মার্চের বেতন এখনও পাননি ১০৮৮ পোশাক কারখানার শ্রমিক

দেশে সর্বমোট ২ হাজার ২৭৪ তৈরি পোশাক শিল্প-কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮৬টির মালিকেরা তাদের সাড়ে ১৯ লাখ শ্রমিকের মার্চ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন। তবে এখনও ১ হাজার ৮৮ কারখানার শ্রমিকেরা বেতন-ভাতা পাননি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বিজিএমইএর তথ্যমতে, ২ হাজার ২৭৪ কারখানার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে ৩৭২টি। এর মধ্যে মার্চের বেতন দিয়েছে ২০১টি প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরের ৮১৮টি কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ৪৩২টি, সাভার আশুলিয়ায় ৪৯১টির মধ্যে বেতন দিয়েছে ২৪৩টি, নারায়ণগঞ্জে ২৬৯টি পোশাক কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ১১৮টি, চিটাগাংয়ে ৩২৪টি কারখানার মধ্যে ১৫৬টি এবং প্রত্যন্ত এলাকার ৪২টি গার্মেন্টসের মধ্যে ৩৬টি গার্মেন্টসের মালিকরা মোট ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করেছেন।

তবে বুধবার পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮টি কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেননি মালিকরা।

করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালীন সময়েও মার্চ মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, ভাষানটেক ও উত্তরার দক্ষিণখানে ১০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের পোশাক শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

বিজিএমইএ-এর সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘নির্ধারিত সময় ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হবে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের সমস্যা আছে, তা সমাধানে বিজিএমইএ কাজ করছে।’

এর আগে, ১৩ এপ্রিল এক বিবৃতিতে চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শ্রমিকদের মার্চের বেতন ১৬ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

বিবৃতিতে সব শিল্প কলকারখানার শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন ১৬ এপ্রিলের মধ্যেই পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ নির্দেশ না মানলে বা উক্ত তারিখের মধ্যে বেতন প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ প্রতিমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে সরকারি নির্দেশনা মেনে শ্রমিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান।