২২ বস্তা বেগুন ৫০০ টাকায়, প্রতি পিস লাউ তিন টাকায় বিক্রি

আটোয়ারীর সবজিচাষিরা বিপাকে, প্রণোদনা দাবি
পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তারা মৌসুম ভেদে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ, আলু, বেগুন, কপি, লাউ, করলা, বেগুন, শশা, মরিচ, টমেটোসহ রকমারী শাক-সবজি উত্পাদন করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে করোনা সংক্রমণ রোধে জেলায় জেলায় লকডাউন ঘোষিত হওয়ায় উত্পাদিত সবজি ও ফসল কোথাও সরবরাহ করতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় স্থানীয় বাজারে কিছু কিছু বাজারজাতের ব্যবস্থা থাকলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ফলে তাদের উত্পাদিত সবজি ও ফসল পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে মহাজন ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের। এ অবস্থায় স্বল্প সুদে ঋণসহ পৃথক প্রণোদনার দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

রবিবার উপজেলার কলেজ মাঠে অস্থায়ী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত লাউ, বেগুন, করলাসহ বিভিন্ন সবজি নামমাত্র মূল্যে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করছেন। বটতলী গ্রামের জনৈক বেগুনচাষি জহিরুল ইসলাম তার খেতের ২২ বস্তা বেগুন ৫০০ টাকায়, বামনকুমার গ্রামের জনৈক মামুন লাউ প্রতি পিস ৩ টাকা দরে বিক্রি করেন। তারা জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে বেগুন কেজি প্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা আর লাউ ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারতেন। করোনা পরিস্থিতিতে যে দামে তারা সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন এতে তাদের শ্রমিকের খরচও পাচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত, তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক জন করোনায় আক্রান্তের খবর পাওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন গত শুক্রবার বিকেলে জরুরি সভা ডেকে জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন। এ অবস্থায় শাক-সবজি উত্পাদনকারী কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, কোভিড-১৯ এর কারণে বুঝি তাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

বর্গাচাষি অশ্বিনী কুমার কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি প্রায় ১০ একর জমি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে আরো প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে করলা, লাউ, শশা, টমেটো, মরিচ ও পিয়াজের আবাদ করেছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে নামমাত্র মূল্যে মাত্র দেড় লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পেরেছেন। একই বেদনার কথা জানান মির্জাপুর পানবারা এলাকার কৃষক তোজাম্মেল হক। তিনি প্রায় ১৫ একর জমিতে সবজি চাষে খরচ করেছেন প্রায় ২৫ লাখ টাকা, কিন্তু এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পেয়েছেন মাত্র ৫০ হাজার টাকা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃৃষি অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। ফলনও বাম্পার হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কৃষক ভাইয়েরা উত্পাদিত সবজি ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারছেন না। তবে তাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।