মোসাদের ‘চুরি’ করোনার থাবা থেকে বাঁচাচ্ছে ইসরায়েলকে

সারা বিশ্ব যখন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে তাণ্ডবে কাঁপছে, তখন ইসরায়েল অনেকটাই স্বস্তিতে। অনেকেরই ধারণা, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নানা পদক্ষেপের কারণেই এমন অবস্থানে রয়েছে তারা।

মার্চের শেষের দিকে, করোনাভীতি যখন তুঙ্গে, করোনা মোকাবেলায় মোসাদের তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।
মোসাদের প্রধান ইয়োসি কোহেন একটি বিশেষ কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছিলেন যা, ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে।

জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, মোসাদের প্রচেষ্টায় মার্চের শেষদিকে ইসরায়েল ১০ মিলিয়ন মাস্ক, কয়েক ডজন ভেন্টিলেটর, কয়েক হাজার টেস্ট কিট ও বিপুল পরিমাণ সার্জিক্যাল মাস্ক মজুদে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় কিছু দেশ যেগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই সেসব দেশ থেকেই মোসাদ এই প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করেছে।

এনওয়াই টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা রয়েছে এমন রাষ্ট্রগুলো থেকে মোসাদ সহজেই কাজটা করতে পেরেছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েল্ভের অনুসন্ধানি সংবাদ অনুষ্ঠান ‘উভদা’র কাছে এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন ‘হেদ’ নামে পরিচিত মোসাদের কারিগরি বিভাগের প্রধান।

তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত কিছু কিছু দেশ এসব সরঞ্জাম সরবরাহের ক্রয়াদেশ দিয়েছিল এবং তা ছিনিয়ে ইসরায়েলে নিয়ে আসার গোপন অভিযান পরিচালনা করছে মোসাদ। হেদের ভাষায় এমন অভিযান তিনি জীবনে এর আগে কোনোদিন দেখেননি।

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি এটাকে ছোট একটু চুরি বলে অবিহিত করে বলেছেন, ‘ইসরায়েলিরা ভাইরাসের মোকাবেলায় কোনও অভাবের মুখোমুখি হবে না। সাধারণভাবে বিশ্বে বড় অভাব হবে।’ সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড