যার যার দায়িত্ব তাকেই পালন করতে দিন।: আহমেদ ফজলুররহমান মূরাদ

সেবাপ্রদানকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু, সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত এখনও। তারা নিজেরা সংক্রমণের ভয়ে উৎকণ্ঠিত থাকায় সঠিক ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না এখানকার রোগীরা— এই অভিযোগ প্রতিদিনের। হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের দিন পার হয় চরম প্রতিকূলতার মধ্যে। প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না নার্স বা ডাক্তারদের। অভিজ্ঞ নার্সদের পরিবর্তে প্রেষণে যোগ দেওয়া নার্সদের পাঠানো হচ্ছে রোগীদের কাছে। আইসিইউ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকার পরও নতুন প্রেষণে আসা নার্সদের দিয়েই চালানো হচ্ছে আইসিইউর কাজ। যেসব কাজ ডাক্তারের করার কথা সেগুলোও ডাক্তাররা না করে প্রেষণে আসা নার্সদের করতে বাধ্য করছেন। যেমন: রোগীর প্রেসার মাপা, প্রেসার কম-বেশি হলে নার্সরা রিপোর্ট করার পর তাদেরকেই ওষুধের নাম বলে দিয়ে আসতে বলা হয়। কোনো রোগীর শ্বাসকষ্ট হলেও নার্সদেরকে বাধ্য করা হয় ওষুধ নিয়ে তার কাছে যেতে, যেখানে ডাক্তারের যাওয়ার প্রয়োজনটাই বেশি। এমনকি, কোনো নার্স না যেতে চাইলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। ভয় দেখানো হচ্ছে এভাবে যে, রোগী মারা গেলে দায় আপনাদের।এটাই আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি করুন চিত্র।। করোনা হাসপাতালগুলির চিকিৎসা সেবা কেমন চলছে সেটা প্রচারের দাবী জানাই। রোগীদের মৌলিক চাহিদা কি সঠিক ভাবে পূরন হচ্ছে? রোগীদের নিরাপদ আশ্রয় হাসপাতাল সেটা কি সত্যি নিরাপদ আছে? রোগীরা কি সত্যি সঠিক সেবা পাচ্ছে?
আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের চরম দায়িত্বহীনতা ও করোনাভাইরাস নিয়ে উদাসীনতার কারনে আমাদের আজকের এই খেসারত দিতে হচ্ছে।প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যবিভাগ করোনাকে পণ্য করে একটি ব্যবসায়ীক মানসিকতা নিয়েছিলেন। জনগনের স্বাস্থ্য সমস্যাকে পুজি করে মাস্ক,পিপিই,গ্লোবস,ভেন্টিলেটর নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার বাজার সৃষ্টি করে মুনাফা করতে চেযেছেন। একদিকে ডাঃ জাফরুল্লাহর গণস্বাস্থ্য করোনা সনাক্তকারী কিট উৎপাদন করতে চাইলে তার অনুমোদন নিয়ে নানা তালবাহানা করা হয়েছে পাশাপাশি চীন থেকে নানামুখী ভেজাল ও নকল সামগ্রী এনে বাজার সয়লাব করা হয়েছে।চিকিৎসকদের ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপুর্ণ মাস্ক এন-৯৫ গজারিয়াতে প্রস্তুত করে সরবরাহ করা হয়েছে যার কারনে আজকে দেশের চিকিৎসক দলের একটি অংশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জীবন বাচাতে যুদ্ধ করছেন। বাকিরা এসব সামগ্রীর উপরে আস্থাহীন হয়ে সাহস হারিয়ে ফেলেছেন।যার কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাই এখন গভীর সংকটে।। প্রশিক্ষিত হাজার হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বেকার বসা। অন্যদিকে অপেশাদার কর্মীদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।আমাদের ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। তিনি বলতেও পারেন না দেশে কতগুলো আইসিইউ আছে, কতগুলো হাসপাতাল আছে, যেখানে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা হওয়া সম্ভব। একের পর চিকিৎসক, নার্স করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি মৃত্যুবরণ করেছেন।’
