সংকটে লাখ লাখ পরিবহন শ্রমিক, খোরাকি দিচ্ছে শুধু এনা

হাঁকডাক, ব্যস্ততা আর মানুষের ওঠা-নামায় ব্যস্ত থাকতো যে সায়েদাবাদ টার্মিনাল তা এখন নীরবতায় ঢাকা। বাসগুলো টার্মিনাল বন্দি। সড়কপথ ফাঁকা। বহু চালক-হেলপার বাড়িতে আটকা। আর ঢাকার মহাখালী-গাবতলী ফুলবাড়িয়াসহ চার টার্মিনালের হাজার হাজার শ্রমিক অভুক্ত রয়েছেন। এরমধ্যে কেবল মহাখালী বাস টার্মিনালে কিছু শ্রমিক খোরাকি পাচ্ছেন, বাকিরা অনাহারীই!
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে পরিবহন খাতের শ্রমিক ৭০ লাখের বেশি। এর মধ্যে কেবল বাস পরিবহন শ্রমিক কমপক্ষে ১০ লাখ। তবে কোনো কোনো সংগঠনের হিসেবে সব ধরণের পরিবহন মিলিয়ে শ্রমিক সংখ্যা দেশে ৭৭ লাখ। করোনার কারণে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের অধিকাংশ এখন পরিবার নিয়ে সংকটে।

পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রমিক কল্যাণে বছরের ৩৬৫দিনই চাঁদা উঠে সারাদেশে। আর ঢাকার ভেতরে চার টার্মিনাল থেকে মাসে চাঁদা উঠে ১২ কোটি টাকা। তারপরও দুর্দিনে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ান না নেতারা।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান বলেন, ‘সারাদেশে তার শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তারা যাতে পরিবহন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়।’ তবে কোথায় বা কোন কোন শ্রমিক কতো টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে পারেননি শাহজাহান খান।

মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, এখানে শ্রমিক নেতা হিরু ও সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ তাদের নিজস্ব পরিবহন কোম্পানির শ্রমিকদের প্রতিদিন খোরাকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এনা ট্রান্সপোটের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ আতিক সারাবাংলাকে জানান, প্রতিদিন ড্রাইভার ৩০০, সুপারভাইজার ২০০ হেলপারকে ৪০০ টাকা করে তারা খোরাকি হিসেবে দিয়ে যাচ্ছেন। স্বাভাবিক সময়ে গাড়ি বন্ধ থাকলে খাবার-দাবারের জন্য পরিবহন শ্রমিকদের দেওয়া টাকাকে তারা খোরাকি হিসেবে ধরেন। সে হিসেবে এনা ট্রান্সপোর্ট সারাদেশে তাদের পরিবহন শ্রমিকদের খোরাকি দিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া যেসব ড্রাইভার বাড়িতে চলে গেছে তাদেরও খোরাকি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে এখন পযন্ত ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা শুধু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ মাস শেষে এ সহযোগিতা ৫০ লাখে দাঁড়াবে। পরিবহন মালিক এনায়েতুল্লাহর নিজ উদ্যোগে এসব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ আতিক।

সারাবাংলা/এসএ/এমও