নয়া অপশক্তিকে রুখতে হলে।:আহমেদ ফজলুররহমান মূরাদ

“মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখন জামায়াত- হেফাজতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত তখন নব্য রাজাকার জামায়াতের সংস্কারপন্থিরা বলছেন ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার’ বাস্তবায়নের কথা !! ১৬ কোটি আওয়ামী লীগের দেশে পাকি আদর্শের জামায়াতে নতুন রুপে রাজনীতি করতে দেয়ার ইতিহাসে ঠাঁই করে নিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত আওয়ামী লীগ !! প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না….।”
এ মন্তব্যটি করেছে আমারই এক ছোটভাই গণজাগরণ যোদ্ধা। এমনি করে আমার অনেক সহযোদ্ধা সাথী ছোটভাইয়েরাও জামাতের পদত্যাগী নেতাকর্মীদের গড়া নুতন রাজনৈতিকদলের আত্মপ্রকাশ নিয়ে একইভাবে মন্তব্য করেছে।এভাবে মন্তব্য করে কি বিপদ রোখা যাবে? আজকে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে সেটা পুরোন করতে কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেই। দেশে লাগাতর কর্তৃত্ববাদ,গনতন্ত্রহীনতা,আমলাতান্ত্রিক পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থা সাম্প্রতিক সময়ের জাতীয় দুর্যোগ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ব্যর্থতা অসহায় মানুষের দুর্দশা লাগবে সরকার প্রদত্ত সহায়তার ত্রাণের চাল চুরি ও লুটপাটের যে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে তার বিপরীত জনগনের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবেই।এটাকে এভাবে ফেসবুকে লিখে প্রতিরোধ করা যাবে না।
একটু বিষদভাবে আলোচনা করলে এই নুতন রাজনৈতিকদলের আত্মপ্রকাশ কোন ছোটখাটো ঘটনা নয়। এটা আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদ ও দেশীয় পুজিবাদ যখন দেউলিয়া হবার পথে।দেশের দুটি বুর্জোয়া রাজনৈতিকদল তাদের জনআস্থা হারিয়ে দিশেহারা তখন তাদেরই পরোক্ষ প্রশ্রয়ে আজকের এই নুতন শক্তির আত্মপ্রকাশ। একটু ভালো করে খেয়াল করে দেখবে এদের আজকের এই সময়ে ঘটাকরে প্রেসক্লাব আত্মপ্রকাশে শুধুমাত্র আমাদের মতো কিছু লোকছাড়া বৃহৎ দুটি বুর্জোয়া দলের কেউ এটা নিয়ে কোন মতামত প্রকাশ করেন নাই।এতেই পরিস্কার এর পিছনে বুর্জোয়া দুটি দলেরই প্রচ্ছন্ন ঈঙ্গিত রয়েছে।এমনকি দেশের বুর্জোয়া ধনিকশ্রেনী ও তাদের আন্তর্জাতিক মুরব্বীদেরও ইন্দন থাকা বিচিত্র নয়।।
করোনা পরবর্তী বিশ্বরাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতির দৃশ্যপট পরিস্কার।বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের অনুকুলের ধনিক শ্রেনীর রাষ্ট্রসমুহ করোনা আক্রান্তে আজ কোনঠাসা।তারা আজকে বিশ্বমন্দার মুখোমুখি। আমেরিকা ইউরোপের দেশে দেশে আসতে পারে পরিবর্তন ঢেউ। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।করোনাকে কেন্দ্র করে দেশের ধনিকশ্রেনীর নিষ্ঠুর আচরন,আমলাতান্ত্রিক লুটপাট, ও বুর্জোয়া রাজনৈতিকদলের ব্যর্থতা ও ত্রাণের চালচুরি ও লুটপাট তাদেরকে জনগনের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে।গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রশ্রয়ে ও বিরোধী বুর্জোয়া অপরদলের নীরবতায় বা মৌনসম্মতিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন নিয়ে আজকে ছিনিমিনি খেলছে।তারা আজকে শ্রমিকশ্রেনীকে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে তাদের মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছে।