এটা গেল চিকিৎসা সংকট এর পাশাপাশি দেশের বাজার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, কৃষি ব্যবস্থা সব জায়গাতে এক লেজে গবরে অবস্থা। আজকে বাজার সম্পুর্ন অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমুল্য হু হু করে বাড়ছে। একেতো সারাদেশ লকডাউন মানুষের হাতে কোন কাজ নেই হাতে কোন পয়সা নেই। এসময় এই নিত্যপন্যের দামবৃদ্ধি মরার উপরে খাড়ার ঘা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই বাড়তে শুরু করেছে।আজকে এগুলি যাদের দেখার দায়িত্ব সরকার তাদেরকে দিয়েছেন ত্রাণ বিতরণীর দায়িত্ব। রাষ্ট্রে যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে এজাতীয় ত্রাণ বিতরণ করা হয়ে থাকে।বর্তমান মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউনে আমাদের পাশের দেশ ভারতসহ অপরাপর সবদেশেই এজাতীয় ত্রাণ কার্যক্রম চালু হয়েছে।সেসব দেশে আমাদের দেশেরমতো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ত্রাণ বিতরণে নিয়োজিত করা হয় নি।সেসব দেশে প্রশাসনের তদারকিতে দেশে সেচ্ছাসেবী গড়ে তোলা হয়েছে।জনপ্রতিনিধিরাও আছে।আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে এসব ত্রাণ কোনভাবে আত্মসাৎ বা লুটপাট নাহতে পারে সেদিক গভীর দৃষ্টি রাখছে।আমাদের দেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ত্রাণ বিতরণ কাজে নিয়োগের সুযোগে ইতিমধ্যে একটি শ্রেণী সরকারি ত্রাণে একটি বড় অংশ লুটপাট করে নিয়েছে।যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসার পরে তারা সেই সব লুটের মাল,চাল,চিনি,তেল এর ক্ষুদ্র একটি অংশ উদ্ধার করে অনেক চাল চোর তেলচোরাদের গ্রেফতার করেছেন।
আজকে ফেসবুকে দেখছি ডিসি,ইউ এনও ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে রাতে সহায়তা প্রার্থীর বাড়িতে যাচ্ছেন। পুলিশের সদস্যরা ত্রাণের বস্তা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি ছুটে চলেছেন। এগুলি কি এনাদের দায়িত্ব তাহলে রাজনৈতিক কর্মী ছাত্রসংগঠন, সেচ্ছাসেবী রেডক্রিসেন্ট এর দায়িত্ব কি?আজকে দেখলাম ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে বা ছাত্রদল, যুবদল বা যুবজোট কর্মীরা কৃষকের ধান মাড়াই করে দিচ্ছে। এগুলি কি এদের কাজ? তাহলে আমাদের কৃষিবিভাগ কি করছে? আমাদের দেশে কতো হেক্টর জমির ধান কাটতে হবে তাতে কতো কৃষিশ্রমিক লাগবে বা ধান কাটার নুতন কৃষিযন্ত্র কি পরিমাণ আছে বা দরকার তার কি কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। কেউ কেউ বলছেন এসব ধান কাটা বা ধান মাড়াই স্রেফ ফটোসেশন কাজের কাজ কিছুই হয় নি। এখন শুরু হয়েছে ধান কেটে ছবি তুলে ফেইসবুকে দেওয়ার হিড়িক।আরে বেটা ধান কাটা কি এত সোজা?আজকে বরো মওসুমের এই ফসল আমাদের আগামী দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার রক্ষাকবচ এটাকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে।এখনই সরকারের ধানের অগ্রিম সরকারি ক্রয়মুল্য ঘোষণা করা উচিত এবং সেখানে উৎপাদন খরচে ধান কাটার কৃষি শ্রমিকের মুল্য সংযোজন করে দেওয়া উচিৎ যাতেকরে কৃষক ধানের মুল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় না ভোগে।
আজকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ বা ছাত্রদল,যুবদল, যুবজোটকে ধানকাটায় নয় তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে রেডক্রিসেন্ট এর অধিনে করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও অসহায় মানুষের সাহায্যদান করতে ত্রাণ বিতরণ কাজে লাগান।প্রশাসনকে শুধুমাত্র মনিটরিং ও বাজার নিয়মতন্ত্র করতে বলুন।আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে দিন।রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগান।বিরোধী রাজনৈতিকদলকেও কাজ করতে সুযোগ দিন। কোন জাতীয় দুর্যোগ রাজনৈতিক শক্তির সহায়তা ছাড়া শুধুমাত্র আমলাতন্ত্র দিয়ে মোকাবেলা করা যায় না।।যার যার উপরে অর্পিত দায়িত্ব তাদেরকে স্ব স্ব অবস্থান থেকেই পালন করতে দিন।।