাজ করা নর নারী , মুচি , রিকসাওয়ালা , ভ্যান ওয়ালা , ঘরামি , সুতার , রাজ মিস্ত্রি , যোগালদার , অটোরিকসা চালক , উবার চালক , মাইক্রোবাস চালক , দূর পাল্লা ও স্বল্প পাল্লার বাস এবং ট্রাক ও পিক আপের চালক ও হেলপার , তরি তরকারীর চাষী ও বিক্রেতা , কুলী , দীন মজুর , মাঝি , সারেং , সুকানি , স্বর্ণকার , মৌসুমী ফুলের চাষী , ফুটপাতের চায়ের দোকানদার, ফটো মেশিনওয়ালা , টাইপিষ্ট, দরজি , বাস চালক , কন্ডাকটর ,ফেরীওয়ালা , মহরার , স্টাম্প ভেন্ডর ইত্যাদি কর্মজীবী মানুষের৤ আইনজীবী , প্রাইভেট প্রাকটিশনার প্রভৃতি পেশাজীবী মানুষেরও বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য । উনাদের কেউই মাসোহারা পান না, কাজ করে যা আয় করেন তা দিয়েই তাদেরকে চলতে হয় । দৈনিক কাজ না করলে কোন আয় নাই, এদের আজ ত্রাহি অবস্থা ।

তাই তারা নেমে আসছে পথে কাজের সন্ধানে , রুটি রুজির খোঁজে কোন আইন দিয়ে এদের রুখা যাবে না ।সদাশয় সরকার হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে , দীনহীন এই মানুষের ঘরে ত্রাণ পৌঁছে নাই মর্মে খবর আসছে প্রতিদিন৤ স্থানীয় প্রভাবশালী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে এসব চাউল ভর্তি বস্তা , ভোজ্য তেল ভর্তি জেরিকেন এবং আদা , ছোলা সহ অন্যান্য খাদ্য শস্য । এরা সবাই শাসক দলের সাথে সম্পর্কযুক্ত , তছরূপকৃত এইসব খাদ্যশস্য ও খাদ্য সামগ্রী ‘শৃঙ্খলা বাহিনী‘ ও ‘ভ্রাম্যমান আদালত‘ দায়িত্বশীলতার সাথে উদ্ধার অন্তে জব্দ করছে , সেই সাথে গ্রেফতার করছে অভিযুক্তদের। কোথায়ও আবার এই সব অভিযুক্তদেরকে মুক্ত করার জন্য ফৌজদারী আদালতে সশরীরে হাজির হয়েছেন আইন কর্তা , একবারও তাঁর বিবেক বোধ তাঁকে বাধা দেয়নি,এই অনৈতিক আচরণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ । এসব কারণেই বন্ধ হয়নি চাল , ভোজ্য তেল , আদা , ছোলা ইত্যাদি খাদ্য সামগ্রী তছরুপাত ও মজুতদারী ।

মহামারীর এই চরম দুর্দিনে চিকিৎসা সেবাকে সম্বৃদ্ধ করতে এগিয়ে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ।বিগত মার্চ মাসের ২৮ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ করোনা ভাইরাস রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করে পরদিনই তারা তাদের সক্ষমতা ও আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে পত্র দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে , কিন্তু মন্ত্রণালয় নিরব উক্ত কমিটি‘ গত ২৯ শে মার্চ ২০২০ খ্রিঃ তারিখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানান যে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করার এবং ‘কিট‘ উদ্ভাবনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং এ জন্য নিজেদের দক্ষ লোকবলও রয়েছে তারা আরো জানান যে সরকার বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমর্থন এবং আর্থিক সহযোগিতা পেলে তারা তা করতে পারবেন।
সেই সাথে তারা এটাও জানান যে এই কমিটির উদ্যোগে ইতিমধ্যে টেলিমেডিসিন এবং মেন্টাল হেল্প সেবা চালু রেখেছেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন যে এখন যে কিট তৈরী হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয় , আগামীতে কিটের সংকট দেখা দিতে পারে , তা মুকাবিলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সমন্বয়ের দায়িত্ব সরকারের [ সূত্রঃ জনজীবন ডট কম, লন্ডন , এ প্রকাশিত আহমেদ ফজলুর রহমান মুরাদের প্রবন্ধ ]
