তারাবি নামাজ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আলেমসমাজ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন!

তারাবির নামাজ, পবিত্র জুমা ও পাঁচ ওয়াক্তের জামাত আদায়ের জন্য ১৪ শর্তে সুস্থদের জন্য মসজিদ খোলা রাখার আহবান জানিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ দেশের শীর্ষ আলেমরা। অপরদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক সংবাদে বলা হয়, কারোনার কারণে স্টাফ ছাড়া অর্থাৎ খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমরা ছাড়া কেউ মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় করতে পারবেন না।

সুস্থ ব্যক্তিদের পবিত্র জুমা, পাঁচ ওয়াক্তের জামাত ও তারাবিহ আদায়ের জন্য নামাজের সময় সকল মসজিদ খোলা রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ দেশের শীর্ষ আলেমরা। এক্ষেত্রে ১৪টি শর্ত মানার জন্য মসজিদ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে আলেমরা এ আহবান জানিয়ে বলেন, পবিত্র রমজানুল মুবারক মাস রহমত ও নাজাতের মাস। করোনাসহ সমস্ত বালা-মুসিবত থেকে মুক্তির জন্য এ মাসের সদ্ব্যবহার একান্ত জরুরি।
তারা মসজিদ খোলা রাখার ক্ষেত্রে ১৪টি শর্ত দিয়ে বলেন-মসজিদে কার্পেট, জায় নামাজ বা গালিচা বিছানো যাবে না; জুমার বয়ান, খুতবা, জামাত ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা হবে এবং নামাযের আগে বা পরে মসজিদের ভেতরে বা সামনে জড়ো হওয়া যাবে না; পঞ্চাশোর্ধ বয়সের মুসল্লি এবং ১২/১৩ বছর পর্যন্ত বয়সের বালক মসজিদে আসবে না; যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে, যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন কিংবা যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন তারা মসজিদে আসবে না; যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত তারা মসজিদে আসবেন না; যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তারাও আসবেন না; পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক, স্যানেটাইজ ইত্যাদি দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে এবং ওযুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখবে।
আরো শর্ত হচ্ছে-মুসল্লিদের দু‘জনের মাঝে অন্তত দুই ফুট পরিমাণ জায়গা ফাঁক রেখে দাঁড়াতে হবে; বাসা থেকে অজু করে যেতে হবে এবং হাত ও পা ভালোভাবে ধুয়ে মুছে যেতে হবে; বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। পরস্পর হাত মিলানো ও আলিঙ্গন থেকে বিরত থাকতে হবে; সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন করা যাবে না; মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে; ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম সাহেবদের প্রশাসনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখার জন্য প্রতি মসজিদে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করতে হবে।

এ সব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কিংবা কোনো এলাকায় আক্রান্ত সংখ্যা অস্বাভাবিক হয়ে গেলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন- আল্লামা শাহ আহমদ শফি, চেয়ারম্যান, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, কো-চেয়ারম্যান, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুফতি মো: ওয়াক্কাস, মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব, মধুপর), মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা আব্দুল হালীম বুখারী প্রমুখ।

স্টাফ ছাড়া মসজিদে তারাবি নামাজ নয় : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কারোনার কারণে স্টাফ ছাড়া অর্থাৎ খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমরা ছাড়া কেউ মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় করতে পারবেন না। ঘরেই নামাজ আদায় করতে হবে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব নূরুল ইসলাম বলেন, স্টাফ ছাড়া মসজিদে কাউকে অ্যালাউ করা হয়নি। তবে কেউ যদি ঢুকে পড়েন নামাজের জন্য, তাকে তো আর বের করে দেয়া যাবে না।

করোনায় সংক্রমিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারের যে নির্দেশনা আছে-ঘরেই সব নামাজ আদায় করার, সেটাই মানতে হবে। এটা কাউকে মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য নয়, বরং নিরাপদে থাকার জন্যই নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে।

গত ৬ এপ্রিল এ নির্দেশনাটি জারি ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে পাঁচটি দফা দেয়া হয়। এগুলো হলো- করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ব্যতীত অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।

মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে সম্মানিত খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে অনধিক পাঁচজন ও জুমার নামাজে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। জনস্বার্থে বাইরের মুসল্লি মসজিদের ভেতরে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও ধর্মীয় উপসনালয়ের পরিবর্তে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করতে হবে।

সারাদেশের কোথাও ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগি তালিম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবেন।

অন্য ধর্মাবলম্বীরাও এসময় কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে সমবেত হতে পারবেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব জানান, আপাতত এই নির্দেশনাটিই বলবৎ আছে। তারাবি নামাজের জন্য একই নির্দেশনা মানতে হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন আসছে না।

সূত্র জানায়, রমজান নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে দু’এক দিনের মধ্যে। এক্ষেত্রে সে বৈঠকে তারাবি নামাজ নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে সেটা কী সিদ্ধান্ত হতে পারে, তার ধারণা পাওয়া যায়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম জানান, আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আছে। সেখানে হয়তো বিস্তারিত আলোচনা হবে।
২৫ এপ্রিল দিনগত রাত থেকে সেহরির সময়সূচি দিয়ে ইতোমধ্যে অনেক ক্যালেন্ডার প্রণীত হয়েছে। তবে কবে থেকে রমজান মাস পালন করা হবে, তা চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে নির্ধারণ করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

বিডি প্রতিদিন