পাওনার দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ

গাজীপুর ও সাভারে পাওনা টাকা আদায় এবং ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে লকডাউনের মধ্যেও গার্মেন্ট শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। টায়ারে আগুন ধরিয়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধসহ সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টের সামনে বিক্ষোভ করেন। সড়ক অবরোধের কারণে জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়ে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেতন-ভাতার দাবিতে কয়েকটি গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিল্প পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন শ্রমিকরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাজীপুর : গতকাল শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গাজীপুরের দক্ষিণ সালনা এলাকায় অক্সফোর্ড শার্টস লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকরা জানান, ওই কারখানায় ছয় মাসের কম কাজ করছেন এমন শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করে ছাঁটাই শুরু করে মালিকপক্ষ। গতকাল কারখানায় বেতন পরিশোধের তারিখ ছিল। সকালে শ্রমিকরা বেতন নিতে গেলে ছয় মাসের কম কাজ করছেন এমন শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে তাদের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে দুপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কাজে পুনর্বহাল এবং ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন। শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানা ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। তারা টায়ারে আগুন ধরিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরি কাজে নিয়োজিত অনেক গাড়ি আটকা পড়ে। মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে দুপুরে ওই কারখানার কিছু শ্রমিক আন্দোলনে নামেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে মালিকপক্ষ কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করবে না মর্মে সিদ্ধান্ত জানালে শ্রমিকরা চলে যান।
সাভার : গতকাল বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সাভারে তিনটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। রাকেফ অ্যাপারেলস ওয়াশিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, দি ওয়ার্ল্ড ওয়ান ডেনিম লিমিটেড ও গেন্ডারিয়াস ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যে দুটি কারখানার শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিল্প পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। রাকেফ অ্যাপারেলস ওয়াশিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একাধিক শ্রমিক জানান, দুই মাস ধরে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে টালবাহানা করে আসছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে ১৪ এপ্রিল শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা বলে কারখানাটি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে বকেয়া বেতন পরিশোধে কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পেয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, এই কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। অনেক শ্রমিক আছেন, যারা দুই মাসের বেতনও পাননি। তাদের ঘরে কোনো খাবার নেই। আবার অধিকাংশ শ্রমিক এ এলাকার ভোটার না হওয়ায় তাদের ভাগ্যে জোটেনি ত্রাণের কোনো খাদ্যসামগ্রী। শ্রমিকদের বেতন না দিলে করোনা তো দূরের কথা, না খেয়েই মারা যেতে হবে অনেক শ্রমিককে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার দি ওয়ার্ল্ড ওয়ান ডেনিম লিমিটেডে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শ্রমিকদের বেতন বাকি পড়েছে। বকেয়া বেতন-ভাতা না পেয়ে কারখানাটির দেড় শতাধিক শ্রমিক মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া মধ্য গাজীরচট এলাকায় অবস্থিত গেন্ডারিয়াস ফ্যাশন লিমিটেডের শতাধিক শ্রমিক বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ খবর পেয়ে দুপুরের পর ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ১৮ এপ্রিলের মধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তা না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। শ্রমিক নেতা মিন্টু বলেন, ‘এই দুই কারখানার শ্রমিকরা আজ (গতকাল) শিল্প পুলিশের কাছে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।’ আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর এসপি সানা সামিনুর রহমান বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।