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এ বিষয়ে নানা তরাই উতরাই পেরিয়ে তাদের উদ্ভাবিত ‘কিট‘ পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রদান করার অনুমতি পেয়েছে , এরই মধ্যে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে।অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ চালাচালি হয়েছে ‘ঘুষ‘, ‘দালাল‘ , ‘জনগণের স্বার্থ‘ , ‘ব্যবসায়িক স্বার্থ‘, ‘বিশেষ মহল ‘ এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে , জনগণ আস্থা স্থাপন করেছে ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কথায় এই আস্থা আরো দৃঢ় হলো যখন কিছু বে-সরকারী হাসপাতাল করেনা করোনা পরীক্ষার জন্য খরচের পরিমাণ টাকা ৩,৫০০/০০ মাত্র (টাকা তিন হাজার পাঁচ শত মাত্র ) নির্ধারণ করলো , পক্ষান্তরে ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী আগেই জানিয়ে ছিলেন যে ডঃ বিজন কুমার শীল কর্তৃক উদ্ভাপিত ‘কিট‘ দ্বারা এসব পরীক্ষা করাতে সর্ব সাকুল্যে খরচ হবে টাকা ২০০/০০ মাত্র ( টাকা দুই শত মাত্র ) থেকে টাকা ৩০০/০০ মাত্র ( টাকা তিন শত মাত্র )। বিদেশ থেকেও কিটের চাহিদার খবর আসতে শুরু করলো । গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই ‘কিট‘ বিষয়ে সরকারের উক্ত আচরণের কারণে জনগণ প্রবল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করলো , ঠিক সেই সময়ে সরকার উক্ত ‘কিট‘ পরীক্ষার জন্য গ্রহণ করতে সম্মতি জ্ঞাপন করলো ৤ এখনও সন্দেহ রয়েছে বিদেশ নির্ভর আমদানীর প্রবক্তাগণ তাদের বখরা পাবার সুযোগ ও পদ্ধতি এত সহজে হাত ছাড়া করবে কিনা ! তারা আবার কোন অভিসন্ধির আবর্ত সৃষ্টি করে সহজ লভ্য দেশীয় ঔষধ ও সরঞ্জাম পাবার পথে বাধার সৃষ্টি করবে কি না !
করোনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্য দিন দিন বাড়ছে , ‘লক ডাউন‘ ও ‘কোয়ারেন্টাইন‘ থাকায় সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ । মানুষ বেকার রুটিরুজির ব্যবস্থা নাই । হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা নাই ৤ ডাক্তরগণ প্রতিষেধক নিরাপত্তার অভাবে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি থাকছেন৤ নির্ভয়ে ত্রাণ সামগ্রী তছরুপ হচ্ছে৤ মারাত্মক সমন্বয়হীনতার করণে দুর্যোগ মহামারী মুকাবিলার সকল কার্যক্রম প্রতিনিয়ত ব্যহত হচ্ছে ৤ জরুরী ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী আমদানী করার নাম করে তা মুন্সিগঞ্জের কারখানার তৈরী করে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে , এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে প্যাকেট করতে ভুল হবার কারণে এরূপ হয়েছে । এই অপকর্মের সাথে উচ্চ পদস্থ আমলা এবং উচ্চ পদস্থ প্রভাবশালী ব্যক্তির পুত্র জড়িত মর্মে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ত্রাণের চাউল চাতালে নিয়ে গিয়ে বস্তা বদল করে চিহ্ণ পরিবর্তন করার সময় ধরা পড়েছে মর্মে তথ্য ছবিসহ গণ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে ।
ধান কাটার মৌসুম এসে গেলো কিন্তু কৃষকেরা শ্রমিকের অভাবে সময় মতো ধান কাটার কাজ শুরু করতে সমস্যায় পড়লো । ‘লক ডাউন‘ এর কারণে ক্ষেত মজুরেরা যাতায়াত করতে বাধাগ্রস্থ হওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয় । কতিপয় ব্যক্তি প্রচার মাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কাস্তে হাতে নিয়ে নেমে পড়লেন ধানের ক্ষেতে। ধান কাটারও একটা কৌশল আছে , পোষাকও আলাদা তা পরিধানের পদ্ধতিও আলাদা। কে শুনে কার কথা , নিজেদেরকে কৃষক দরদী বলে জাহির করতে এরা নেমে পড়লেন ধান ক্ষেতে , সেই সাথে ক্যামেরা হাতে কতিপয় প্রচার মাধ্যম কর্মী কাঁচা পাকা ধান কাটা হলো এবং প্রচার মাধ্যম কর্মীদের পদতলে পিষ্ট হলো বহু ধান গাছ। ঘন্টা খানেক সময় ধরে এভাবে ‘ফটোসেসন‘ করে তাঁরা যখন চলে গেলেন তখন কৃষক দেখলো তার ক্ষেতের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে, তাদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে ত্রাহি অবস্থা, এভাবে কি সংকট নিরসন হয় ?