করোনা পরবর্তী বাংলাদেশে একদিকে বুর্জোয়া রাজনৈতিকদল, মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ধনিকগোষ্টী ও পুঁজিবাদীশ্রেনী অপরদিকে নির্যাতিত শ্রমিকশ্রেনী ও বঞ্চিত জনগণ। এটা বুঝতে পেরেই আজকে দেশের বুর্জোয়া শ্রেনী,ও আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদ তাদের শেষরক্ষায় মোডারেট মৌলবাদের একটি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে চাইছে।আর সেকারণে তারা একজন সাবেক আমলার নেতৃত্বে একত্রিত হবার চেষ্টা করছে।তাদের এ পরিকল্পনা পুর্বপরিকল্পিত যা আমরা ইতিপূর্বে একজন আজহারীর মাহফিল ও তাতে অংশগ্রহণকারী প্রধান অতিথি নির্বাচনেই দেখেছি।।
অপরদিকে করোনায় আমাদের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। কয়েক কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে দারিদ্র্যসীমার নীচে অবস্থান করছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, চিকিৎসা, নগদ সহায়তা ও পুনর্বাসনে বিরাট অর্থের প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় উৎসের বাইরে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির বিরাট অংশ দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের করায়ত্বে।রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও ভয়ংকর লুন্ঠনে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক দুর্বৃত্ত চক্র গড়ে উঠেছে এবং দুর্নীতির কালোছায়া সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকি স্বরূপ । বিদ্যমান মানবিক বিপর্যয়েও ত্রাণ চুরি আত্মসাৎ এবং লুন্ঠনের যে ভয়াবহ দলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্র উম্মোচিত হয়েছে তা জাতির জন্য লজ্জাকর। ইতোপূর্বে যে সকল দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে প্রতিটিতেই অবৈধ সম্পদের ভয়াবহচিত্র, টাকার গোডাউন, স্বর্ণালংকারের স্তুপ আবিষ্কৃত হয়েছে।অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারীদের আইনের আওতায় আনার রাষ্ট্রীয় কর্তব্য সম্পন্ন করবে। এদের প্রতিহত করে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ঘুণে ধরা রাষ্ট্রব্যবস্থা বদল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দাবি আজ জনগনের দাবিতে পরিনত হয়েছে।আমাদের মনে রাখতে হবে যে কোনো মহামারীর পিছনেই যে বিষয়টি দ্রুত হেঁটে আসে তার নাম-দূর্ভিক্ষ। আমাদের সামর্থ সক্ষমতা কেমন,সে প্রশ্ন মোটেই করছি না! সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বহুমুখী অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ধাক্কা সামলানো খুব কঠিন হবে। এটাও আগামী রাজনীতি নির্ধারনে ভুমিকা রাখবে।
এখন এর সমাধান বা প্রতিরোধ কি শুধুমাত্র ফেসবুকে লিখেই করা যাবে? সেটা মোটেই সম্ভব নয়।এটা প্রতিহত করতে আমাদেরকেও সংগঠিত হতে হবে।আজকে যেসব নেতৃত্বে পিছনে আমরা রাজনীতি করছি তারা সবাই জনআস্থাহীন হয়ে পড়েছে।তাদের আপোষকামীতা,লেজুড়বৃত্তি ও সুবিধাবাদী মানসিকতা তাদেরকে জনবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।আজকে আগামীর অশনিসংকেত মোডারেট মৌলবাদকে রুখতে আপোষকামী সুবিধাবাদী নেতৃত্বকে বর্জন করতে হবে।নিজেদেরকে সংগঠিত করে নুতন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।আর যদি সেটা গড়ে তোলা যায় তবেই নির্যাতিত শ্রমিকশ্রেনী ও বঞ্চিত জনগণকে নিয়ে নুতন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিয়েই এঁদেরকে মোকাবিলা করা যাবে।।