ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।:আহমেদ ফজলুররহমান মূরাদ

করোনাভাইরাস নিয়ে আজকে সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগের অব্যবস্থাপনা,নকল মাস্ক,নিম্নমানের পিপিই,চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে দুর্নীতি। দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করায় চিকিৎসকদের প্রতি তোঘলকী আচরণ নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সময়োপযোগী প্রতিবাদী বক্তব্য যা আজকে জাতিকে বর্তমান সংকট থেকে একটি মুক্তির পথ দেখাতে পারে।

‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-মনে করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সরবারহকৃত এন-৯৫ মাস্কের নামে মানহীন নকল মাস্কের মান নিয়ে প্রশ্নতোলা মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ করোনাকালেও স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক জরুরি কেনাকাটায় ভয়ানক দূর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। , স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিজেদের দূর্নীতি ও লুটপাটের দায় আড়াল করতে এবং তাদের অপরাধের নিশানা ও চিন্থ মুছে ফেলতে চিকিৎসকদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে, চাপের মধ্যে রাখছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরবারহকৃত নকল ও মানহীন মাস্ক, পিপিই, গ্লাভসসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর কারণেই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথমসারির যোদ্ধা চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার মারাত্মক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। জাসদ মনে করে করোনাকালেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেনাকাটায় দূর্নীতি-লুটপাট চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ও পরিকল্পিতভাবে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার জঘন্য অপরাধের সমতুল্য।জাসদ মাস্কের মান নিয়ে প্রশ্নতোলা মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ঐ পরিচালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তিনিসহ সমগ্র চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেনাকাটার সাথে যুক্ত ভয়ংকর দূর্নীতিবাজ-লুটেরা কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছে।”

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল মনে করে করোনায় খাদ্য সংকটের বড় ঝুঁকি হতে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এক পঞ্চমাংশ মানুষের খাদ্য সংকট মোকাবেলার জন্য দ্রুত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার।।করোনার সংকটে সার্ভিস খাতসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের সবাই কর্মহীন হয়ে পড়ছে। রিক্সাওয়ালা, ফেরিওয়ালা, ভাসমান শ্রমিক ও উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী সহ কয়েক কোটি কর্মহীন মানুষ এখনোও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে। এই বিপুল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও নগদ সহায়তা এবং কাজে পুর্নবাসনের পরিকল্পনা গ্রহন জরুরী। এদের সামাজিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সমাজ রাষ্ট্র ভয়ংকর ঝুঁকিতে পড়বে।

‘এক মাসের চেয়ে বেশি সময় ধরে সারা দেশে প্রায় লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ করোনার কারণে যত না, তার চেয়ে খাদ্য সংকটের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার কারণেই প্রকৃত দুর্গতরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে না পারলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।’ , যে জেলায় দরিদ্র মানুষের হার যতো বেশী, সেই জেলায় সরকারের ত্রাণ বরাদ্দ ততো কম দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার সমস্যা দূর করা না হলে দেশে মানবিক বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

এই প্রেক্ষিতেঃ. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে হতদরিদ্র কর্মহীন অসহায় মানুষের তালিকা প্রনয়ণ।.এলাকা ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা। গার্মেন্টসের চাকুরী হারা শ্রমিক ও বিদেশ ফেরত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রনয়ন।. সকল সমাজশক্তি ও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্বে ত্রাণ বিতরন নিশ্চিত করা। খাদ্য সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিত “জাতীয় কমিটি ” গঠন করা।.ত্রাণের প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করা কর্মসংস্থান ও পুর্ণবাসনের জন্য উপজেলা ভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং মাইক্রো ক্রেডিট কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা। কয়েক কোটি মানুষের খাদ্য সংকট, নগদ সহায়তা এবং পুর্নবাসন করার পরিকল্পনা প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু না হলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে রাষ্ট্র।

চুপ থেকে লাভ নেই।স্বাস্থ্যবিভাগের মাস্ক,পিপিই কেলেঙ্কারি, অসহায় মানুষের, ত্রাণের মাল চালচুরি, তেলচুরি,প্রণোদনানামে গার্মেন্টস ও চিকিৎসায় লুটের প্রতিবাদ করুন।সারাদেশের সকল জাসদ নেতাকর্মী প্রতিবাদে সামিল হোন।বর্তমান প্রেক্ষাপটে চলমান চালচুরি তেলচুরি, স্বাস্থ্যবিভাগের নজীরবিহিন দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারীতা ও প্রণোদনার নামে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মৃত্যুর দরজায় ঠেলে দিয়ে ব্যবসায়ী ও একশ্রেণীর চিকিৎসকদের মহালুটপাটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন।।এদেরকে যেকোনভাবে প্রতিহত করতেই হবে।এটাই আজকে জাসদের জাসদীয় কর্তব্য। যারযার জায়গা থেকে এ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।কে জাসদ,কে জেএসডি আর কে বাংলাদেশ জাসদ এটা বিবেচনা করার সময় এটা নয়।এখন আমরা সবাই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল।এক আপোষহীন সংগ্রামীদের দল।। ওরা মানসিকভাবে দুর্বল কারন ওরা অপরাধী।ওদের আঘাত করুন ভেঙ্গে পড়বে।বাচতে হলে লড়াইটা এখনই শুরু করুন।ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে ওরা পরাজিত হবে।