সারা দেশ জোড়ে আওয়াজ উঠেছে জনগণ নির্দেশনা মানছে না, এখানে একটি বিষয় রয়েছে যারা এতোদিন ভিন্ন মতাবলম্বীদেরকে বিরূপ বাক্যে সমালোচনা করে উন্নয়নের কথা প্রচার করতো আর ভাবতো তারা জনপ্রিয় হয়ে গেছে , আজ তাদের বোঝার সময় এসেছে যে জনগণের মাঝে তাদের অবস্থান কি রূপ ? এই সংকটে জনগণ দেখলো তাদের চিকিৎসার কোন ঔষধ ও সরঞ্জাম কিছুই নাই ? বাংলাদেশ যে কানাডা বা সুইজারল্যান্ড নয় সেটা বুঝতে জনগণের সময় লাগেনি । ঈশপের গল্পের সেই মিথ্যাবাদী রাখাল ও ময়ূরের পুচ্ছধারী কাকের কথা জনগণ স্মরণ করছে। সে অভিজ্ঞতার সূত্রে জনগণ ঐ সব ব্যক্তিদের কথায় আস্থা রাখতে পারছে না।
এই মহামারী মুকাবিলার পথে দুর্নীতি , ত্রাণ সামগ্রী তছরূপ , টিসিবি খাদ্য তছরূপ , মজুতদারী , কোন কোন বিচার ক্ষেত্রে ( যেমন পিরোজপুর ) ও প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ , সমন্বয়হীনতা , অবিবেচনা প্রসূত আত্মপ্রচার সর্বোপরি দলীয় আহমিকা বিরাট বাধার সৃষ্টি করেছে । এর কুফল পোহাতে হচ্ছে জনগণকে এই মহামারীপ্রসূত সংকট থেকে উত্তরনে ব্যর্থব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেবার কোন সুযোগ নাই । চাউল ঠিক মতো ঝাড়া বাছা না করেই ভাত রান্না করলে আখরি থেকে যায় এবং তা দাঁত ও পেটের জন্য ক্ষতিকর পরিণতি নিয়ে আসে , তেমনি কতিপয় অযোগ্য লোককে দায়িত্ব দেওয়াতে সরকারে সদিচ্ছা প্রসূত সকল উদ্যোগ মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে । জাতির এই দুর্যোগে সরকারের সকল উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য দল মত পথ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস এর বিকল্প নাই । ডঃ কামাল হোসেন , মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব , মাহমুদুর রহমান মান্না , ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবর্গ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।তাদের সকলের সহযোগিতা গ্রহণ করে মহামারী ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারবে জনগণকে সাফল্যের দ্বারে নিয়ে যেতে, নচেৎ এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে দেশে মৃত্যু , সংঘাত , দুর্ভিক্ষ , বেকারত্ব দেশকে করুণ সংকটে ফেলবে বলে আশংকা যায় ।

লেখক : সাবেক জেলা ও দায়রা জজ । বর্তমানে অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ , ঢাকা এবং কার্যকরী সভাপতি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল , জে এস ডি , কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ।